১৬ অক্টোবর ২০২৩
ডেস্ক রিপোর্ট : দেশের প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় লিডিং ইউনিভার্সিটির স্থাপত্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক স্থপতি রাজন দাসকে অব্যাহতি প্রদান করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
গত বৃহস্পতিবার প্রায় অর্ডজন অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে অব্যাহতি দেওয় হয় বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. মফিজুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগবিধি ও যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই রাজন দাসকে চাকুরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
গত ২০০৭ সালে লিডিং ইউনিভার্সিটির স্থাপত্য বিভাগের প্রভাষক পদে যোগদান করেন স্থপতি রাজন দাস। যোগদানের পর থেকেই তার বিরোদ্ধে নিয়মভঙ্গসহ রকমারি অভিযোগ বছরজুড়েই লেগে থাকে। নানান সময়ে বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের তদবির-সুপারিশে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক এবং স্থাপত্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ বাগিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ কবরা হয় তার বিরুদ্ধে ।
বিশ্ববিদ্যালয়র্ কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়, ৯ অক্টোবর পেশাগত ‘অসদাচর ’-এর কারণ দর্শানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে নোটিশ দেওয়া হয় স্থপতি রাজন দাসকে। রাজন দাস নোটিশের জবাব এড়িয়ে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত সময় দাবি করেন। কর্তৃপক্ষ সময় মঞ্জুর না করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি মোতাবেক তাতে চাকুরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
এদিকে লিডিং ইউনিভার্সিটির ৭০ তম সিন্ডিকেট সভায় স্থপতি রাজন দাসের অব্যাহতি আদেশ অনুমোদন দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় লিডিং ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের ২৩ তম সভায় এর চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক লিডিং ইউনিভার্সিটির স্থাপত্য বিভাগের একজন সাবেক শিক্ষার্থী বলেন, রাজন স্যারকে বেআইনিভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে আমরা শুনেছি। তবে তাঁর বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ আত্মসাৎ এবং বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। জুনিয়রদের মাঝেও বিষয়টি ভুলভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
স্থাপত্য বিভাগের অস্থায়ী শিক্ষক আবু সাইদ চৌধুরীর নেতৃত্বে বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীসহ বহিরাগতদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শুরু হয় অব্যাহতির আদেশ প্রত্যাহারের তোড়জোড়। ক্যাম্পাসে শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত করার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনসহ বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, ডীন এবং প্রোক্টরিয়াল বডির সদস্যদের হস্তক্ষেপে বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়।
লিডিং ইউনিভার্সিটির প্রক্টর মো. মাহবুবুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, স্থাপত্য বিভাগের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দিয়ে তাদেরকে উত্তেজিত করা হয়েছে। আমরা তাদেরকে সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে বুঝাতে সক্ষম হয়েছি।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগতদের অবস্থানের সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে যান দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি সামসুদ্দোহা এবং কামাল বাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম। শ্রেণীকক্ষে পড়ার পরিবেশ ও সামগ্রিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেন তারা। এসময় ওসি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে শিক্ষার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিতে অতীতের মতো আমাদের সহযোগিতা সর্বদা অব্যাহত থাকাবে