২৩ অক্টোবর ২০২৩


ছাতক সিমেন্ট কারখানার কোটি টাকার চুনাপাথর বিক্রি : তোলপাড়

শেয়ার করুন

ছাতক (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা : ছাতক সিমেন্ট কারখানার কোটি টাকার চুনাপাথর রাতের আঁধারে বিক্রি করে দেয়ার ঘটনায় অভিযোগে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে।  শুক্রবার (২০ অক্টোবর) রাতে কারখানার সীমাস্তবর্তী ডাম্পিং সাইড থেকে প্রায় ১০ হাজার মেট্রিক টন চুনাপাথর চোরাই পথে বিক্রি করে বিক্রিত অর্থ আত্মসাত করার অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনা নিয়ে সামালোচনার মুখে পড়েছেন ডাম্পিং সাইডের দায়িত্বে থাকা ইফসুফ মিয়া নামের কারখানা কর্মকর্তা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দু বছর আগে দেশের প্রাচীনতম শিল্প প্রতিষ্ঠান ছাতক সিমেন্ট কারখানা যান্ত্রিক বিভিন্ন সমস্যার কারনে উৎপাদন স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে পড়ে। একই সাথে কারখানায় নতুন ড্রাই প্রসেস প্রকল্পের কাজও শুরু করা হয়। পুরাতন কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হওয়ার সুযোগে কতিপয় অসাধু দুনীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারী লুটপাটে জড়িয়ে পড়েন। পুরাতন কারখানার বিভিন্ন মালামাল প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে চোরাই পথে বিক্রি করা শুরু হয়। কারখানার মূল্যবান মালামাল চুরি করে বিক্রি করতে গিয়ে একাধিকবার ধরা পড়লেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনী কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
অভিযোগে প্রকাশ, উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের সীমাস্তবর্তী নোয়াকোট এলাকায় রয়েছে কারখানার একটি বিরাট ডাম্পিং সাইড। ভারতের মেঘালয় রাজ্যের কুমেরা অঞ্চলের কারখানার নিজস্ব খনী প্রকল্প থেকে কারখানার প্রধান কাচামাল চুনাপাথর এনে নোয়াকোট এলাকায় ডাম্পিং করে রাখা হতো। পরে সেখান থেকে ডাম্পিংকৃত চুনাপাথর রোপওয়ের মাধ্যমে কারখানার মুল প্লান্টে নিয়ে আসা হতো। প্রায় দু বছর আগে উৎপাদন বন্ধ হওয়া ছাতক সিমেন্টর কারখানার কয়েক লাখ টন চুনাপাথর বিভিন্ন সময়ে সেনাকল্যাণ সংস্থার নামে বৈধ ও অবৈধভাবে বিক্রি করা হয়।

এ নিয়ে ব্যবসায়ী ও কারখানা কর্তৃপক্ষের মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়। এর পরও নোয়াকোট ডাম্পিং সাইডে ১০-১২ হাজার মেট্রিক টন চুনাপাথর থেকে যায়। দীর্ঘদিন অবহেলায় পড়ে থাকা এসব চুনাপাথর মাটির আবরণে বেশির ভাগই ঢাকা পড়ে যায়। শুক্রবার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নাম করে ডাম্পিং সাইডে পড়ে থাকা সর্বশেষ চুনাপাথর রাতের আধারে নৌকা লোড করে বিক্রি করা হয়। এ নিয়ে এলাকায় সৃষ্টি হয় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া। বিষয়টি নিশ্চিত করতে ডাম্পিং সাইডের দায়িত্বে থাকা কারখানার ইউসূফ মিয়াকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, তাদের কোন চুনাপাথর নেই। মাটির নিচে পড়ে থাকা কিছু পাথর স্থানীয় মসজিদের নামে দেয়া হয়। বিষয়টি কারখানার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জানা আছে। এসময় ইউসূফ মিয়ার কথাবার্তায় বেশ অসঙ্গতি লক্ষ্য করা গেছে।

এ ব্যাপারে কারখানার ড্রাই প্রসেস প্রকল্পের ডিপিডি আব্দুর রহমান বাদশা বলেন, তিনি পুরাতন কারখানার কোন দায়িত্বে নেই। যে কারনে এ ব্যাপারে তিনি কিছু বলতে পারবেন না। কারখানার এমডি অমল কৃষ্ণ বিশ্বাস বলেন, চুনাপাথর বিক্রি ব্যাপারে তিনি কিছ’ জানেন না।

শেয়ার করুন