১০ এপ্রিল ২০১৮


হাওরবাসী চোখে আতঙ্ক

শেয়ার করুন

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : আকাশে মেঘে দেখলেই আতঙ্কিত হয়ে উঠছেন হাওরবাসী। গত কয়েকদিন ধরে হাওরপাড়ের অসহায় মানুষগুলোর মাঝে সারাক্ষণ সেই পুরোনো আতঙ্ক বিরাজ করছে। কদিন পরই বৈশাখ মাস, এরই মধ্যে ঝড়ের তান্ডব আর বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে হাওরে। দিন গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলেই হাওরবাসীকে হাওরের বাঁধ রক্ষা জীবন বাচাঁর তাগিদে নিতে হয় ঝড়ের সাথে যুদ্ধের প্রস্তুতি।

গত বছর এই সময় ঝড়,বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ী ঢলের কারনে হাওরের বাঁধ ভাঙ্গে যাওয়ায় ফলে হাওর জুড়েই হাহাকার ছিল সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে। একের পর এক দুর্যোগ পিছু ছাড়নি। সেই মহামারীতে এক ফসলী বোরো ধান সম্পূর্ন ডুবার সেই শোক কাটেনি আজও। সব শোক ভুলে নুতন আশায় এবারও হাওরে বোরো ধান বুনেছে যতœ করে কৃষকরা।

গত বছরের সম্পূর্ন বোরো ধান হারানোর পর পর নিঃপ্রান হাওরে যেন আবারও জেগেছে প্রান। হাওরে মাঠে মাঠে বোরো ধানে এখন সোনালী রং ধারন করছে। জেগেছে কৃষকের বুকের ভিতরে প্রান। কৃষকের মলিন মুখে দেখা দিয়েছে আনন্দের হাসি। জেলার কিছু কিছু এলাকায় ধান পাকা শুরুও করায় কষ্টের ফলানো বোরো ধান কাটছে আর কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছে হাজার হাজার কৃষক পরিবার। ধান কাটার শ্রমিকের সংকটও রয়েছে এবার। এর মধ্যেই নতুন করে আতœংক (ঝড়,তুফান) শুরু হওয়ায় আবারও হাওরের বাঁধ নিয়ে দুশ্চিন্তায় হাওরবাসী।

এদিকে হাওরের প্রকৃতির এই বিরূপ নির্মমতায় হতবাক হাওরবাসী। গত কয়েকদিন সারাদিন প্রচন্ড গরম,সামান্য বৃষ্টি হলে শুরু হয় বিদ্যুৎতের ভেলকিবাজিঁ। চলে নীল আকাশে মেঘের সাথে চলছে সূর্যের লুকোচুরি। হাওরবাসীকে জীবন বাচাঁর তাগিদে নিতে হয় প্রকৃতির সাথে যুদ্ধের প্রস্তুতি।

কৃষক রফিকুল ইসলাম,ফেরদৌস আলম,সাদেক আলী,সবুজ মিয়াসহ জেলার বিভিন্ন হাওর পাড়ের অনেকেই বলেন,এই সময়ে ঝড় ও বৃষ্টিপাত মনে ভয় লাগে কারন গত বছর এই সময়েই টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ী ঢলের পানিতে হাওরের বাঁধ ভেঙ্গে যায়। ÿতিগ্রস্থ হয় হাজার হাজার কৃষিক পরিবার। এবারও মনে হচ্ছে শুরু হয়ে যাবে নাকি ঝড়,তুফান ও বৃষ্টি শুরু হচ্ছে। এবার যেন মরার উপর খারার ঘাঁ হয়ে সামনে এসে এবার না দাড়াঁয় মহান আলøাহর কাছে প্রত্যাশা হাওরবাসীর। তাই ভয়ে ভয়ে আছি।

সুনামগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক ভূঁইয়া জানান, সুরমা নদীর সুনামগঞ্জ পয়েন্টে গত বৃহস্পতিবার পানির উচ্চতা ছিল ১.০৮সেঃ আর গত বছর ছিল ৭.৯সেঃ। এবার আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে আশা করি কোন ক্ষতি হবে না।

সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারন বিভাগের উপ-পরিচালক স্বপন কুমার শাহা জানান, হাওরে প্রায় ২শতাংশ জমিতে বোরো ধান পেকেছে। সেই ধান অনেক কৃষক কাটছেন। আর প্রায় ২৩শতাংশ জমিতে পাকা শুরুর পথে আর বাকী জমিতে শুরু হয়ে আর সময় মতই কৃষকরা কেটে বাড়িতে নিতে পারবেন আশা করি।

(আজকের সিলেট/১০ এপ্রিল/ডি/এমকে/ঘ.)

শেয়ার করুন