৯ এপ্রিল ২০১৮
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : পরিবেশ দূষণের সঙ্গে সঙ্গে বিপন্ন হয়ে পড়ছে নানা প্রজাতির জীববৈচিত্র্য। প্রাকৃতিক জলাশয়ের মাছ তাদের মধ্যে অন্যতম। এক দশক আগেও যে মাছগুলো স্থানীয় বাজারে দেখা যেতো, সেগুলো আজ প্রায় নিশ্চিহ্ন।
আবাসস্থল বিনষ্ট, প্রয়োজনের অতিরিক্ত আহরণসহ অবৈধ মাছ ধরার বিভিন্ন সরঞ্জাম ব্যবহার করে মৎস্য শিকারের ফলে অন্যান্য জলজ জীববৈচিত্র্যের মতো এদের সংখ্যাও দিন দিন অনেক কমেছে।
আমাদের দেশের স্থানীয় জলাশয়গুলোর প্রাকৃতিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা একটি মাছ ‘নারকেলি চেলা’। এই মাছটিও অন্য মাছের মতো বর্ষা ঋতুতে হালকা স্রোতযুক্ত জলাশয়ে প্রজনন করে থাকে।
এ মাছ প্রসঙ্গে কুলাউড়া উপজেলা মৎস্য অফিসার সুলতান মাহমুদ বলেন, ১৪ দশমিক ২ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্যের এ মাছটিকে ‘নারকেলি চেলা’ বলে। এর আরেকটি নাম ‘কাতারি’। ইংরেজি নাম Large razorbelly minnow বৈজ্ঞানিক নাম Salmostoma bacaila (Hamilton)।
মাছটির শারীরিক গঠন সম্পর্কে তিনি বলেন, এর দেহ লম্বা ও চাপা। মুখ তীর্যক। নিচের চোয়াল সিম্ফাইসিয়াল গিঁটবিশিষ্ট। প্রথম ফুলকা খিলানে ফুলকা রাশ্মির সংখ্যা ১৭ থেকে ২১টি। পৃষ্ঠীয় পাখনা খাটো। পৃষ্ঠীয় পাখনার অবস্থান পায়ু পাখনার কিঞ্চিত অগ্রে। আঁইশ অতি ক্ষুদ্র। পার্শ্বরেখা অবতল। পার্শ্বরেখার বরাবর ৮৬ থেকে ১১০টি আঁইশ রয়েছে। পার্শ্বরেখার আড়াআড়ি আঁইশ সারির সংখ্যা ১৭-১৯/৪-৬। দেহের উপরের অংশ ধূসর সবুজ, কখনো রূপালী। পার্শ্বদেশ বরাবর একটি অস্পষ্ট চওড়া সবুজাভ সাদা ডোরা রয়েছে। পাখনা স্বচ্ছ।
এর অবস্থান এবং খাদ্যপ্রক্রিয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই মাছটি নদী, খাল-বিল, হাওর, প্লাবিত ধান ও পাটক্ষেতে দেখা যায়। স্বল্প জলজ উদ্ভিদপূর্ণ পরিষ্কার পানির উপরিভাগে এরা থাকতে ভালোবাসে। এরা জলজ পোকামাকড়, পোকামাকড়ের শূককীট ও প্ল্যাংকটন (জীবাণু বিশেষ) খেয়ে থাকে।
পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় দৈর্ঘ্যের আয়তন প্রায় ১৪ সে.মি. এর বেশি হলেও সচরাচর ৬ থেকে ৮ সে.মি.আকারের মাছগুলোকেই বেশি দেখা যায় বলে জানান কুলাউড়া উপজেলা মৎস্য অফিসার সুলতান মাহমুদ।
(আজকের সিলেট/৯ এপ্রিল/ডি/এসসি/ঘ.)