২৮ ডিসেম্বর ২০২৩
ডেস্ক রিপোর্ট : প্রতীক বরাদ্ধের পর থেকেই সিলেটে জমে ওঠেছে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা। এবারের নির্বাচনে বিএনপি না থাকলেও নিজ দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীদেরই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে নৌকার প্রার্থীদের।
এবার সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ থেকে নৌকা প্রতীকে অংশ নিচ্ছেন ১৮ জন প্রার্থী। বিভাগের ১টি আসনে জাতীয় পার্টিকে ছাড় দিয়েছে আওয়ামী লীগ। নবীগঞ্জ-১ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী এম এ মুনিম চৌধুরী বাবুকে ছাড় দিয়েছে ক্ষমতাসীন দল। এখানে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পাওয়া ডা. মুশফিকুর রহমান চৌধুরী।
বাকী ১৮টি আসনের মধ্যে ১০টিতেই তীব্র চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন নৌকার প্রার্থীরা। এসব আসনে জোরেশোরে ভোটযুদ্ধ নেমেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। এরমধ্যে কয়েকটি আসনে নৌকার প্রার্থীরা স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছে ধরাশায়ী হতে পারেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের হিড়িকের মধ্যেও অনেকটা স্বস্তিতে আছেন সিলেট-১ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন, সিলেট-৪ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী, প্রবাসী কল্যান ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ। এই দুই মন্ত্রীর আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হননি কেউই।
তবে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের জন্য বাধা হতে পারবেন না জানিয়ে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন বলেন, ভোটাররা এখন অনেক সচেতন। উন্নয়নের জন্য সবাই এবার নৌকা মার্কায়ই ভোট দেবেন।
সিলেট-২
গত দুই নির্বাচনে এই আসন জাতীয় পার্টিকে ছাড় দিয়েছিলো আওয়ামী লীগ। এবার নৌকার প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন সাবেক এমপি শফিকুর রহমান চৌধুরী। এখানে শফিকুর রহমানের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে গণফোরামের প্রার্থী বর্তমান এমপি মোকাব্বির খান ও জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি এহিয়া চৌধুরী আছেন। এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা ও বিশ্বনাথ পৌরসভা চেয়ারম্যান মুহিবুর রহমান। পৌর চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় এমপি পদে প্রার্থী হওয়ায় তার মনোনয়ন বাতিল করেছিলো নির্বাচন কমিশন। তবে উচ্চ আদালত থেকে তিনি মনোনয়ন ফিরে পেয়েছেন। এতে করে সিলেট-২ আসনে চর্তুমুখী লড়াই হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সিলেট-৩
এ আসনে নৌকার মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা ও বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) মহাসচিব ডা. এহতেশামুল হক চৌধুরী দুলাল। এ ছাড়াও এখানে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হয়েছেন আতিকুর রহমান আতিক। এখানে আওয়ামী লীগের অনেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী দুলালের পক্ষে কাজ করছেন। এছাড়া দুলালের ব্যক্তি ইমেজও রয়েছে। ফলে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে নৌকার প্রার্থী হাবিবকে। এ আসনে ত্রিমুখী লড়াই হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সিলেট-৫
এ আসনে নৌকার প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিনের বিপরীতে ভোটে লড়ছেন আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী ড. আহমদ আল কবির। এছাড়াও স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন ধর্মভিত্তিক সংগঠন আঞ্জুমানে আল ইসলামের মহাসচিব হুছামুদ্দীন চৌধুরী। ফুলতলী পীর সাহেবের ছেলে হিসেবে এই অঞ্চলে হুছামুদ্দীন চৌধুরীর প্রভাব রয়েছে। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাা সীমান্তিকর প্রতিষ্ঠাতা আহমদ আল কবিরেরও রয়েছে ভোট ব্যাংক। ফলে এখানে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পড়তে হচ্ছে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে।
সিলেট-৬
এ আসনে নৌকার প্রার্থী সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন কানাডা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি সারওয়ার হোসেন। এ ছাড়া তৃণমূল বিএনপির চেয়ারম্যান ও সাবেক কূটনীতিক শমসের মবিন চৌধুরীও প্রার্থী হয়েছেন। বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ উপজেলা গঠিত সিলেট-৬ আসনে দীর্ঘদিন এমপি থাকলেও কাঙ্খিত উন্নয়ন না হওয়ায় নুরুল ইসলাম নাহিদের ওপর সাধারণ ভোটারদের ক্ষোভ আছে। এর সুবিধা নিতে পারেন সারওয়ার।
সুনামগঞ্জ-১
এখানে নৌকার প্রার্থী হিসেবে ভোটে লড়ছেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রণজিত সরকার। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটে লড়ছেন আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি মোয়াজ্জেম হোসেন রতন ও সুনামগঞ্জ জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি সেলিম আহমদ। এই আসনে তিন প্রার্থীর হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সুনামগঞ্জ-২
এই আসনে নৌকার প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটযুদ্ধে আছেন সাবেক এমপি জয়া সেনগুপ্ত। প্রয়াত জাতীয় নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এই আসনের ৬ বারেরর সংসদ সদস্য। সুরঞ্জিতের মৃত্যুর পর তার স্ত্রী এই এলাকা থেকে দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সুনামগঞ্জ-২ সুরঞ্জিতের আসন হিসেবে পরিচিত। ফলে আওয়ামী লীগের নবীন প্রার্থী আব্দল্লাকে কঠিন চ্যালেঞ্জেই পড়তে হবে।
সুনামগঞ্জ-৪
এই আসনে এবার নৌকার প্রার্থী হয়েছেন পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক। গত দুই নির্বাচনে এই এলাকা থেকে আওয়ামী লীগের সমর্থনে বিজয়ী হন জাতীয় পার্টির প্রার্থী পীর ফজলুর রহমান মিসবাহর। এবারও লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে প্রার্থী হয়েছেন তিনি। সাদিকের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন মিসবাহ।
হবিগঞ্জ-১
এই আসনে মহাজোটের প্রার্থী এম এ মুনিম চৌধুরী বাবু। জাতীয় পার্টির নেতাকে সমর্থন দিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়া ডা. মুশফিকুর রহমান চৌধুরী। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটে লড়ছেন আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী। বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড্যান্ট মানিক চৌধুরীর মেয়ে কেয়া চৌধুরীর এলাকায় জনপ্রিয়তা রয়েছে। ফলে মুনিম চৌধুরীর জন্য বিজয় কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
হবিগঞ্জ-২
এখানে এবার নৌকার প্রার্থী হয়েছেন ময়েজ উদ্দিন রুহেল। তরুণ রুহেল এবারই প্রথম প্রার্থী হয়েছেন। তার বিপরীতে এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন আওয়ামী লীগ দলীয় বর্তমান এমপি আব্দুল মজিদ খান। টানা তিনবারের এমপি মজিদ খানের শক্ত অবস্থান রয়েছে এখানে। ফলে কঠিন লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হচ্ছে তরুণ রুহেলকে।
হবিগঞ্জ-৪
এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী। এবারও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন তিনি। এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন যুবলীগের সাবেক আইন সম্পাদক ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন (ব্যারিস্টার সুমন)। সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয় সুমন দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় সক্রিয়। ফলে মাহবুব আলীকে কঠিন লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হচ্ছে এই আসনে।
মৌলভীবাজার-২
এই আসনে নৌকার প্রার্থী হয়েছেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সফিউল আলম চৌধুরী নাদেল। এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন কুলাউরা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা এ কে এম সফি আহমদ সালমান। এছাড়া তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন সাবেক এমপি এম এম শাহীন। এখানে ত্রিমুখী লড়াই হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।