৮ এপ্রিল ২০১৮
ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : ছাতকে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় প্রজাতির অসংখ্য ধান। সময় বাস্তবতা এবং ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপে অধিক ফলনের আশায় উচ্চ ফলনশীল ধান চাষে ঝুঁকে পড়েছে কৃষক।
স্বল্প খরচ ও পরিবেশবান্ধব দেশীয় প্রজাতির ধান চাষ এখন সুদূর অতীত। ৯০ দশকেও হাওরে হাওরে শুধু মাত্র দেশী প্রজাতির ধান চাষাবাদ করা হত। ২০০০ সালের পর থেকে ধীরে ধীরে ছাতকের হাওরে হাওরে চাষাবাদ হচ্ছে উচ্চফলনশীল ধান।
বর্তমানে হাওরের পথ ধরে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত গেলেও তেমন একটা চোখে পড়েনা দেশী জাতের ধান। হাতে গুণা দু’একজন কৃষক কিছু দেশী প্রজাতির ধান চাষাবাদ করেন। তা একেবারেই কম। যা চোখে পড়ার মত না।
সরজমিন উপজেলার নাইন্দা, ডেকার ও চাউলীর হাওরসহ একাধিক হাওর ঘুরে দেখা যায় একই চিত্র। বিস্তীর্ণ সবুজের সমারোহে এখন শুধু উচ্চ ফলনশীল ধান চাষাবাদ করছেন কৃষক।
ছাতক উপজেলাসহ সুনামগঞ্জ জেলায় যেসব দেশীয় প্রজাতির ধান ইতিমধ্যে হারিয়ে গেছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো নাজিশাইল, লাকাই, গচি, বাইগুন বিচি. ধলকাচাই, গড়িয়া, মৌমাইল, পানি শাইল, টেপি, রঙ্গিলা, আছিন, রাতা, টেপি সহ প্রায় ২০ প্রজাতির প্রকৃতিবান্ধব দেশী প্রজাতির ধান বিলীন হয়ে গেছে।
দু’একটা প্রজাতি যৎসামান্য টিকে থাকলেও আগামী দু’এক বছরের মধ্যে তাও বিলীন হয়ে যাবে বলে কৃষকদের ধারনা। বর্তমানে শুধুমাত্র লাকাই ধান নাম মাত্র কিছুটা চাষাবাদ করছেন দু’একজন কৃষক।
উপজেলার বৃহত্তম নাইন্দার হাওরপাড়ের কৃষক আব্দুল মতলিব বলেন, দেশী ধানে ফলন কম এ কারণেই তিনি উচ্চফলনশীল ধান চাষাবাদ করেন। চলতি বছর তিনি শনির হাওরে ৮ একর জমিতে ব্রি আর-২৮ জাতের উচ্চ ফলনশীল ধান চাষাবাদ করেছেন।
চাউলীর হাওরের কৃষক ইউনুছ আলী জানান, পরিবারের খাবার ধান সংগ্রহ করার জন্য তিনি কিছু জমিতে লাকাই ধান চাষাবাদ করেছেন। তার মতে দেশী জাতের ধানের চাল খেতে স্বুস্বাদু।
গবেষক পাভেল পার্থ’র মতে হাওরাঞ্চলে দেশী জাতের ধান যত দিন চাষাবাদ ছিল ততদিন গ্রামে গ্রামে পিঠা পায়েস, চিড়া, খই, মুড়ি তৈরির ধুমও ছিল। এখন সেটা তেমন আর চোখে পড়ে না। তিনি আরও বলেন, সরকার ও কৃষক পর্যায়ে যদি দেশি জাতের ওইসব ধান সংরক্ষণ করা না যায় তা হলে পরবর্তী প্রজন্ম এ সম্পর্কে কিছুই জানতে পারবে না।
ছাতক উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কেএম বদরুল হক বলেন, ‘বেশি ফলনের আশায় হাইব্রিড জাতের ধান চাষে কৃষকরা আগ্রহী হচ্ছেন। ফলে দেশি জাতের ধান হারিয়ে যাচ্ছে।’
(আজকের সিলেট/৮ এপ্রিল/ডি/কেআর/ঘ.)