২১ অক্টোবর ২০২৩
আজকের সিলেট ডেস্ক : বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি সিলেট মহানগর শাখার ডাকে স্বাধীনতাকামি নির্যাতিত ফিলিস্তিনিদের উপর ইহুদিবাদী ঈসরাইলী বাহিনীর বর্বর গণহত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত। শুক্রবার (২০ অক্টোবর) বাদ জুমআ’ ঐতিহাসিক সিলেট কোর্ট পয়েন্টে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
মহানগর সেক্রেটারি মাও. সিরাজুল ইসলাম, জয়েন্ট সেক্রেটারি মুফতি আব্দুর রহমান শাহজাহান, প্রচার সম্পাদক মাও. মাছুম আহমদের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় ইমাম সমিতি সিলেট মহানগর শাখার সভাপতি মাও. হাবীব আহমদ শিহাব। জুমআর নামাজের পর থেকেই সিলেট মহানগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে ইমাম সাহেবদের নেতৃত্বে এবং বিভিন্ন ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সামাজিক ,রাজনৈতিক জনপ্রতিনিধিদের নেতৃত্বে সিলেটের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের একের পর এক বিশাল বিশাল মিছিল কোর্ট পয়েন্টে জমা হতে থাকে।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য পেশ করেন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি এডভোকেট শাহিনুর পাশা চৌধুরী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা রেজাউল করিম জালালী, জমিয়ত সিলেট জেলা উত্তরের সভাপতি শায়খুল হাদিস আতাউর রহমান কোম্পানীগঞ্জী, সিলেট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মোস্তাক আহমদ খান, বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডাক্তার মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল, জাতীয় ইমাম সমিতির সিলেট জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা এহসান উদ্দিন, ইসলামী আন্দোলননেতা এডভোকেট মাহমুদুল হাসান, সিলেট মহানগর জমিয়ত সভাপতি মাওলানা খলিলুর রহমান, ইমাম সমিতি মহানগর সহসভাপতি মাওলানা শহীদ আহমদ, মাওলানা শাহ আশরাফ আলী মিয়াজানী,মাও.এখলাসুর রহমান, মাওলানা আব্দুস সালাম, মাওলানা নুর আহমদ কাসেমী, মাওলানা আহমদ হোসেন, ১৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল মুহিত জাবেদ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি আফসার আজিজ, সিলেট কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা কামাল আহমদ, কুদরতউল্লাহ জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব হাফিজ মাওলানা মিফতাহ উদ্দিন, শাহ আবু তুরাব মসজিদের ইমাম মাওলানা মুফতি বেলাল আহমদ, বাইতুল আমান জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মুফতি রশিদ আহমদ, সিলেট মহানগর খেলাফত মজলিস সভাপতি তাজুল ইসলাম হাসান প্রমুখ ।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, যুগ যুগ ধরে ইসরাইলের ইহুদীরা ফিলিস্তিন দখল করে আছে। এবং সেখানে নিরিহ ফিলিস্তিনিদের উপর নির্মম নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে আসছে। অথচ বিশ্বের কোন মানবাধিকারের ফেরিওয়ালারা কোন কথা বলতে দেখা যায় নি। কিন্তু যখনই ফিলিস্তিনের নির্যাতিত মানুষের পক্ষে কোন আত্মরক্ষামূলক কাজ করা হয় তখনই ইহুদীদের মিত্র আমেরিকা ও তাদের দালাল পশ্চিমা দেশগুলো মানবাধিকারের দুহাই তুলে সন্ত্রাসী ইহুদীদের আরো উস্কে দেয়। যার ফলে তারা ফিলিস্তিনের নারী, পুরুষ, বৃদ্ধ নির্বিচারে সবাইকে হত্যা করে। আহত, অসুস্থ রোগীদের পর্যন্ত হাসপাতালে বোমা মেরে হত্যা করছে। ফিলিস্তিনে অবস্থিত মুসলমানদের পবিত্র স্থান মসজিদুল আকসাতে ঢুকেও মুসলমানদেরকে হত্যা করতেছে। এবং মসজিদকে ধ্বংস করছে।
বক্তারা বলেন, এমন পরিস্থিতিতে জাতিসংঘসহ ইজরায়েলের মিত্র সকল রাষ্ট্রকে চিন্তা করতে হবে এরকম বর্বর গণহত্যা মানবাধিকার লঙ্ঘন যুদ্ধাপরাধে মত ঘৃণিত কাজের নগ্ন পক্ষাবলম্বন করে তারা নিজেদেরকে কি মানবতার শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করছেন? কেন তারা ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলছেন না? এ সকল অপরাধ মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং গণহত্যার দায় কি তারা নেবেন? তারা যদি সত্যিকার অর্থে মানবাধিকার এবং মানবতার পক্ষের বলে নিজেদেরকে মনে করেন তাহলে তাদের উচিত ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতার জন্য এই অত্যাচার থেকে মুক্ত করার জন্য জাতিসংঘের মাধ্যমে স্থায়ী সমাধানের ব্যবস্থা করা। মসজিদে আকসাকে নিরাপদ ভাবে মুসলমানদের জন্য ছেড়ে দেওয়া। তা না হলে মুসলমান সকল রাষ্ট্রগুলোকে একজোট হয়ে মানবতার পক্ষে, মজলুমের পক্ষে ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতা উদ্ধারে যে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
এএস // প্রেবি // আতারা