২৬ ডিসেম্বর ২০২৩
ডেস্ক রিপোর্ট : সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১ জানুয়ারি শিক্ষার্থীদের বই বিতরণ উৎসব হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সন্নিকটে থাকায় এবার এতে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে মানা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ ছাড়া এবার মাধ্যমিকেও কেন্দ্রীয়ভাবে বই উৎসবে সম্মতি দেয়নি ইসি।
সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের এ সংক্রান্ত এক চিঠিতে বলা হয়েছে, জেলা পর্যায়ে জেলাপ্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং প্রধান শিক্ষকদের নেতৃত্বে প্রাথমিকে বই উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। এতে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তি অংশ নিতে পারবেন না। সে অনুযায়ী বই উৎসবে এবছর অংশ নিতে পারছেন না শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনিও। তবে এর আগের দিন ৩১ ডিসেম্বর নতুন বই উন্মুক্ত করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. ফরহাদুল ইসলাম গণামাধ্যমে বলেন, ‘বই উৎসব ১ জানুয়ারি হচ্ছে। তবে আমরা যেভাবে করতে চেয়েছিলাম সেভাবে করতে নির্বাচন কমিশনের অসম্মতি আছে। প্রথমত, প্রধানমন্ত্রী ৩১ ডিসেম্বর উদ্বোধনের পর নতুন বছরের জানুয়ারির ১ তারিখ মন্ত্রীরা বই উৎসব করেন।’
‘সেই বই উৎসবে মন্ত্রীর সাথে এমপি বা সংসদীয় কমিটির লোকজন থাকেন। এবার তারা থাকতে পারবেন না। এবার প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করার পরে প্রত্যেকটা জেলা-উপজেলায় জেলা প্রশাসক, প্রধান শিক্ষক বা ইউএনও স্বল্প পরিসরে বই দিতে পারবেন। অর্থাৎ নির্বাচনের আগে কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা থাকবে না। কারণ সামনে নির্বাচন তাই পরিস্থিতি আগের মতো থাকবে না।’
প্রতি বছরের মতো ১ জানুয়ারি বই উৎসব হওয়া নিয়ে এ বছর সংশয় দেখা দিয়েছিল নির্বাচন ও রাজনৈতিক উত্তাপ ঘিরে। এমনকি শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বই উৎসব নির্বাচনের পরে অনুষ্ঠিত হবে বলে ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন। তবে অবশেষে বই উৎসবে নির্বাচন কমিশন অনুমতি দেওয়ায় আগামী ১ জানুয়ারি এই উৎসব হচ্ছে।
এদিকে, কুমিল্লার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কেন্দ্রীয়ভাবে মাধ্যমিকের (ষষ্ঠ থেকে নবম) বই উৎসব করার সম্মতি দেয়নি ইসি। সেখানে শিক্ষামন্ত্রী ড. দীপু মনির প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেওয়ার কথা ছিল। নির্বাচনী বিধির কারণে তাতে ‘অসম্মতি’ দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)। ফলে এবার মাধ্যমিক পর্যায়ে কেন্দ্রীয়ভাবে বই উৎসব হচ্ছে না।