১০ এপ্রিল ২০১৮


মৌলভীবাজারে সরকারি জলমহাল দখল করে হরিলুট

শেয়ার করুন

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার সরকারি জলমহল ‘শালকাটুয়া ও মাঝের বান্ধ (বদ্ধ) এর মালিকানা দাবি করে অবৈধভাবে দীর্ঘদিন ধরে মৎস্য আহরণ করে লাখ লাখ টাকার রাজস্ব আত্মসাৎ এর অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে এলাকাবাসী দফায় দফায় জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ দিলেও কোনো কাজ হচ্ছে না।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি শাহ মুরাদ মৎস্যজীবী সমিতির সম্পাদক পিন্টু সুলতান এবং পূর্বরক্তা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি আবুল হাসান মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের কাছে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা না নেয়ায় পিন্টু সুলতান পুনরায় ২৫ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ দেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রাজনগর উপজেলার সরকারি জলমহল ‘শালকাটুয়া ও মাঝের বান্ধ (বদ্ধ)’ হাইকোর্টের বিভিন্ন রিট পিটিশন মোকদ্দমার রায়ের আলোকে শাহ মুরাদ মৎস্যজীবী সমিতির আওতায় ৩ বছর মেয়াদে ইজারা প্রদানের যথাযথ নির্দেশনা চেয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ে গত ২০১৭ সালের ১০ ডিসেম্বরে নং ১৬৩৫ ও ১৬৩৮ মূল পত্র পাঠানো হয়। কয়েক মাস ধরে জলমহল দুটির ভুয়া জাল কাগজপত্র তৈরি করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র মৎস্য আহরণ করে লাখ লাখ টাকার রাজস্ব আত্মসাৎ করছে। চক্রটির মূল হোতা রাজনগর উপজেলার খারাপাড়া এলাকার ফজলুল হক নিরু।

এছাড়াও এ চক্রের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে রক্তা এলাকার লুৎফুর রহমান, বাবর মিয়া, আব্দুল হাকিম, চায়না, আকমল, আজমল, তাজমল, আক্তার, রুমেল ও সুলতানসহ ১০-১৫ জনের বিরুদ্ধে।

অভিযোগে পত্রে আরো উল্লেখ আছে, চক্রটির এমন কার্যক্রমে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়ভাবে যে কোনো সময় তদন্ত হলে এই চক্রটির বিরুদ্ধে শতশত লোকের সাক্ষী পাওয়া যাবে। স্থানীয়দের অভিযোগ চক্রটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় দিন দিন বেপারোয়া হয়ে উঠছে তারা।

শাহ মুরাদ মৎস্যজীবী সমিতির সম্পাদক ও অভিযোগকারী পিন্টু সুলতান বলেন, হাইকোর্ট নির্দেশনা ও ভূমি মন্ত্রণালয়ে বিবেচনাধীন থাকা অবস্থায় ফজলুল হক নিরুর নেতৃত্বে একটি চক্র জলমহল দুটি আত্মসাৎ করে আসছে এবং শালকাটুয়া বিলের নয়াকাল নামক স্থানে বাঁধ কেটে ঘরি জাল দিয়ে লাখ লাখ টাকার মাছ অবৈধভাবে ধরছে। আমরা দফায় দফায় ডিসির কাছে অভিযোগ দিয়েছি কিন্তু প্রশাসন কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না।

পাঁচগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শামছুর নুর আহমদ আজাদ বলেন, এটা ডিসি অফিস থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এ বিষয়ে আমার কিছু করার নেই।

চক্রটির মূল হোতা ফজলুল হক নিরু অবৈধভাবে মাছ লুটের বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, এবার জনগণ বিল থেকে মাছ আহরণ করছে। কতিপয় লোক আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলেছে।

মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মো. তোফায়েল ইসলাম জানান, দুটি বিল নিয়ে মামলা চলছে। এটা নিয়ে জেলা জলমহল বন্দবস্ত ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্ত ভূমি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এখন আমরা তাদের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি।

অবৈধভাবে মাছ লুটের বিষয়ে তিনি বলেন, এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে মোবাইল কোর্ট ও পুলিশের মাধ্যমে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।

(আজকের সিলেট/১০ এপ্রিল/ডি/কেআর/ঘ.)

শেয়ার করুন