২৮ অক্টোবর ২০২৩


প্রমিলা ফুটবলে সিমার সফলতা সুনাম জুম্মন লুসাই একাডেমির

শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক :

‘শোনো নারী/তুমি চাইলেই পারো সব/চোখ বুজে কেন?/কেন রবে মুখ চেপে আঁচলে/তোমরাই তো জলতরঙ্গে সুর-তাল-লয় এনেছো’ যেখানে পুরুষরা ব্যর্থ, সেখানে নারীরা সফল। ফুটবলের কথা বলছি। চর্মগোলকের এই খেলাটিতে সাম্প্রতিক সময়ে নারী ফুটবলের অভাবনীয় সাফল্য সত্যিই তাক লাগিয়ে দেয়ার মতো। আর জাতীয় নারী ফুটবলারদের সাফল্যে এখন বাংলাদেশের সব জায়গায় গড়ে উঠেছে ছোট বড় প্রমিলা ফুটবলার।

ঠিক তেমনি এক ফুটবলার সাফল্যের সাথে খেলে যাচ্ছেন তিনি হচ্ছেন জুম্মন লুসাই স্পোর্টস একাডেমির ডিফেন্ডার সিমা বেগম। ২০১৬ সালে ফুটবলে পর্দাপণ করেন এই প্রমিলা ফুটবলার। ধীরে ধীরে সিলেটের উপজেলা জেলা বিভাগ থেকে শুরু করে সিলেটের বাইরে গিয়েও বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলায় দূতি জড়াচ্ছেন ফুটবল খেলার মাধ্যমে। তার বাবা একজন ভূষিমালের দোকানদান এটাই তাদের পরিবারের আয় উপার্জনের একমাত্র সম্বল। চার ভাই বোনের মধ্যে সিমা আক্তার তিন নাম্বার। ছোট বেলা থেকেই স্বপ্ন দেখত ফুটবলার হওয়ার। তবে ফুটবলার হতে গিয়ে নানা সময় হতে হয়েছে বাঁধা বিপত্তির সম্মুখীন। তবে এখন সব বাঁধা চরাই উতরাই পেরিয়ে সফলতার ধার প্রান্তে সিমা বেগম।

২০০৩ সালের ৫ই মে জন্মগ্রহণ করেন ২০১৬ তে ফুটবলে পর্দাপণ করে এবং বর্তমানে বেশ পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছে ক্রীড়া অঙ্গনের প্রমিলা ফুটবলার হিসেবে। সুগন্ধা ফুটবল একাডেমির মাধ্যমে ফুটবল অঙ্গনে পর্দাপণ করলেউ তার ফুটবলের সুনাম ছড়িয়ে পড়ে ২০১৯ সালে জুম্মন লুসাই স্পোর্টস একাডেমিতে প্রবেশের মাধ্যমে তার খেলার মোড় ঘুরে দাঁড়ায়। জুম্মন লুসাই স্পোর্টস একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি মারিয়ান চৌধুরী মাম্মির আন্তরিক প্রচেষ্টায় সে তার সফলতা পেতে শুরু করে। বর্তমানে সিলেট বিভাগের প্রমিলা ফুটবল অঙ্গনে একজন সেরা ডিফেন্ডার। জুম্মন লুসাই স্পোর্টস একাডেমির হয়ে খেলেছেন সুনামগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার, সিলেট, হবিগঞ্জ সহ সিলেটের বিভিন্ন উপজেলায়। সিমা বেগম ঢাকার ফরাশগঞ্জ ক্লাবের হয়ে খেলেছেন । খেলেছেন বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলার প্রমিলা ফুটবল টুর্ণামেন্ট এবং ফুটবল লীগ। বর্তমানে জুম্মন লুসাই স্পোর্টস একাডেমির সেরা ডিফেন্ডার হিসেবে খেলছেন। তার প্রতিভার মধ্যে বিশেষ প্রতিভা হচ্ছে ফ্রি_ কিকে গোল করা যার ফলে সিলেটের অনেক ক্রীড়া প্রেমীরা তাকে ফ্রি কিক সিমা বলে ডেকে থাকেন। তার কর্ণার শর্ট ও পাস অসাধারণ। সিমা আক্তারের সাথে কথা বলে আরও জানা যায় ভবিষ্যতে সে বাংলাদেশের জাতীয় মহিলা ফুটবল দলের হয়ে লাল সবুজের জার্সি গায়ে জড়িয়ে ফুটবল খেলতে চান জাতীয় দলের হয়ে।

তার এলাকার মানুষদের সাথে কথা বলে আরও জানা যায়, এক সময় তারা চাইত না তাদের এলাকার মেয়েরা এভাবে ফুটবল খেলুক। তারা মনে করত ফুটবল খেলা শুধু ছেলেদের। সিমার ফুটবল খেলায় ২০১৮ সালে অনেক বাঁধার সম্মুখীন হতে হয় তবে সেই বাঁধা পেরিয়ে যখন সে তার এলাকা এবং উপজেলার সুনাম নিয়ে আসে ফুটবল খেলার মাধ্যমে তখন সকলে তার প্রশংসায় ভাসায় সিমাকে।

সিমা বেগম বলেন, এই সব কিছুর পিছনে অবদান রেখেছেন সব থেকে বেশি জুম্মন লুসাই স্পোর্টস একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি মারিয়ান চৌধুরী মাম্মি। সিমা বেগম আরও বলেন আমার এই সবকিছু পাওয়া হত না যদি না মেডাম মারিয়ান চৌধুরী মাম্মি আমার পাশে না থাকত। সেই সাথে ধন্যবাদ জানাই জুম্মন লুসাই স্পোর্টস একাডেমির কোচ ও আমার সহকর্মীদের সহ ফুটবল অঙ্গনের যারা আমাকে প্রতিনিয়ত উৎসাহ প্রদান করে যাচ্ছেন।

এখন বর্তমানে বাংলাদেশসহ সিলেটের বিভিন্ন জেলা উপজেলায় প্রমিলা ফুটবলের মাঠ দাঁপিয়ে বেড়াচ্ছেন সিমা বেগম।

আজকের সিলেট ডটকম / জেকেএস

শেয়ার করুন