১১ নভেম্বর ২০২৩
আজকের সিলেট ডেস্ক : প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতি, এরপর কংগ্রেসম্যান ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যদের চিঠি এসব ঘটনায় আওয়ামী লীগ সরকারের ওপর এক ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করেছে চীন। দেশটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারকে সমর্থন জানিয়ে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়েছে।
বাংলাদেশের আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে যেমন দেশে উত্তেজনা বিরাজ করছে তেমনি পশ্চিমা দেশগুলোতেও তৎপরতা লক্ষ্যণীয়। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের আলাপ উচ্চারিত হচ্ছে বারবার। এদিকে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও অন্যতম বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপির মাঝে এখন পর্যন্ত সংলাপের কোনো সম্ভাবনা দৃশ্যমান হয়নি। এমন বাস্তবতায় আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষক ও সাবেক কূটনীতিকদের মধ্যেও বিরাজ করছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
সম্প্রতি বাংলাদেশের নির্বাচন, গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতা নিয়ে বেশ সরব যুক্তরাষ্ট্র। দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও সরকারি ও বিরোধী দলের রাজনীতিবিদ, বিচারব্যবস্থাসহ বেশ কয়েকটি শ্রেণি-পেশার সদস্যদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। ওয়াশিংটনের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়েও সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উঠে আসে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ।
২০২৪ সালের জানুয়ারির সংসদ নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচনের আহ্বান জানিয়ে গত ৮ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চিঠি পাঠিয়েছেন কানাডার হাউস অব কমন্সের আট সদস্য। একইসঙ্গে ভোট ঘিরে অনিয়ম, সহিংসতা রোধ এবং ভয়-ভীতি প্রদর্শনের কোনো পরিস্থিতি তৈরি না হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তারা।
অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের সম্ভাবনা এখনও ফিফটি-ফিফটি বলে মনে করেন, সাবেক পররাষ্ট্র সচিব মো. তৌহিদ হোসেন। এই বিশ্লেষকের মতে, নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে ততই আন্তর্জাতিক মহলের চাপ বাড়বে। তবে দেশের মানুষের মঙ্গল চিন্তা করে সব রাজনৈতিক দলেরই বোধোদয় হবে বলে আশাবাদ জানিয়েছেন তিনি।
আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য সচিব ড. শাম্মী আহমেদ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমরা অন্যান্য দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখি, তবে মাতব্বরি পছন্দ করি না। দেশের জনগণও তা পছন্দ করে না। দেশের মানুষ আওয়ামী লীগের সঙ্গে আছে, তাই কোনো চাপ অনুভব করছি না। সময়মতো সংবিধান মেনেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।‘
রাজনীতির মাঠে সরকার এবং বিরোধী দল নিজ নিজ অবস্থানে অনড় রয়েছে। আওয়ামী লীগ অবস্থান পরিষ্কার করে জানিয়েছে শর্তহীনভাবে সংবিধান মেনে আলোচনায় রাজি থাকলে সংলাপে যেতে আপত্তি নেই তাদের। তবে সরকারের পদত্যাগ ও নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি না মানলে সংলাপে যাবে না বলে স্পষ্ট করেছে বিএনপি।
আপাতদৃষ্টিতে সরকার এখনও শক্ত অবস্থানে রয়েছে। ফলে একতরফা নির্বাচনের আশঙ্কাও এড়ানো যায় না বলেও মন্তব্য করেন সাবেক কূটনীতিক তৌহিদ হোসেন।
ক্ষমতাসীন দল আন্তর্জাতিক চাপ উপেক্ষা করে একতরফা নির্বাচনের দিকে এগোলে নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি কেমন হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে এই কূটনীতিক বলেন, ‘একতরফা নির্বাচন হলে সেটা তো আর অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। তখন দেশে যেমন রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়বে, আন্তর্জাতিক মহলের চাপ আরও বাড়বে। এটি নিশ্চিতভাবেই দেশ ও মানুষের জন্য ভালো কিছু হবে না।’
এদিকে নির্বাচনে এসে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপিকে জনসমর্থন প্রমাণ করার আহ্বান জানিয়েছেন, সাবেক কূটনীতিক ও তৃণমূল বিএনপির চেয়ারপাসন শমসের মবিন চৌধুরী। বিএনপি ছেড়ে আসা এই রাজনীতিক বলেন, ‘নির্বাচন একতরফা হবে না। বিএনপি নির্বাচনে এলে ভালো, আর আসবে কি আসবে না সেই সিদ্ধান্ত বিএনপির। তবে সেখানে অনেক দল অংশ নিবে বলেই আমি বিশ্বাস করি।’
আন্তর্জাতিক মহলের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে শমসের মবিন চৌধুরী বলেন, ‘কোন পশ্চিমা দেশের কথা বলছেন, যারা গাজা উপত্যকায় গণহত্যা সমর্থন করছে? একদিকে ইসরায়েলকে সমর্থন দেবে আবার বাংলাদেশে গণতন্ত্রের কথা বলবে? অর্থাৎ তাদের এই অবস্থান সাংঘর্ষিক।’
এদিকে গতকাল শুক্রবার ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের ‘টু প্লাস টু’ মন্ত্রী পর্যায়ের সংলাপে যোগ দিতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন দিল্লিতে পৌঁছেছেন। ধারণা করা হচ্ছে ওয়াশিংটন-নয়াদিল্লির দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পাশাপাশি আঞ্চলিক রাজনীতিও গুরুত্ব পাবে এই বৈঠকে।