১৪ নভেম্বর ২০২৩


অবরোধে শান্তিগঞ্জের হাট-বাজারে কমেছে বেচাকেনা

বেচাকেনা কমেছে শান্তিগঞ্জের হাট-বাজারে। ছবি : সংগৃহীত

শেয়ার করুন

শান্তিগঞ্জ প্রতিনিধি : নির্দলীয় সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে একের পর এক অবরবোধ পালন করছে বিএনপি-জামায়াতসহ সমমনারা। চতুর্থ দফার অবরোধ শেষ না হতেই বুধবার থেকে ফের পঞ্চম দফা অবরোধের ডাক দিয়েছে বিরোধী দলগুলো। টানা এসব অবরোধ কর্মসূচির প্রভাব পড়েছে শান্তিগঞ্জ উপজেলার নিম্নআয়ের মানুষের দৈনন্দিন জীবনে।

অন্যান্য সময়ের তুলনায় দিনমজুর, রিকশা-ভ্যানচালক,নিম্নমবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির ব্যবসায়ীদের উপার্জন প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। কার্যত বেকার হয়ে পড়েছেন পরিবহণ সেক্টরের সঙ্গে জড়িত থাকা অনেক শ্রমিক। যদিও অবরোধ উপেক্ষা করে স্থানীয়ভাবে কিছু যানবাহন চলাচল করছে, তবে মহাসড়কে সিলেট-সুনামগঞ্জ-জগন্নাথপুর-দিরাইগামী যাত্রীবাহী বাসের সংখ্যা একেবারেই কম।

পরিবহণ শ্রমিক ছাপিয়ে এই কম যানবাহনের প্রভাব পড়েছে উপজেলার ক্ষুদ্র ও মাঝারি মানের ব্যবসায়ীদের ওপর। পথে পথে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা।গুণতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া।
অবরোধের মাঝে পণ্য পরিবহণে বাড়তি ভাড়া গুণায় এর প্রভাব পড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দামে। উপজেলার বাজারগুলোতে কমেছে ক্রেতার উপস্থিতি, কমেছে বেচাকেনা।

সোমবার দুপুরে শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাগলা বাজার, শান্তিগঞ্জ বাজার, আক্তাপাড়া মিনাবাজার, নোয়াখালী বাজার ও পাথারিয়া বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অন্যান্য দিনের তুলনায় বাজারগুলোতে ক্রেতার সংখ্যা কম।স্থানীয় কিছু মানুষ ও বিক্রেতা ছাড়া বাজারে তেমন ক্রেতা নেই।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, অবরোধের কারণে বাইরের ক্রেতা-বিক্রেতারা হাটবাজারে আসতে খুব একটা আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। যতটুকু পারছেন নিজেদের পাড়ার দোকানিদের কাছ থেকে বাজার-সদাই করছেন। দূর-দূরান্তের উপরি ব্যবসায়ীরাও আসছেন কম। গাড়ি ভাড়া বেশি হওয়ায় বাহিরের অনেক ব্যবসায়ীরাও দোকান নিয়ে বাজারে বাজারে আসছেন না।

এদিকে, শান্তিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বাজার ও পয়েন্টে পুলিশের তৎপরতা বেশি থাকার কারণে ছোট ছোট যানবাহন চলাচল করতে খুব একটা অসুবিধা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সিএনজি চালিত অটোরিকশা, লেগুনা ও বাসের একাধিক চালক। তবে রাস্তায় বড় বাসগুলো তুলনামূলক কম দেখা গিয়েছে।এ সুযোগে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে৷ পুলিশের উপস্থিতিতে ছোট ছোট যান চলাচল করলেও চাকলকদের মনে চোরাগোপ্তা হামলার আতঙ্ক কাজ করছে সবসময়।

সংকর দাস নামের একজন চালক বলেন, আমি সুনামগঞ্জ থেকে জগন্নাথপুর লাইনে গাড়ি চালাই। অন্যান্য সময়ের তুলনায় বর্তমানে লাইনে গাড়ি কম। যাত্রী খুব একটা বেশি না। তবে চলার মতো। পয়েন্টে পয়েন্টে পুলিশ প্রশাসন আছেন। তারা আছেন বলেই আমরা গাড়ি নিয়ে বের হই।


পাগলা বাজার বাসস্ট্যান্ডে লাইন্সম্যানের কাজ করেন রয়েল আহমদ। বিনিময়ে সামান্য পারিশ্রমিক পান তিনি। যতদিন ধরে অবরোধ ততদিন ধরেই পারিশ্রমিক বন্ধ তার। তবু প্রতিদিন নিয়ম করে ডিউটিতে আসেন। রয়েল আহমদ জানান, রাস্তায় গাড়ি চলাচল করছে। কিন্তু তা একেবারেই কম। যারা গাড়ি নিয়ে রাস্তায় বের হয়েছেন তারা নিজেদের দায়িত্বে বের হয়েছেন।

পাগলা বাজারে দীর্ঘদিন ধরে ভ্যান চালান পঞ্চাশোর্ধ আশকর আলী। সাতজনের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তিনি। যানবাহন যত বেশি চলবে, তার উপার্জন তত বেশি। বাইরে থেকে বিভিন্ন পন্য আসলে তার ভ্যানের চাকা ঘুরে। হরতাল-অবরোধ শুরু হওয়ার পর থেকেই উপার্জন কমেছে তার। বর্তমানে টানাপোড়েন চলছে তার পরিবারে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত রবিবার সারা দিনে এক টাকাও উপার্জন করতে পারেন নি তিনি।

দেলোয়ার হোসেন নামের এক চা বিক্রেতা বলেন, হরতাল-অবরোধ না হলে আমার দোকানে যত টাকা দৈনিক বেচাকেনা হয় বর্তমানে তা অর্ধেকেরও কম। হাটবাজারে মানুষ থাকে কম। বিক্রিও হয় কম। আমরা সাধারণ মানুষরাই আছি বড় বিপদে।

এএস // আতারা

শেয়ার করুন