১০ নভেম্বর ২০২৩
আজকের সিলেট ডেস্ক : সরকার পতন আন্দোলনের চতুর্থ দফা অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। আগামী রবি ও সোমবার ফের ডাক দেওয়া হয়েছে সর্বাত্মক অবরোধ। এদিকে নির্বাচন কমিশন সূত্র থেকে জানা যায়, আগামী মঙ্গল অথবা বুধবার ঘোষণা করা হবে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের তফসিল। আর এই তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচিতেই থাকবে বিএনপি। তবে তফসিল ঘোষণার পর কর্মসূচিতে আরও কঠোরতা আনবে দলটি। এমনটিই জানিয়েছে বিএনপির সিনিয়র নেতারা। সেটা নিয়ে দলের সিনিয়র নেতা ও সমমনা দলগুলোর সঙ্গে বিএনপির হাইকমান্ডের আলোচনা চলছে।
মূলত ২৮ অক্টোবরের বিএনপির ডাকা মহাসমাবেশে সৃষ্ট হওয়া সহিংসতার মাধ্যমে দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রাজপথ। গ্রেপ্তার হন দলটির মহাসচিব, সিনিয়র নেতাসহ প্রায় ৭ সহস্রাধিক নেতাকর্মী। মামলা হয় প্রায় ৩৫ হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। যারা বাইরে আছেন তারাও মামলার আসামি হয়ে কৌশলী অবস্থানে আছেন। রাজপথে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছেন মাঠপর্যায়ের তৃণমূল নেতারা। হরতাল ও তিনদফা অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন তারা। যদিও এসব কর্মসূচিতে নেতাকর্মীর সংখ্যা আশাব্যঞ্জক নয়। অবশ্য এসব বিষয়ে বিএনপির নেতারা বলছেন, সংখ্যা বড় বিষয় নয়। জেলা, উপজেলা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে কর্মীরা মাঠে আছে।
বিএনপির একটি সূত্র জানায়, তফসিল ঘোষণার পর নেতাকর্মীদের ‘অলআউট’ নামার পরিকল্পনা রয়েছে। সারা দেশ থেকে ঢাকাকে পুরোপুরিভাবে বিচ্ছিন্ন করতে চায় দলটি। এজন্য জেলা-মহানগর এবং গুরুত্বপূর্ণ উপজেলায় অবরোধ আরও জোরদার করতে সংশ্লিষ্ট এলাকার নেতাদের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য আন্দোলন-কর্মসূচি প্রসঙ্গে বলেন, আমাদের আন্দোলনের মূল লক্ষ্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় নির্বাচন। সরকার যদি গণদাবি উপেক্ষা করে এই প্রহসনের নির্বাচনের দিকে ধাবিত হয় সেক্ষেত্রে তা প্রতিহত করতে যা যা করার দরকার বিএনপি তাই করবে।
তিনি জানান, আবারও হরতালসহ ঘেরাও এবং অবস্থান কর্মসূচির মতো কঠিন কর্মসূচি দেওয়ারও পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে।
এদিকে বিএনপির সমমনা জোটের এক শীর্ষ নেতা জানান, যেদিন তফসিল জারি হবে তার পরের দিন থেকে লাগাতার ৪৮ ঘণ্টা হরতাল দেওয়ার চিন্তাভাবনা রয়েছে। সরকার আর বেশিদিন গণগ্রেপ্তার ও দমন-পীড়ন চালাতে পারবে না। কোন কারণে পারবে না? জানতে চাইলে বলেন, এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে চাই না।
বিএনপির এক যুগ্ম মহাসচিব বলেন, পুলিশের গ্রেপ্তার অভিযানের কারণে সিনিয়র নেতারা বের হতে পারছেন না। তবে তফসিল ঘোষণা হলে নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী পুলিশ আর গ্রেপ্তার করতে পারবে না। তখন নেতারা বের হতে পারবেন। তাই তফসিলের পর বড় কর্মসূচি পালনের চিন্তা করছে বিএনপি।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, সকল প্রতিকূলতা-প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে নেতাকর্মীরা বুকে বুলেট বরণ করে নিয়ে রাজপথে দাঁড়াচ্ছে। তারা রাজপথে থাকবে যতক্ষণ না পর্যন্ত দেশের হারানো গণতন্ত্র ফিরে না আসে, অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন না হয়। আমাদের এই সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। আমাদের ঠিকানা হয় কারাগার না হয় রাজপথ।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী বলেন, সরকার নিজের স্বার্থ রক্ষার জন্য দেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। যেটা বাংলাদেশের জন্য চরম দুঃখজনক। এর থেকে উত্তরণ ঘটানো কঠিন হবে। অর্থনৈতিক, আন্তর্জাতিক ও সামাজিকভাবে বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকার যেকোনো মূল্যে নির্বাচন করার চেষ্টা করছে। তারা জানে নির্বাচন করতে না পারলে তারা একেবারে ধ্বংস হয়ে যাবে। সেজন্য তারা একতরফা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে এ দেশের জনগণ সেটা মেনে নেবে না।