২০ ডিসেম্বর ২০২৩


শেখ হাসিনার অপেক্ষায় আধ্যাত্মিক রাজধানী

শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : সব প্রস্তুতি শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অপেক্ষায় সিলেটবাসী। পূণ্যভূমি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করতে সিলেট আসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সিলেটে পৌঁছে প্রথমে হজরত শাহজালাল (রহ.) ও পরে হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন। এরপর মধ্যাহ্নভোজ শেষে দুপুর ২টায় নগরীর সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে আওয়ামী লীগের প্রথম নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ দেবেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে সিলেটজুড়ে বইছে উৎসবের আমেজ। তোরণ, ব্যানার-ফেস্টুনে সেঁজেছে সিলেট নগরী। নগরীর ব্যস্ততম সড়কগুলো সেজেছে বর্ণিল সাজে। জনসভায় লাখো মানুষের সমাগম ঘটাতে করতে কাজ করেছেন নেতাকর্মীরা।

প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর পক্ষ থেকে চারস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। নগরীজুড়ে বৃদ্ধি করা হয়েছে পুলিশের টহল। সাদা পোশাকে মোতায়েন করা হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের। জনসভা মঞ্চ ও আশপাশ এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা।

দলীয় সূত্র বলছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এটি সিলেট বিভাগের একমাত্র জনসভা। যেখানে দলের প্রধান শেখ হাসিনা সরাসরি উপস্থিত হয়ে বক্তব্য দেবেন। নেতাকর্মীদের দেবেন নানা নির্দেশনা, ভোট চাইবেন সিলেটবাসীর কাছে। এ জন্য এ জনসভায় ব্যাপক লোকসমাগমের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সিলেট নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ড ছাড়াও সিলেট জেলার সকল উপজেলা, পার্শ্ববর্তী সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলা থেকেও নেতাকর্মীরা মিছিল-শোডাউন করে জনসভায় অংশ নেবেন।

বুধবার সকালে জনসভাস্থল ঘুরে দেখা গেছে, জনসভার জন্য বিশাল মঞ্চ প্রস্তুত করা হয়েছে। বিশাল এ মঞ্চে ৩০০ আসনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সমাবেশস্থলের চারপাশে বাঁশ দিয়ে শক্ত বেষ্টনী গড়ে তোলা হয়েছে। নেতাকর্মীদের সমাবেশস্থলে ঢোকার জন্য পৃথক লেন তৈরি করা হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বুধবার সকাল থেকে সিলেট নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে দলবেধে ও আলাদা আলাদাভাবে মানুষজন প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশের অপেক্ষায় রয়েছেন। যদিও সমাবেশের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হতে আরও কয়েক ঘণ্টা বাকি।

নগরীর চৌহাট্টায় বর্ণিল সাজে নৌকা প্রতীক মাথায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশে এসেছেন নৌকা প্রেমিক রুবেল। মৌলভীবাজার থেকে সমাবেশের জন্য তিনি সিলেট এসেছেন এখন প্রধানমন্ত্রীর আগমনের অপেক্ষায় রয়েছেন। সমাবেশ শুরু হলে তিনি মাঠে প্রবেশ করবেন।

নগরের মিরাবাজার থেকে সমাবেশের জন্য আলিয়া মাদরাসা মাঠের পাশে এসে অপেক্ষমান লাবণ্য আক্তার জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমনে আমি অত্যন্ত খুশি। বাংলাদেশকে তিনি অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।সিলেটের জিন্য তিনি অনেক কিছু করেছেন।আজও তিনি সিলেটবাসীকে ভালো কিছু উপহার দিয়ে যাবেন।

সিলেট মেট্টোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার আজবাহার আলী শেখ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সিলেট আগমন ঘিরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তায় চার হাজার একশ জন পুলিশের ফোর্স মোতায়েন আছে। এছাড়া বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা পোশাক পরিহিত ও সাদা পোশাকে দায়িত্ব পালন করছেন।

সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন জানান, প্রধানমন্ত্রীর জনসভার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এখন কেবল অপেক্ষা প্রধানমন্ত্রীর। দলীয় প্রধানকে স্বাগত জানাতে গত কয়েকদিন থেকে নিরলসভাবে নেতাকর্মীরা কাজ করেছেন। কেন্দ্রের নির্দেশনা মোতাবেক জনসভায় ১০ লাখ মানুষের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে কাজ করা হয়েছে। বুধবারের জনসভা সিলেটের ইতিহাসে স্মরণকালের বৃহৎ সমাবেশ হবে বলে আমরা মনে করছি।

জনসভায় সিসিক মেয়রের ২ লাখ পানির বোতল
প্রায় পাঁচ বছর পর সিলেট থেকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। প্রধানমন্ত্রীর জনসমাবেশে আসা সবার জন্য সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী মাঠে প্রায় দুই লাখ আধা লিটারের পানির বোতলের ব্যবস্থা করেছেন।

বুধবার সকালে দেখা যায়, আলিয়া মাদরাসা মাঠের চতুর্দিকে সারি সারি পানির বোতলের পশরা সাজিয়ে রাখা হয়েছে। আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানিয়েছে সমাবেশস্থলে আসা মানুষের জন্য এই পানি স্তরে স্তরে সাজিয়ে রাখা হয়েছে।আগত নেতাকর্মীদের যাতে করে তাদের পিপাসায় পানির জন্য কষ্ট করতে না হয় সেজন্য সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর পক্ষ থেকে এই পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক) মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমনে সিলেটের মানুষ উচ্ছ্বসিত। মানুষজন দূর-দূরান্ত থেকে সিলেট নগরীতে এসেছেন। রোদের মধ্যে তারা দীর্ঘক্ষণ সমাবেশস্থলে থকবেন। তাদের যাতে পানির কষ্ট না হয় সেজন্য এই ব্যবস্থা করে রাখা হয়েছে।

শেয়ার করুন