২৮ এপ্রিল ২০১৮
জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে প্রথমবারের মতো ‘বালিয়া ওয়ান’ জাতের বোরো ধানের বাম্পার ফলনে হাসছেন কৃষক ফররুখ আহমদ। তিনি মূলত শিক্ষকতা পেশায় জড়িত থাকলেও বাপ-দাদার বুনিয়াদি পেশা কৃষির সঙ্গে নানাভাবে সম্পৃক্ত। প্রতি বছর বোরো মৌসুমে নিজের জমি চাষ করেন।
নলুয়ার হাওরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষক ফররুখ আহমদ কৃষি শ্রমিকদের দিয়ে নিজের জমির ধান কাটার কাজ করছেন। ফররুখ আহমদ জগন্নাথপুর উপজেলার কেশবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তিনি নলুয়া হাওর বেষ্টিত চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়নের বেরী গ্রামের বাসিন্দা।
কাজের ফাঁকে ফররুখ আহমদ জানান, তিনি এবার ২৮ কেদার জমিতে (৩০ শতকে এক কেদার) বোরো আবাদ করেছেন। গত দুই বছর বোরো আবাদ করে অকালবন্যার কারণে এক ছটাক ধান তুলতে পারেননি। লোকসানে পড়তে হয় অন্য কৃষকদের মতো তাকেও। কেউ কেউ তাকে কৃষিকাজ বাদ দেওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু বাপদাদার বুনিয়াদি পেশা কৃষির প্রতি ভালোবাসা তাকে কৃষির নেশায় রাখে। তাই এবার ২৮ কেদার জমি আবাদ করেছেন।
তিনি বলেন- প্রতি বছর তিনি একটি নতুন জাতের ধান আবাদের চেষ্টা করেন। এবারও তিনি নতুন জাতের ‘বালিয়া ওয়ান’ চাষাবাদ করেছেন। ৫ কেদার জমিতে উচ্চ ফলনশীল ওই জাতের ধান চাষাবাদ করেন। নলুয়ার হাওরে তিনিই প্রথম এ জাতের ধান আবাদ করেছেন। কেদার প্রতি তিনি ধান পেয়েছেন ৩০ মণ। প্রতি কেদারে ব্যয় হয়েছে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা।
এছাড়াও হাওরে অন্য কৃষকদের মতো ব্রি-২৮ ও ব্রি-২৯ জাতের ধান আবাদ করেন। তার মতে ব্রি-২৮ জাতের মতো আগাম ও উচ্চফলনশীল ধান বালিয়া ওয়ান। এ জাতের ধান নলুয়ার হাওরে চাষাবাদ করলে কৃষকরা উপকৃত হবেন।
চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরশ মিয়া বলেন, শিক্ষক ফররুখ আহমদ এর মতো কৃষকরাই হাওরের প্রাণ। প্রতিবছর হাওরপাড়ের খেটে খাওয়া মানুষের পাশে কৃষক হিসেবে হাজির হয়ে হাওরের চাষাবাদকে উৎসাহিত করছেন। তিনি বলেন, শিক্ষক ফররুখ আহমদ একজন আর্দশ কৃষক হিসেবে সুপরিচিতি লাভ করেছেন।
জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংরক্ষন কর্মকর্তা তপন চন্দ্র শীল বলেন, ফররুল আহমদ শুধু একজন শিক্ষকই নন আর্দশ কৃষকও। প্রতিবছর তিনি উচ্চ ফলনশীলসহ বিভিন্ন জাতের ধান আবাদ করে থাকেন। এবার তিনি এ উপজেলায় উচ্চফলনশীলও আগাম জাতের ধান বালিয়া ওয়ান রোপন করে সফল হয়েছেন।
জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শওকত ওসমান মজুমদার বলেন, প্রাকৃতিক বিপর্যয়সহ নানা কারণে জগন্নাথপুর উপজেলার হাওরগুলোতে আগাম ও উচ্চ ফলনশীল হিসেবে ব্রি-২৮ ও ব্রি-২৯ জাতের ধান বেশি আবাদ হয়। অন্য জাতের ধান বিলম্বিত হওয়ায় কৃষকরা ঝুঁকি নিতে চান না। ফররুখ আহমদ নতুন জাতের ধান আবাদ করে অভিজ্ঞতা অর্জন করছেন। যা কৃষকদের জন্য ভাল লক্ষণ।
(আজকের সিলেট/২৮ এপ্রিল/ডি/এমকে/ঘ.)