১ এপ্রিল ২০১৮
নিজস্ব প্রতিবেদক : নগরীর মিরাবাজারস্থ মিতালী আবাসিক এলাকা থেকে মা ও ছেলের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসময় জীবিত উদ্ধার করা হয় ৫ বছরের একটি শিশুকে। নিহতরা হলেন, রোকেয়া বেগম (৪০) ও তার ছেলে রবিউল ইসলাম রূপম (১৬)। আর উদ্ধার করা শিশুটি রোকেয়ার মেয়ে রাইসা বেগম (৫)।
রোববার দুপুরে মিতালী ১৫/জে নম্বর বাসা থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এদিকে ঘটনার পর থেকে ওই বাসার গৃহকর্মী তানিয়াকে (১৬) খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের মূখপাত্র ও অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ আব্দুল ওয়াহাব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা যায়, রোকেয়া বেগম তার ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে খাড়পাড়ার মিতালী আবাসিক এলাকার ১৫/জে নম্বর বাসার নিচতলায় ভাড়া থাকতেন। এদিকে তার স্বামী অসুস্থ থাকায় তিনি তার নিজ বাড়ীতেই থাকতেন।
নিহত রোকেয়ার ভাই জাকির হোসেন জানান, গত শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে তিনি তার বোনের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়ায় আজ বোনের বাসায় আসেন। বোনকে অনেক ডাকাডাকির পরও সারা না পেয়ে তিনি উপরতলায় মালিক সালমান হোসেনকে খবর দেন। পরে মালিকের কাছে থাকা একটি চাবি দিয়ে তিনি ঘড়ের ভিতরে ধুকেই দেখেন এক বিছানায় তার বোন রোকেয়া বেগম ও অন্য বিছানায় তার ভাগ্নে রূপমের লাশ পড়ে আছে। পরে তিনি পুলিশকে খরর দিলে পুলিশ এসে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ওই বাসার মালিক সালমান হোসেন জানান, তারা বছরখানেক আগে এই বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে উঠেছিলেন। ওই নারী একটি বিউটি পার্লারে কাজ করতেন এবং তার ছেলে মীরাবাজারের একটি মাদ্রাসায় পড়তো। বাসার অন্য ভাড়াটিয়ারা এ ঘটনার কিছুই টের পাননি। তবে সকালে রোকেয়ার ভগ্নিপতি ফারুক মিয়া এসে বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় কাউন্সিলরের মাধ্যমে পুলিশকে জানিয়েছেন। এরপর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দু্ই রুমে দু’জনের মরদেহ পাওয়া যায়।
এদিকে ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছেন এসএমপির অতিরিক্ত কমিশনার পরিতোষ ঘোষ।
পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, মিরাবাজার খাঁর পাড়ায় মা-ছেলেকে ব্যবসায়িক কিংবা পূর্ব শত্রুতার কারণে হত্যা করা হয়েছে। তাদেরকে ছুরিকাঘাতের পাশাপাশি শ্বাস রোধ করে হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, পুলিশ এরই মধ্যে হত্যার কিছু উৎস পেয়েছে। তবে, এসব বিচার-বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। তিনি এও জানান, উদ্ধার করা শিশুটিকেও হত্যার চেষ্টা চালানো হয়। কিন্তু, সে সময় সে অজ্ঞান হয়ে পড়ায় হত্যাকারীরা তাকে মৃত ভেবে ফেলে যায়।
তিনি আরো জানান, শুক্রবার রাতেই এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে তারা ধারণা করছেন। তিনি মহিলার বাড়ি কুমিল্লার দাউদকান্দিতে। নগরীর বারুতখানা এলাকার হেলাল মিয়া তার স্বামী বলে জানা গেছে। হেলাল মিয়া বর্তমানে পক্ষাগাতগ্রস্ত(প্যারালাইজড)। ওই মহিলার মোবাইল ফোন গত শুক্রবার থেকে বন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। এরপর মহিলার ভাই জাকির হোসেন এসে বাসার কারো সাড়া শব্দ না পেয়ে বাসার মালিককে অবহিত করেন। এরপর স্থানীয় কাউন্সিলর দিনার খান হাসু ও পুলিশের সহযোগিতায় ডুপ্লিকেট চাবি দিয়ে দরজা খুলে দুজনের লাশ পাওয়া যায়।
(আজকের সিলেট/১ এপ্রিল/ডি/এমকে/ঘ.)