১৩ এপ্রিল ২০১৮
বিশেষ প্রতিবেদক : বছরজুড়ে দুর্ভোগ আর ভোগান্তি যেন নিত্যকার ঘটনা সিলেট-তামাবিল মহাসড়কে। জাফলং, মোহাম্মদপুর, মামার দোকান, বল্লাঘাট অংশের নামে মাত্র সংস্কার কাজ করা হয় আবার মুহূর্তেই তা ভেঙ্গে যায় সহসাই। এমতাবস্থায় সারা বছরই সিলেটের প্রকৃতিকন্যা জাফলং বেড়াতে পর্যটক, দর্শনার্থীসহ দুর্ভোগ ও ভোগান্তির শিকার হন স্থানীয় জনসাধারণ ও পথচারীরা।
বছরের শুষ্ক মৌসুম শেষ হয়ে বর্ষা মৌসুম শুরু হয়েছে। বর্ষা মৌসুম হতে না হতেই সড়কটিতে দুর্ভোগ ভোগান্তির আগমনী বার্তা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি কদিনের বৃষ্টিপাতে কাদা পানিতে সয়লাব হয়ে গেছে পুরো মামার দোকান বাজার, বল্লাঘাট, মোহাম্মদপুর এলাকা। কাদা পানিতে সর্বত্র একাকার সড়কটিতে যানবাহনের পাশাপাশি কাদা আর দুর্গন্ধযুক্ত পানি মাড়িয়ে চরম দুর্ভোগে যাতায়াত করছেন পর্যটক, দর্শনার্থী ও স্থানীয় এলাকাবাসী।
সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, সিলেটের প্রকৃতিকন্যা জাফলংয়ে প্রতিদিন বেড়াতে আসেন কয়েক হাজার পর্যটক ও দর্শনার্থীগণ। বছর শেষে এ হিসেব কয়েক লক্ষাধিক ছাড়িয়ে যায়। বাস, ট্রাক ও মাইক্রোতে করে এসব পর্যটক দর্শনার্থীরা জাফলং বেড়াতে আসেন। তাদের আগমনের সুবাদে জাফলংয়ে প্রতিদিন কয়েক শতাধিক পর্যটকবাহী যানবাহনের আগমনও ঘটে। এসব দর্শনার্থী ও পর্যটকবাহী যানবাহনের পাশাপাশি জাফলং পাথর কোয়ারি ও তামাবিল স্থলবন্দর থেকে বিভিন্ন ধরণের পাথর, বালিসহ নানা পণ্য নিয়ে আসা কয়েক হাজার ট্রাক, ট্রাক্টরও এ সড়কের উপর দিয়ে চলাচল করে থাকে। যাতায়াতের জন্য এই সড়কটিই একমাত্র অবলম্বন হওয়াতে যানজটের মতো যন্ত্রণাও নিত্যকার চিত্র। এমতাবস্থায় সংস্কার না হওয়ার কারণে সড়কটিতে বাধ্য হয়ে কাদা পানি, গর্ত আর হতাহতের আশংকাসহ জীবনের ঝুঁকি নিয়েই সড়কটির উপর দিয়ে চলাচল করছেন যানবাহন ও পথচারী। হঠাৎ করে দুর্ঘটনায় শিকার হয়ে পথচারী, দর্শনার্থী হতাহতের ঘটনাও ঘটছে।
সরেজমিনে কথা হয় পর্যটক দর্শনার্থী এলাকাবাসীর সাথেও। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসির নগর সদরের বাসিন্দা আনহার মিয়া। জাফলং বেড়াতে আসা এই পর্যটক জানান, জাফলং একটি দৃষ্টিনন্দন স্পট। এখানে মানুষ ভ্রমণে আসে তার মনের অসাড়তাকে দূরীকরণে। মনকে ভালো প্রাণচাঞ্চল্যময় করতে এসে শুধু মাত্র যাতায়াত বিড়ম্বনায় পড়ে নানাবিধ দুর্ভোগ ও যন্ত্রণার মুখোমুখি হচ্ছেন।
আলম এশিয়া নামের একটি পরিবহনের একজন বাস চালক আব্দুস সালাম জানান, আমরা বছরে বেশকবার পর্যটক নিয়ে আসি। সড়ক সংস্কার না হওয়ার কারণে এখানে এসে প্রতিবারই যাতায়াত যন্ত্রণায় বিড়ম্বনার শিকার হই। আমি মনে করি এ দুর্ভোগের কারণে জাফলংয়ে পর্যটক উপস্থিতি দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে, এবং দ্রুত সংস্কার না হলে পর্যটকহ্রাস কেউ ঠেকাতে পারবে না।
মামার বাজারের ফার্মাসিস্ট ডা. আওলাদ হোসেন। তিনি জানান, সড়কটি বেহাল দশা দীর্ঘদিন থেকে। বিশেষ করে সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের নলজুরী থেকে বল্লাঘাট পর্যন্ত শেষ ৫ কিলোমিটার সড়ক হাজার হাজার গর্ত, খানাখন্দ এবং যানবাহন ও মানুষজন চলাচলও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সংস্কারহীন এ সড়ক দিয়েই কাদা পানি মাড়িয়ে জাফলং ভ্রমণে আসা যানবাহনগুলো চলতে হচ্ছে। জনদুর্ভোগ ও ভোগান্তি দূরীকরণে তিনি দ্রুত সড়কটির বেহাল ৫ কিলোমিটার অংশ সংস্কার দাবি করেন।
পূর্ব জাফলং আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মালিক জানান, সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের মোহাম্মদপুর-মামার দোকান ও বল্লাঘাট এলাকায় সড়কটির ভঙ্গুর, খানাখন্দ অংশটির সংস্কার না হওয়ায় জনমনে কিছুটা ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তবে আনন্দের সংবাদ হলো এই যে, জনদুর্ভোগ লাগবে আমাদের সংসদ সদস্য ইমরান আহমদের একান্ত প্রচেষ্টায় বর্তমান সরকারের তরফে সড়ক সংস্কারে ১৯০ কোটি টাকার মেগাপ্রকল্পও ইতিপূর্বে একনেকে পাস হয়েছে। টেন্ডারসহ প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ করে অচিরেই হয়তো এ সড়কের সংস্কার কাজ শুরু হয়ে যাবে।
নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক একজন ব্যবসায়ী নেতা জানান, এই সড়ক বিনষ্টের নেপথ্যে রয়েছে এখানকার অদূরে পাহাড়ের উপরে গড়ে ওঠা কয়েকটি অপরিকল্পিত স্টোন ক্রাশিং জোন। আমার মতে সড়ক সংস্কারের আগে এলাকার আশপাশের গড়ে ওঠা এসব অপরিকল্পিতভাবে স্টোন ক্রাশিং জোন অন্যত্র স্থানান্তর অথবা উচ্ছেদ করে সড়কের সংস্কার কাজ শুরু করা হোক। কেননা এটা না করলে সড়কটির সংস্কার করার মাসখানেকের ভেতরেই আবার ‘যেই লাউ সেই কদু’ তে রূপান্তরিত হবে সড়কটি। তাই পরিকল্পনানুসারে এ কাজ করা দরকার। অন্যথায় এ খাতে বিনিয়োগ করে সরকারি টাকার এ শ্রাদ্ধ করার কোন দরকার নেই। আমি বিষয়টি সরকারের নজরে নেয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে কথা হলে সরকারের ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য ইমরান আহমদ জানান, আমি কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী। এ সড়ক সংস্কারে বর্তমান সরকারের উদ্যোগ আগেও ছিলো, বর্তমানেও অব্যাহত আছে। অচিরেই সড়কটির সংস্কার কাজের শুভ সূচনা দেখতে পাবেন।
(আজকের সিলেট/১৩ এপ্রিল/ডি/এসসি/ঘ.)