১৩ ডিসেম্বর ২০২৩


উন্নয়নের ছোঁয়া লাগে নি দোয়ারাবাজার সুরমা ইউপির ৩ কি.মি. সড়কে

শেয়ার করুন

শাহ্ মাশুক নাঈম, দেয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : দেশ উন্নয়নের জোয়ারে ভাসলেও গত ১৫ বছরে-এর বিন্দুমাত্র ছোঁয়া লাগে নি সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার ৩ কিলোমিটার সড়কে। কাঁচা সড়কে ভোগান্তির যাত্রা নিয়ে চরম দুর্ভোগে দিন পোহাচ্ছেন উপজেলার সুরমা ইউপির শিমুলতলা, তালতলা, কাওয়াঘর,রা জনগর, ইসলামপুর, সুন্দরপসহ ৬ গ্রামের মানুষ।

আরও পড়ুন : এমসি কলেজ ছাত্রাবাসের পাশে বস্তাবন্দি খণ্ডিত মরদেহ

সরেজমিনে দেখা যায়, মহব্বতপুর বাজার ব্রীজের পূ্র্বপার থেকে দক্ষিণ দিকে যে সড়কটি প্রবেশ করেছে এটি ৬ গ্রামের প্রধান যাতায়াত সড়ক। প্রতি বছর সমান্য কিছু জায়গায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজ করা হলেও এ বছর একমুঠো মাটিও দেওয়া হয় নি এ সড়কে। সড়কটি যানবাহন চলাচলের জন্য একেবারে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সমান্য বৃষ্টি হলে সড়কের গর্তে হাঁটুপানি জমে থাকে। তখন পায়ে হেঁটে চলাও ভীষণ কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। যাতায়াতের অসুবিধায় ছাত্র-ছাত্রী স্কুল,কলেজ ও মাদ্রাসায় যেতে নানা ধরণের বাধার মুখে পড়ছেন।

স্থানীয়রা জানান, এ ৩ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে এক ইঞ্চি ও পাকা নাই। প্রতিদিন পায়ে হেঁটে গন্তব্যে যেতে হয় শিক্ষার্থী,দিনমজুরসহ সাধারণ জনতা। আমাদের কষ্টের শেষ নেই। ভোগান্তির শেষ নেই।

আরও পড়ুন : নগরীর যেসব এলাকায় বুধ ও বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ থাকবে না

সমুজআলী কলেজ, টিলাগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, স্থানীয় কমিউনিটি ক্লিনিক ও মাদরাসায় যেতে হচ্ছে নানান সমস্যা।

কলেজশিক্ষার্থী শাহ্ তামিম আহমদ তারেক বলেন, ‘বারোমাসই আমাদের চরম দুর্ভোগে পোহাতে হয়। এমন অবহেলিত এলাকায় বসবাস করি, দেশ উন্নয়নের জোয়ারে ভাসলেও আমরা একটু মাত্র ছোঁয়া পাই নি। বর্ষাকালে হালকা বৃষ্টিতে সড়কে বড়-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। তখন রাস্তা এতটাই পিচ্ছিল হয়ে পড়ে যে,পা ফেলতেও ভয় হয়। শুকনো মৌসুমে দিনের বেলায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কিছু বড় যানবাহন চলাচল করলেও রাতে কোনো যানবাহন চলাচল করে না।’

শিমুলতলা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান বলেন,’একজন শহীদ ও দুইজন বীর মুক্তিযোদ্ধার গ্রাম শিমুলতলা।দেশ স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছিলাম। কিন্তু ভাগ্য বদলে নি এ এলাকার।৩ কিলোমিটার সড়ক পায়ে হেঁটে স্থানীয় বাজারে যেতে হয়। মনে হয় এলাকার পরিবর্তন দেখে মরতে পারব না।’

এ বিষয়ে সুরমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হারুন-অর-রশিদ বলেন, ‘এ সড়কের কাজের জন্য সকল কাগপত্র উর্ধতন কর্মকর্তাদের অফিসে পাঠানো হয়েছে।কয়েকদিনের ভেতরে সড়কের কাজ শুরু হবে।’

দোয়ারাবাজার এলজিইডি-এর প্রকৌশলী আবদুল হামিদ বলেন, ‘এই প্রথম এ সড়কের কথা জানতে পারলাম। সময় করে একবার সড়কটি পরিদর্শন করব।’

এএস // আতারা

শেয়ার করুন