৪ ডিসেম্বর ২০২৩
প্রকৃতির প্রাণ অতিথি পাখিদের নির্বিচারে শিকার করছে পাখি শিকারীরা।
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি : দেশজুড়ে চলছে শৈত্যপ্রবাহ। শীতের আগমনীতে প্রকৃতিকে সাজাতে হাজারো রঙ-বেরঙের অতিথি পাখির কলকাকলীতে প্রাণবন্ত হয়ে উঠছে হবিগঞ্জের হাওর-বাওর, খাল-বিল, নদী, পুকুরসহ জলাবনগুলো।
এবারের শীত মৌসুমে আসা পাখিদের মধ্যে রয়েছে—বালিহাঁস, পাতিহাঁস, লেজহাঁস, পেরিহাঁস, চমাহাঁস, জলপিপি, রাজসরালি, লালবুবা, পানকৌড়ি, বক, শামুককনা, চখপখিম সারস, কাইমা, শ্রাইক, গাঙ কবুতর, বনহুর, হরিয়াল, নারুন্দি, মানিকজোড়া অন্যতম।
তবে প্রকৃতির প্রাণ এসব অতিথি পাখি নির্বিচারে শিকার করছে পাখি শিকারীরা। জেলার নবীগঞ্জ, বাহুবল, বানিয়াচংসহ বিভিন্ন উপজেলায় প্রতিদিন বিভিন্ন প্রজাতির পাখি শিকার করে বিক্রি হচ্ছে।অসাধু পাখি শিকারীদের কারেন্ট জাল, পাতানো ফাঁদ এবং শখের শিকারীদের বন্দুকের গুলিতে প্রাণ হারাচ্ছে অতিথি পাখির দল। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র রক্ষায় পাখি শিকার নিষিদ্ধ হলেও শিকারীদের এমন নির্মম কাণ্ড দেখার কেউ নেই।
সচেতন মহল বলছেন, সঠিক নজরদারি এবং সচেতনতার অভাবে বাড়ছে পাখি শিকার। এতে নষ্ট হচ্ছে জীববৈচিত্র। নদী-নালা ও বিভিন্ন জলাশয়ের পানি কমতে শুরু করেছে। এ সময় জলাশয় ও আমন ধানের জমিতে মাছ ও পোকা খেতে ভিড় জমানো বিভিন্ন প্রজাতির পাখি শিকারীদের জালে ধরা পড়ছে। ফাঁদে ধরা পাখি স্থানীয় হাটবাজারে ফেরি করে বিক্রি করতে দেখা যায়।
রোববার (৩ ডিসেম্বর) ঢাকা সিলেট মহাসড়কসহ কয়েকটি উপজেলার হাটবাজারের খবর নিয়ে জানা যায়, শীতের শুরুতেই পাখি শিকারীরা তাদের পুরোনো পেশায় জড়িয়ে পড়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, বানিয়াচংয়ের বড় বাজারে একজন পাখি বিক্রেতা ফেরি করে বকসহ নানা জাতের পাখি বিক্রি করছেন।
এক পাখি বিক্রেতা জানান, শিকারীদের কাছ থেকে কিনে এনে পাখি বিক্রি করছেন তিনি। পাখি শিকার ও বিক্রি দণ্ডনীয় অপরাধ জেনেও জীবিকার প্রয়োজনেই বাধ্য হয়ে বিক্রি করছেন বলে দাবি তার।
আবিদুর রহমান নামের এক যুবক জানান, এক শ্রেণির লোভী মানুষ এলাকার বিভিন্ন খাল-বিলে নানাভাবে পাখি শিকার করে স্থানীয় হাট-বাজারে বিক্রি করছে। এদের থাবা থেকে আমাদের জীববৈচিত্র টিকিয়ে রাখার জন্য পাখি বাঁচিয়ে রাখা জরুরি।
শিক্ষক আবুল মনছুর তুহিন বলেন, প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় অতিথি পাখি শিকার বন্ধে সামাজিক আন্দোলন আজ বেশি প্রয়োজন। কঠোর আইন থাকা সত্ত্বেও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তা প্রয়োগ করছে না।
বানিয়াচং উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহবুবুর রহমান জানান, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র রক্ষায় পাখি শিকার বন্ধে জনগণকে নানাভাবে সচেতন করা হচ্ছে। পাখি শিকার ও বিক্রি রোধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এএস // আতারা