১২ এপ্রিল ২০১৮


অবশেষে উদ্বোধন হচ্ছে জাফলং সেতু

শেয়ার করুন

গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি : সিলেট জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা গোয়াইনঘাট। উপজেলাটি ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পাদ দেশে অবস্থিত। ভারতের ওজান থেকে নেমে আসা ডাউকি নদীর বাংলাদেশের ভূখন্ডে পিয়ানইন নাম ধারণ করে প্রবাহিত হচ্ছে।

এ নদীটি জাফলং ইউনিয়নকে দু‘ভাগে বিভক্ত করেছে। জাফলাং পর্যটন কেন্দ্র, পাথর কোয়ারী ও দেশের অন্যতম বৃহৎ তামাবিল স্থল বন্দর জাফলং ইউনিয়নের উত্তর অংশে অবস্থিত। ফলে এ অংশের মানুষজন ও গুরুত্বপূর্ণ স্থল বন্দরের প্রয়োজনীয় মালামাল ও আনই-শৃংখলা স্বাভাবিক রাখতে গোয়াইনঘাট উপজেলার সদরের সাথে যোগাযোগ অত্যান্ত কঠিন হয়ে পড়েছিল।

জৈন্তাপুরের সারিঘাট হয়ে উপজেলা সদরের সাথে সড়ক যোগাযোগের প্রায় ৩০/৩৫ কিঃমি অতিরিক্ত যাতায়াত করতে হত। বিষয়টির গুরুত্ব বোঝতে পেরে স্থানীয় সংসদ সদস্য ইমরান আহমদ জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগীতায় গোয়াইনঘাট-রাধানগর বাজার জিসি, জাফলং বাজার সড়কে ৯৫৪০ মিটার চেইনিজে পিয়াইন নদীর উপর ৩৬০ মিটার সেতু নির্মাণ প্রকল্প গ্রহন করেন।

৩৬০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৮.১ মিটার প্রস্থ এ সেতুটি নির্মাণে বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব তহবিল ( জিওবি) থেকে ব্যয় হয়েছে ২৮ কোটি ৯৯ লক্ষ ৭৮ হাজার টাকা। ২০১৩ সালের ২০ডিসেম্বর এ সেতুটির কাজ শুরু হয়। ইতিমধ্যে এ সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ এ সেতুটি স্থাপনের ফলে কি কি সুবিধা হয়েছে জানতে চাইলে জাফলংয়ের ব্যবসায়ী ইমরান হোসেন সুমন, জাফলংয়ের বাসিন্দা ইউনুছ মিয়া, শাহাব উদ্দিনসহ অনেকেই জানান, এ সেতুটি নির্মাণে ফলে সিলেটের সাথে জাফলং বাসীর দূরত্ব কমেছে প্রায় ১৮ কিলোমিটার। এছাড়া উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগ খুব সহজ হয়েছে। জাফলং পাথর কোয়ারীর পাথর, তামাবিল স্থল বন্দরের মালামাল ও স্থানীয় ভাবে উৎপাদিত বিভিন্ন কৃষি পণ্য সহজে বাজার জাত ও চিকিৎসা সেবা অতি সহজ হয়েছে।

স্থানীয়রা মনে করেন জাফলং বাসির দীর্ঘ দিনের লালিত স্বপ্ন এ সেতু নির্মাণের মাধ্যেমে বাস্তবায় হয়েছে।

এব্যাপারে গোয়াইনঘাট সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ ফজলুল হক বলেল, পর্যটন, কোয়ারী ও স্থল বন্দরসহ নানা কারণে জাফলংয়ের গুরুত্ব গোয়াইনঘাট উপজেলার বাসীর নিকট আলাদা রয়েছে। এ সেতুটি নির্মাণের পূর্বে, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগসহ প্রতিটি বিষয়ে জাফলং বাসী পিছিয়ে ছিল। পড়া লেখা ও স্বাস্থ্য সেবার জন্য জাফলং বাসি জৈন্তাপুর উপজেলার উপর নির্ভর ছিল। পূর্বে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় প্রাকৃতিক দূযোগসহ বিভিন্ন দূযোগকালীন সময়ে সরকারী ত্রাণ সহায়তা অনেক সময় পাওয়া যেত না।

গোয়াইনঘাট উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মোহাম্মাদ ইব্রাহিম বলেন, জাফলং সেতু নির্মাণের পূর্বে জাফলং বাসি উপজেলা সদরের সাথে সড়ক পথে যোগাযোগের বিছিন্ন ছিল। বর্তমানে গোয়াইনঘাটের মানুষের পাশাপাাশি ভ্রমণ পিয়াসী দেশ-বিদেশী পর্যটকদের অনেক সুবিধা বৃদ্ধি পেয়েছে। একসাথে সড়ক পথে রাতারগুল,বিছনাকান্দি, পানতুমাই ও জাফলং পর্যটন কেন্দ্র সড়ক পথে পরিদর্শন করতে পারবেন।

এ ব্যাপারে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম মহসিন বলেন, যথাযথ ভাবে এ সেতুটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। চলতি মাসেই এ সেতুটির উদ্বোধন হওয়ার কথা রয়েছে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য ইমরান আহমদ জানান, গোয়াইনঘাট উপজেলা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রকল্প ছিল পিয়াইন নদীর উপর সেতু নির্মাণ করা। প্রধান মন্ত্রীর একান্ত্য প্রচেষ্টায় গোয়াইনঘাট বাসীর দীর্ঘ দিনের দাবি জাফলং সেতু নিমার্ণ করা সম্বভ হয়েছে। এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসির নিকট আমি চির কৃতজ্ঞ।

(আজকের সিলেট/১২ এপ্রিল/ডি/এসটি/ঘ.)

শেয়ার করুন