১৬ নভেম্বর ২০২৩


৩২ কোটি টাকার সৌর প্রকল্পেও আলোহীন শাল্লার ৫ গ্রাম

অযত্ন -অবহেলায় পড়ে আছে ৩২ কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত সৌর প্যানেল। ছবি : সংগৃহীত

শেয়ার করুন

শাল্লা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : ২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যার পর থেকে সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলাধীন হাবিবপুর ইউপির পাঁচটি গ্রাম অন্ধকারে রয়েছে। আগুয়াই, মৌরাপুর, দত্তপাড়া, শাসখাই ও বিলপুর— এই পাঁচ গ্রামে বিদ্যুৎ না থাকায় বিপাকে পড়েছেন হাজারো মানুষ। উপজেলার এই পাঁচ গ্রাম ৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপিত রহিম আফরোজ সোলার বিদ্যুৎ প্রকল্পের আওতায় ছিল। তখনও দিনে ৩-৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পেত এলাকাবাসী।তবে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় সোলার প্রকল্পটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রকল্পটি পুনরায় চালু না করায় এলাকার মানুষ অন্ধকারে জীবন-যাপন করছেন।

আরও পড়ুন-মৌলভীবাজারে আগাম হাইব্রিড আমনের বাম্পার ফলন : দাম নিয়ে দুশ্চিন্তা

২০১৭ সালের ১০ ডিসেম্বর ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সোলার প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু কোটি কোটি টাকার এই প্রকল্প দিয়ে কর্তৃপক্ষ কোনো ধরনের সফলতা দেখাতে পারেনি। আবার ২০১৭ সাল থেকে ২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যার পূর্ব পর্যন্ত সরকারের দেওয়া রহিম আফরোজ সৌর বিদ্যুতের আওতায় ছিলেন এসব গ্রামের লোকজন। ফলে এই এলাকায় আরেকটি প্রকল্প থাকায় পল্লী বিদ্যুতের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন তারা।

আরও পড়ুন : বিলুপ্তপ্রায় সিলেটের ঐতিহ্যবাহী ‘চুঙ্গা পিঠা’

দিরাই পিডিবি অফিস সূত্রে জানা যায়, বন্যায় ক্ষতির পরিমাণ ব্যাপক। এটি মেরামত করতে হলে অনেক টাকা বরাদ্দ প্রয়োজন। তাই এটি আর পুনরায় চালু করা সম্ভব নয়।

 

এদিকে সোলার থেকে বিদ্যুৎ পাওয়ার সম্ভাবনা না থাকায় পল্লী বিদ্যুৎ থেকে সংযোগের আশায় দিরাই পিডিবি অফিসে সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পের বকেয়া বিলসহ সব মিটার জমা দিয়েছেন গ্রাহকেরা। সোলার প্রকল্পের বকেয়া বিলসহ মিটার জমা দিলে পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে আসছিলেন দিরাই পিডিবি অফিস। কিন্তু পিডিবি কর্তৃপক্ষের কথা ও কাজে কোনো ধরনের মিল নেই বলে জানান এলাকাবাসী।

তবে দিরাই পিডিবি অফিসের দাবি,কিছুসংখ্যক গ্রাহক এখনো বকেয়া পরিশোধ করেনি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘদিন বিদ্যুৎ না থাকায় এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাসহ সর্বক্ষেত্রে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। স্থানীয়রা বলছেন, এখানে শুধু শুধু সরকারের অর্থের অপব্যবহার করা হয়েছে। সরকারের ৩২ কোটি টাকার প্রকল্প স্থানীয়দের কোনো কাজেই আসেনি বলে জানান তারা।

আরও পড়ুন : সিলেট-মৌলভীবাজারকে ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী

এ বিষয়ে হবিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুবল চন্দ্র দাস বলেন, এই পাঁচ গ্রামের মানুষ বিদ্যুতের জন্য চরম সংকটময় সময় অতিক্রম করছেন। আমরা এলাকাবাসীর স্বাক্ষর নিয়ে একটা রেজুলেশন তৈরি করেছি। সেটা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে জমা দেব। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যেই সেখানে পল্লী বিদ্যুতের লাইন পাওয়া যাবে।

 

পল্লী বিদ্যুৎ দিরাই সাব-জোনাল অফিসের এজিএম নুরুল ইসলাম বলেন, পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ সেখানে দেওয়া যাচ্ছে না। এটা মন্ত্রণালয়ের ব্যাপার। মন্ত্রণালয়ের অনুমতি সাপেক্ষে আমরা বিদ্যুতের লাইন মেইনটেইন করে সংযোগ দিতে পারব।

এএস // আতারা

শেয়ার করুন