৯ ডিসেম্বর ২০২৩
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে গত কয়েক বছর ধরে সুনামগঞ্জে আমনের ফলন তেমন ভালো হয় নি।এতে হতাশায় ভোগছিলেন কৃষকরা। তবে এবারে দুর্যোগের মুখে না পড়ায় আমনের বাম্পার ফলন হাসি ফুটিয়েছে কৃষকপাড়ায়। উৎসবমুখর পরিবেশে ধান কেটে ঘরে তোলায় ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলার কিষান-কিষানিরা। হাওর অধ্যুষিত সুনামগঞ্জ জেলার লাখো মানুষের জীবিকার প্রধান অবলম্বন ধান। আর এই ধান দিয়ে সারা বছরের স্বপ্ন বুনেন তারা। তবে ধানের ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়েছেন জেলার চাষিরা।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আমন ধান উৎপাদনের জন্য প্রতি বিঘায় সব মিলে খরচ হয়েছে ৮-৯ হাজার টাকা। তবে এই ধানের মণ ১ হাজার টাকার বেশি দামে বিক্রি করতে পারবেন না বলে ধারণা কৃষকদের। যেখানে সরকারিভাবে কেনার জন্য ধানের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১২০০ টাকা মণ। এতে বিঘা প্রতি যে খরচ পড়ে, তাতে সেইভাবে লাভবান হতে পারবে না সাধারণ কৃষক।
সুনামগঞ্জের সদর উপজেলার শহীদুর রহমান বলেন, ‘আমরা তো ধান ভালো পেয়েছি, কিন্তু ধানের দামটা যদি সঠিকভাবে না পাই, তাহলে তো আমাদের মনে কষ্ট লাগবে। কারণ আমরা তো কৃষক, আমরা অনেক পরিশ্রম করি, এই ধান যে করি, ধানের দাম যদি না পাই, তাহলে আমরা কৃষকের কষ্ট লাগবেই।’
মোহাম্মদ বদরুজ্জামান মিয়া নামের আরেক কৃষক বলেন, ‘এক বিঘা জমি হালচাষ করতে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা লাগে; সার, বিষ এইগুলো তো আমরা সরকারিভাবে পাই না। এগুলো নিজেরা ক্রয় করে আনতে হয়। ৩০ টাকা সাদা সার, কালা সার ২৫ টাকা। এক বিঘা জমি করতে প্রায় ৮ হাজার থেকে ৯ হাজার টাকা খরচ হয়ে যায়। এত খরচ করেও আমাদের কোনো ফায়দা করতে পারি না। গুদামে ধান বিক্রি করতে পারি না। বর্তমানে তারা অন্যদের কাছে (দালাল) কার্ড দেয়। ওরা কৃষকের কাছ থেকে ধান নিয়ে গুদামে দেয়। গুদামে আমরা কৃষকরা সরাসরি এক মণ ধান দিতে পারি না। আমরা কৃষকের কি মূল্যায়ন আছে? কোনো মূল্যায়ন নেই।’
সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় এ বছর আমন ধানের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮২ হাজার ২১৫ হেক্টর। কিন্তু আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আমন আবাদ হয়েছে ৮৩ হাজার ৩৬৯ হেক্টর। এতে কর্তন শেষে চাল হবে প্রায় ২ লাখ ৬ হাজার মেট্রিক টন। যার বাজার মূল্য প্রায় ৯০০ কোটি টাকা।
এএস // আতারা