৫ এপ্রিল ২০১৮


ভয় কাটছে না রাইসার

শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : মা ও ভাইকে খুন হতে দেখেছে পাঁচ বছর বয়সী কন্যা শিশু রাইসা। তার চোখের সামনে ভাসছে সেই মুহুর্তের দৃশ্য। ঘাতকরা গলা টিপে তাকেও হত্যা করতে চেয়েছিল। তবে, গলা চেপে ধরার পর সে অজ্ঞান হয়ে পড়ায় মৃত ভেবে ফেলে রেখে চলে যায় তারা। পরে তার জ্ঞান ফিরলে বিছানায় পড়ে থাকতে দেখে মা ও ভাইয়ের লাশ।

দরজা তালাবদ্ধ থাকায় ঘর থেকে বের হতে পারছিল না সে। এভাবে পেরিয়ে যায় এক দিন। কান্না করতে থাকে সে। পরে তার মামা গিয়ে কান্নারত অবস্থায় তাকে দেখতে পান। খবর দেওয়া পুলিশকে। পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। উদ্ধার করে মা ও ভাইয়ের লাশও। পরে তাকে নেওয়া হয় পুলিশ হেফাজতে। এরপর গত তিনদিন ধরে কোতোয়ালি মডেল থানার ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রয়েছে শিশু রাইসা।

তবে, সে স্বাভাবিক হতে পারছে না। তাছাড়া এখনও মৃত্যু ভয় কাটছে না তার। কিছুক্ষণ পরপর বারান্দার গ্রিলের পাশে দাঁড়িয়ে অথবা অভ্যর্থনা টেবিলে বসে চিৎকার করে কান্না করছে। পুরুষ কাউকে দেখলে ভয়ে আঁতকে উঠছে। দরজার আড়ালে দৌঁড়ে গিয়ে লুকিয়ে থাকছে সে। লুকিয়ে রাখছে তার কক্ষের চাবিও। এমনটি জানালেন সংশ্লিষ্টরা।

ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে গিয়েও তাকে চিৎকার করে কান্না করতে দেখা গেছে। ছোট রাইসা চিৎকার করে বলছে, ‘‘আমার মা আমায় অনেক আদর করত, ভাইয়া অনেক আদর করত, তাদের মেরে ফেলেছে। আল্লাহ তাদের জান্নাত দিও।’

গত ১ এপ্রিলে সিলেট নগরীর মিরাবাজার খারপাড়ার ভাড়া বাসা থেকে রোকেয়া বেগম (৪০) ও তার ছেলে এসএসসি ফলপ্রার্থী রবিউল ইসলাম রোকনের (১৫) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সেখান থেকে তার মেয়ে শিশু রাইসাকে (৫) জীবিত উদ্ধার করা হয়।

কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি (তদন্ত) রোকেয়া বেগম বলেন, ‘হত্যার ঘটনায় রাইসার মনে এখনো ভয় কাজ করছে। এমনকি তাকে যে কক্ষে রাখা হয়েছে, সেই কক্ষের চাবি সে বার বার লুকিয়ে রাখছে। তার ধারণা এখানে এসে কেউ তাকে মেরে ফেলতে পারে। কোনো ছেলে বা পুরুষ দেখলে রাইসা লুকিয়ে থাকে।’

তিনি আরো জানান, ‘মা ও ভাই হত্যার একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী রাইসা। এ কারণে তার জবানবন্দি মামলার প্রধান সূত্র হিসেবে কাজ করবে। তার অবস্থা স্বাভাবিক না হওয়ায় তাকে সেভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা যাচ্ছে না। তবে, মঙ্গলবার রাতে আটক নাজমুলের ছবি দেখানোর পর সে তাকে সনাক্ত করতে পেরেছে।’

এ ঘটনায় নিহত রোকেয়ার ভাই জাকির হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে সদর উপজেলার বটেশ্বর এলাকা থেকে নাজমুল ইসলামকে (৩২) গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি উপজেলার মুক্তির চক এলাকার মৃত আব্দুল করিমের ছেলে। তাকে সাত দিন রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

(আজকের সিলেট/৫ এপ্রিল/ডি/এমকে/ঘ.)

শেয়ার করুন