১৭ অক্টোবর ২০২৩


সিলেটে রাস্তায় বসতে হচ্ছে পদ্মা ইসলামী লাইফ ইনসিওরেন্স-্এর বীমাকারকদের

শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : টাকা ফেরত না পেয়ে রাস্তায় বসতে হচ্ছে পদ্মা ইসলামী লাইফ ইনসিওরেন্স লিঃ সিলেট অফিসের হাজারো বীমা গ্রাহককে। সময়মত আমানত ফেরত না পেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে পদ্মা ইসলামী লাইফ ইনসিওরেন্স লি. সিলেট অফিসের গ্রাহকদের।

পদ্মা ইসলামী লাইফ ইনসিওরেন্স লিঃ নামীয় অর্থলগ্নী বীমা কোম্পানীর বর্তমান মালিক এস.আলম গ্রুপ, যার সত্বাধিকারী সাইফুল আলম। এই গ্রুপের সিলেট অফিস হাতিয়ে নিয়েছে হাজার হাজার গ্রাহকের কোটি কোটি টাকা। টাকা ফেরত না দেওয়ায় রাস্তায় বসেছেন বীমা গ্রাহকরা। অনেক গ্রাহকের বীমার মেয়াদ এক থেকে দেড় বছর আগে উত্তীর্ণ হয়ে গেলেও তাদের আমানত ও মুনাফা ফেরত দিচ্ছে না বীমা কোম্পানী পদ্মা ইসলামী লাইফ ইনসিওরেন্স লিঃ । ফলে প্রতিদিনই কোম্পানীর সিলেট অফিসে আমানতদার বীমাগ্রাহকরা ভিড় করে নানা দেন-দরবার করছেন অফিসের দায়িত্বশীলদের সাথে। দায়িত্বশীলরা তাদের আমানত ফেরত দিতে অপারগতা প্রকাশ করেই চলেছেন।

এতে করে কোম্পানীর সিলেট অফিসে নানা অঘটনের আশংকা করা হচ্ছে এবং যে কোনো সময় দায়িত্বশীলরা অফিস গুটিয়ে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মঙ্গলবার (১৭ অক্টোবর) সিলেট অফিসে আসা বীমা কারক সালাহ সালাহ উদ্দিন বাদশা মিয়া গণমাধ্যমকে জানান, পদ্মা ইসলামী লাইফ ইনসিওরেন্স লিঃ সিলেট অফিসে তার বীমার মূলধন ২লাখ ৫৮ হাজার টাকা। দীর্ঘ দিন বীমা পরিচালনা করে আসছিলেন তিনি। আজ থেকে প্রায় ৯ মাস আগেই তার বীমার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও টাকার রঅভতো দূরের কথা , মূল আমানতটাও ফেরত পাচ্ছেন না। আজ দেবে কাল দেবে, আগামী সপ্তাহে দেবে এমনটা বলে আসছেন সিলেট অফিসের দায়িত্বশীলরা। এভাবে দীর্ঘ ৮ মাস ধরে তিনি সিলেট আসা-যাওয়া করছেন এবং অফিসের বারান্দায় বসছেন।

বিয়ানী বাজারের আনেয়ারা বেগমের বীমার মূলধন ৪লাখ ৬২ হাজার টাকা। এবছরের জুলাই মাসে বীমার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও তিনি তার মূলধনসহ টাকা ফেরত পাচ্ছেন না। এমন অভিযোগ করেছেন নূরুল ইসলাম নামের আরেক বীমাগ্রাহক।

তারা বলছেন, ইসলামী নিয়মে লাভের আশায় জায়গা জমি ও সোনাগহনা বিক্রি করে তারা টাকা বীমা করে এখন তাদের পথে বসতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে পদ্মা ইসলামী লাইফ ইনসিওরেন্স লিঃ সিলেট অফিসের জিএম এনাম উদ্দিন জানান, গত ভয়াবহ বন্যার পর থেকে সিলেটে বীমাকারকদের সংখ্যা জিরোতে নেমে আসায় আমরা সিলেট অফিস থেকে টাকা দিতে পারছি না। আমরা কেন্দ্রীয় অফিসে বিলপত্র পাঠিয়েছি। কিন্তু কোম্পাপনী কর্তৃপক্ষ ফান্ড দিচ্ছে না বিধায় আমরা আমানত পরিশোধ করতে পারছি না।

এ বিষয়ে জানতে বুধবার বিকেলে পদ্মা ইসলামী লাইফ ইনসিওরেন্স লিঃ সিলেট অফিসে গিয়ে জোনাল ইভিপি শারমিন আক্তারকে পাওয়া যায়নি। তার সেলফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি সাংবাদিকের মোবাইল ফোন রিসিভ করেননি।

পদ্মা ইসলামী লাইফ ইনসিওরেন্স লিঃ প্রধান কার্যালয়ের এমডি নূর মোহাম্মদের সাথে সেলফোনে কথা হলে তিনি জানান, আমরা করো টাকা আত্মসাত করিনি। আমরা পর্যায়ক্রমে টাকা ফেরত দিচ্ছি এবং দেব। গত তিন বছর ধরে মূনাফার পার্সেন্টিজ হ্রাস পাওয়ায় পালিসিগত জঠিলতার কারণে গ্রাহকদের টাকা ও আমানত ফেরত দিতে বিলম্ব হচ্ছে।

শেয়ার করুন