১৮ নভেম্বর ২০২৩
পর্যটকরা লালাখালকে বাংলার নীলনদ বলে ডাকেন। ছবি : সংগৃহীত
তানজিনা আঁখি : মহান প্রভুর বৈচিত্রময় সৃষ্টিশীলতায় ভরপুর আমাদের এ পৃথিবী। চারদিকে নিখুঁত সৌন্দর্যের কী অপরূপ প্রাকৃতিক সৃষ্টি। তিনি পাহাড়ের সাথে নদীর প্রেমবন্ধনকে বড় সুন্দর করে গেঁথেছেন। যা মানুষের চোখের সঙ্গে মনকেও কেড়ে নেয়। এমনই এক শৈল্পিক সৃষ্টি সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ‘লালাখাল’। এ যেন বাংলার নীলনদ।
ভারতের চেরাপুঞ্জির ঠিক নিচেই লালাখালের অবস্থান। সিলেট শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত এই লালাখাল নদী চেরাপুঞ্জি পাহাড় থেকে উৎপন্ন হয়ে বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত। জৈন্তিয়া পাহাড় থেকে আসা প্রবহমান পানির সাথে মিশে থাকা খনিজ ও কাদার পরিবর্তে নদীর বালুময় তলদেশের কারণেই এই নদীর পানির রঙ নীল দেখায়। নদীর পাশ ঘেঁষে রয়েছে অসংখ্য ছোট বড় টিলা ও পাহাড়। রয়েছে চা-বাগানসহ চা-পাতার ফ্যাক্টরি। পর্যটকদের থাকারও জন্যও রয়েছে রাজকীয় ব্যবস্থা।
নীল রঙের পানির অধিকারী লালাখালে বছরজুড়ে থাকে পর্যটকদের আসা-যাওয়া। তবে শীতকাল হল লালাখালে যাওয়ার উত্তম সময়।পানির রং তখন বদলে গিয়ে পুরোপুরি নীল হতে শুরু করে। এসময় নীল পানি,সামিয়ানার মত সাদা নীলআকাশ,দু’ধারে সবুজ টিলা-পাহাড়— সব মিলিয়ে যেন নেমে আসে এক স্বর্গীয় সৌন্দর্য।আবার শরতে দেখা যায় এর ভিন্ন রূপ। পালকের মতো নরম সাদা কাশফুলের দেখা মেলে এর প্রতিটা বাঁকে। শুধু কাশবনই নয়, লালাখালের দু’পাশে গড়ে ওঠা চা বাগান আপনাকে নিয়ে যাবে অন্য এক জগতে। তাই শীতেই একনজর দেখে আসুন প্রকৃতিকন্যা লালাখাল।
এএস // আতারা