২০ নভেম্বর ২০২৩
বিক্ষোভ মিছিল ও গাড়ি ভাঙচুর করছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। ছবি: সংগৃহীত
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক : দফায় দফায় চলছে বিএনপি ও সমমনা দলের হরতাল-অবরোধ। এতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে খেটে খাওয়া মানুষের জীবন।পাঁচ দফার টানা অবরোধের পর এবার তফসিল বাতিলের দাবিতে হরতালের ডাক দিয়েছে বিরোধী দলগুলো। এতে কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে শ্রমজীবী মানুষের। হরতাল-অবরোধ নিয়ে জৈন্তা ও গোয়াইনঘাটের খেটে খাওয়া কয়েকজন শ্রমজীবীর সঙ্গে কথা বলেছে আজকের সিলেট। তারা বলেন, আমরা খেয়ে-পরে বাঁচতে চাই। সরকার আমাদের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করুক। বাজারে নিত্যপণ্য যদি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ভেতরে থাকে এবং দেশে হরতাল-অবরোধ না থাকে, তাহলেই সাধারণ মানুষ ভালো থাকবে।
আরও পড়ুন : গৃহবধূকে গণধর্ষণের পর ভিডিও ধারণ, লাখ টাকা চাঁদা দাবি
রোববার (১৯ নভেম্বর) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হরতাল ও অবরোধ নিয়ে খেটে খাওয়া মানুষের সঙ্গে কথা হয়। তখন তারা এসব কথা বলেন।
গোয়াইনঘাট উপজেলার কোওরবাজার এলাকার এক হোটেল ব্যবসায়ী বলেন, আমরা কখনই হরতাল-অবরোধ চাই না। কারণ হরতাল-অবরোধ থাকলে আমাদের বিক্রি অর্ধেকে নেমে আসে। ৮-১০ হাজার টাকার বিক্রি নেমে এসেছে ৪ হাজার টাকায়।
গোয়াইনঘাট উপজেলা সদরের ফল বিক্রেতা নাহিদ বলেন, অবরোধ ছাড়া প্রতিদিন বিক্রি হত ৬-৭ হাজার টাকা। আজকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে মাত্র ১৩০০ টাকা। হরতাল-অবরোধে আমাদের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায়। আমাদের আন্দোলন দরকার নেই। খেয়ে-পরে বাঁচতে চাই।
গোয়াইনঘাট সদর স্টেশনে অলস বসে আছেন দুই অটোরিকশাচালক। দুজনেরই বাড়ি সদরে। এর মধ্যে সুলতান জানালেন তার সারাদিনে রোজগার হয়েছে ৩৮০ টাকা। আরেকজন সাকিব হোসেন। তিনি সকাল ৮টায় বের হয়ে বেলা ২টা পর্যন্ত রোজগার করেছেন ১৫০টাকা।
সারিঘাটের এক মুদি দোকান্দার ক্ষোভ নিয়ে বললেন, আমরা কোন আন্দোলন চাই না। দেশ ভালভাবে চলবে এটাই আমাদের আশা। এমনিতেই কেনাবেচা খুবই কম। এরপর হরতাল-অবরোধ হলে কোনো গ্রাহকই আসে না। গাড়ি বন্ধ থাকলে অন্য এলাকার মানুষ আসার সুযোগ থাকে না। ভয়ে মানুষ মূল্যবান গাড়ি নিয়ে রাস্তায় নামতে চায় না।
জৈন্তাপুর সদরের অটোরিকশাচালক সালেহ আহমেদ জানান, অবরোধের কারণে আমরা অনেকটা অবসর সময় কাটাতে হয়। যাত্রীর চাইতে গাড়ির সংখ্যাই বেশি। বিকেলে কোন খরচ না নিয়ে খালি হাতেই বাড়ি ফিরতে হয়। অনেকদিন আবার ভয়ে গাড়ি নিয়ে বের হতেও পারি না। অসহনীয় কষ্টে দিন যাচ্ছে। আল্লাহ হেফাজতকারী।
একই উপজেলার দরবস্ত বাজারের ত্রিমুখী মোড়ে বসে অবসর সময় কাটাচ্ছেন সিএনজি চালিত অটোরিকশাচালক মো.সুমন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দুপুর ১টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বসে আছি এখানে। কোন যাত্রী পাই নি। তার মতামত হচ্ছে,দ্রব্যমূল্যে বৃদ্ধি হওয়ার কারণে আন্দোলন হওয়া প্রয়োজন আছে। কারণ সরকার কোনভাবেই বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না।
একই এলাকার প্রবীণ ব্যবসায়ী আলা উদ্দিন জানান, বিগত ১৫ বছরে আমি নিজের ভোট নিজে দিতে পারি না। এই বয়সে আর ভোট দিতে পারব কিনা সন্দেহ আছে। ভোটের অধিকারের জন্য হরতাল-অবরোধের দরকার আছে।
এএস // আতারা