১৪ মে ২০১৮
বিশেষ প্রতিবেদক : চট্রগ্রাম দ্বিতীয় আদালতে ব্রাক্ষণবাড়িয়াসহ সিলেট বিভাগের ৭শ ৩৮টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারী থেকে এ আদালতে বিচারকের পদ শূন্য থাকায় গত চার মাসে একটি মামলাও নিষ্পত্তি হয়নি। গত বছর জানুয়ারী থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ১২৯ টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে বর্তমানে ৭শ ৩৮ মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এ আদালতে বিচারপতি বিচার পেতে আসা বিভিন্নভাবে হয়রানী হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাই সিলেটে শ্রম আদালত স্থানান্তর দীর্ঘদিনের দাবী সিলেটবাসীর।
সূত্র জানায় চাকুরীতে পুনর্বহাল, পাওনা আদায়, মালিক শ্রমিক চুক্তর লঙ্গন, বেতন-ভাতার দাবী ও ক্ষতিপূরণ আদায় এবং ট্রেড ইউনিয়ন সংক্রান্ত মামলা শ্রম আদালতে করা হয়। জেলা ও দায়রা জজ পদ মর্যাদার একজন বিচারক শ্রম আদালতের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। শ্রমিক-মালিক প্রতিনিধির সমন্বয়ে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। প্রতি দুই বছর পর শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্তণালয় এবং আইন মন্ত্রণালয় ছয়জন করে মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হয়। এর চেয়ারম্যান থাকেন জেলা ও দায়রা জজ পদ পর্যাদার একজন বিচারক।
এছাড়া তিন বছর ধরে এ আদালতে রেজিষ্ট্রারের পদ শূন্য রয়েছে। চট্রগ্রাম নগরের পাঁচ লাইশ এলাকায় একটি সরকারী বাড়ীতে দুইটি শ্রম আদালতের কার্যক্রম চলে। প্রথম আদালতে গত বছরের জানুয়ারী থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ২শ ৩৯টি এবং দ্বিতীয় আদালতে একই সময়ে নিষ্পত্তি হয় ১শ ২৯টি মামলা।
চট্টগ্রাম দ্বিতীয় আদালতের বিচারক (চেয়ারম্যান) মফিজুল ইসলাম ২০১৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর অবসরে যান। সেদিন থেকে বিচারক শূন্য রয়েছে আদলতটি। যে কারণে প্রথম শ্রম আদালতের বিচারক (চেয়ারম্যান) মুক্তার আহমদ এক সঙ্গে দুটি আদালতের দায়িত্ব পালন করতেন। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে তিনিও অবসরে যান। প্রতি দুইবছর পর শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আইন মন্ত্রণালয় ছয় জন করে মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়।
আইনজীবীরা জানান, শ্রম আদালতে মামলা করার ৬০দিনের মধ্যে তা নিষ্পত্তির বিধান রয়েছে। তবে এই সময়ের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি না হলে কী হবে। সে বিষয়ে আইনে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা নেই। শ্রম আদালতে নিষ্পত্তি হওয়া মামলায় ঢাকায় শ্রম আপীল ট্রাইবুনালে আপীল করা যায়।
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলা ছোটলেখা বাগানের বিরুদ্ধে ২০১১ সালের ১৮ মে চাকুরীতে পুনর্বহাল চেয়ে চট্টগ্রাম দ্বিতীয় শ্রম আদালতে মামলা বরেন বাগানটির শ্রমিক খলিল মিয়া। এর পর ছয় বছর ১১ মাস কেটে গেছে, কিন্তু মামলার কোন সুরাহা হয়নি।
বাদী খলিল মিয়া জানান, এ পর্যন্ত ৫৭ বার মামলার তারিখ পড়েছে। বিচারক না থাকা সহ বিভিন্ন কারণে শুনানী হয়নি। ছোটলেখা চা বাগানের পক্ষে মামলা পরিচালনা করছেন আইনজীবী আশীষ কুমার দত্ত।
তিনি জানান, শ্রম আদালত বছরের বেশীরভাগ সময় বিচারক শূন্য থাকে। এ কারণে মামলা নিষ্পত্তিতে অনেক সময় লাগছে।
সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট এ কে এম শামিউল আলম জানান, সিলেটে শ্রম আদালত স্থানান্তের দীর্ঘদিনের দাবী সিলেটবাসীর। কারণ সিলেটে অনেক চা বাগান, হোটেল শ্রমিক ও শিল্প প্রতিষ্ঠানে অনেক শ্রমিক কর্মরত রয়েছে। তারা বিচার পেতে চট্টগ্রামে যেতে হয়। এতে যাতায়াতসহ বিচার পেতে নানাভাবে ভোগান্তি পেতে হয়। এজন্য সিলেবাসী দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম থেকে শ্রম আদালত সিলেটে স্থানান্তরে দাবী জানিয়েছে আসছে। সিলেটে এ আদালত চট্টগ্রাম থেকে স্থানান্তর করা হলে শ্রমিকদের ভোগান্তি অনেকটা হ্রাস পাবে।
(আজকের সিলেট/১৪ মে/ডি/কেআর/ঘ.)