২৭ এপ্রিল ২০১৮


সমস্যার বেড়াজালে বন্ধি ‘মানিকপীর (র.) গোরস্থান’

শেয়ার করুন

অতিথি প্রতিবেদক : রাতে জ্বলে না বাতি, নেই নৈশপ্রহরী। হেরোইনসেবী চোরচক্র রাতের আধাঁরে নিয়ে যায় লাইট। কেটে ফেলে বৈদ্যুতিক লাইন। খুঁটিগুলো নড়বড়ে, কিছু বাতি নিভু নিভু করে। অন্ধকারে মুর্দা দাফন করতে গিয়ে পুরনো কবরে ঢুকে পড়তে হয় লাশবহনকারী মুসল্লিদের। কবর খনন, দাফন-কাফন সবকিছুই করতে হয় চার্জ লাইট, টর্চ লাইট জ্বালিয়ে। অসুবিধার সীমা নেই, অফিসে এর হিসেব নেই। যত ভোগান্তি রাতের বেলা লাশ দাফনের জন্য আসা মুসল্লিদের।

সিলেট সিটি করপোরেশন পরিচালিত সিলেট নগরীর সবচেয়ে পুরনো ঐতিহ্যবাহী হযরত মানকিপীর রহ.’র গোরস্তানের এই বেহাল দশা। শুধু নগরবাসীই নয়, আধ্যাত্বিক রাজধানী সিলেটবাসীর আত্মার টান রয়েছে এই গোরস্তানের প্রতি। প্রতিদিন অসংখ্য মুসল্লিদের সমাগম ঘটে এখানে। কেউ আসছেন মা-বাবা বা আত্মীয়-স্বজনদের কবর জিয়ারতে কেউবা আসছেন প্রিয়জনের মরদেহ দাফন করতে।

অফিস সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন গড়ে ৫/৭জন মানুষের কবরখনন বা দাফন করা হয়। এছাড়া প্রচুর সংখ্যক মুসল্লিরা আসেন জিয়ারতের উদ্দেশ্যে। শুক্রবার-শবে বরাত, শবে কদর আর দুই ঈদে মুসল্লিদের ঢল নামে এই গোরস্তানে। বছরে একবার ঘষা-মাজা আর রং করা হলেও সারাবছর সিলেট সিটি করপোরেশন’র নজর পড়েনা এই গোরস্তানের দিকে ফলে ছোট ছোট সমস্যাগুলো সপ্তাহ-মাস আর বছরান্তে মহামারীর আকার ধারণ করে।

সূত্র আরো জানায়, সরকারি তহবিলের অনেক টাকা দেশের বিভিন্ন খাতে ব্যয় হচ্ছে। কোনোটি জনগণের জন্য ফলপ্রসু হচ্ছে আবার কোনোটি বৃথা যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ যদি মানিকপীর গোরস্তানে নৈশপ্রহরী নিয়োগ দিতেন তাহলে সাধারণ জনগণের জন্য উপকার ও গোরস্তানের সুরক্ষার জন্য অগ্রণি ভূমিকা রাখতো।

বছরে একাধিকবার বাতি লাগানোর পরও তা চুরি করে নিয়ে যায়। চুর সিন্ডিকেটের উৎপাতে রক্ষা পাচ্ছেনা কবরস্তানের সীমানা প্রাচীর। দেয়াল ডিঙ্গিয়ে অনাধিকার প্রবেশ। লাইট চুরি। এমনকি কবর থেকে কাফন পর্যন্ত চুরি হয় বলে জানা গেছে। মানকিপীর গোরস্তানের দায়িত্বে থাকা তত্ত্বাবধায়ক, স্থানীয় এলাকাবাসী ব্যাপারটি বারবার সিসিকের কানে দিলেও আমলে নিচ্ছেননা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। যার ফলে ২/৩ বছর যাবত রাত ৯টার পর দাফন-কাফনের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

মানিকপীর গোরস্তানে কেয়ারটেকার ২জন, কবর খননকারী ৪জন, লাশ গোসলদানকারী ৪জন ছাড়া আর কোনো দায়িত্বশীল নাই। কবর খননকারী কর্মচারীরাই রুটিন করে রাতে প্রহরীর দায়িত্ব পালন করে থাকেন বলে জানা যায়।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায় এসব সমস্যার কথা। কথা হয় কবরখননকারী আইয়ূব আলীর সাথে। পঞ্চাশোর্ধ এই মুরব্বী জানান, শবে বরাতে উন্নয়ন হয়, দূর হয় সমস্যা। সারাবছর কেউ আর খবর নেয় না। চার্জলাইট দিয়ে কবর খুড়তে গিয়ে অনেক সমস্যায় পড়তে হয় আমাদের। কুমারপাড়া এলাকার বাসিন্দা আবদুল মুকিত জানান, টিলার উন্নয়নে যা করার প্রয়োজন তা যদি সময়মতো করা হতো তাহলে মুসল্লিদের এতো ভোগান্তির স্বীকার হতেন না।

হযরত মানিকপীর রহ.’র গোরস্তানের তত্ত্বাবধায়ক দায়িত্বে থাকা আহসান কবির বলেন, বিশাল এই গোরস্তানে সমস্যার শেষ নেই। একটি সমস্যা দূর করার আগেই আরেক সমস্যার সৃষ্ঠি হয়। বারংবার বলার পরও সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তি এদিকে নজর দিচ্ছেন না।

এব্যাপারে সিসিক’র ১৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর দেলোয়ার হোসেন সজিব বলেন, চুর-চক্রের উৎপাতে গোরস্তানের লাইট রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই আগে নৈশপ্রহরী নিয়োগ দেওয়া অতিব প্রয়োজন।

বিষয়টি নিয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর সাথে কথা বলতে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

(আজকের সিলেট/২৭ এপ্রিল/ডি/এমকে/ঘ.)

শেয়ার করুন