৯ অক্টোবর ২০২৩


রঙ তুলির আঁচড়ে রূপ পাচ্ছেন দেবী দুর্গা

শেয়ার করুন

জনি কান্ত শর্মা:

“আশ্বিনের শারদ প্রাতে বেজে উঠেছে আলোকমঞ্জির, ধরনীর বহিরাকাশে অন্তরিত মেঘমালা, প্রকৃতির অন্তরাকাশে জাগরিত জ্যোতির্ময়ী জগতমাতার আগমন বার্তা। প্রতিটি ঋতুর রয়েছে আলাদা রূপ বৈচিত্র তাই প্রকৃতির ধারাবাহিকতায় শরৎ আসে অপরুপ নিজস্বতা নিয়ে। বর্ষার বিদায় শেষে শরৎতের আগমনে প্রকৃতির রঙ ছড়াচ্ছে সুন্দর্যের। শরতের নীল আকাশ আর শ্বেত শুভ্র কাশফুল জানান দিচ্ছে আরও একটি উৎসবের আর তা হচ্ছে শারদীয় দূর্গা উৎসব।

সনাতন ধর্মালম্বীদের মাতৃত্ব ও শক্তির প্রতীক দেবী দুর্গাকে মর্ত্যে আহ্বান জানানোর মাধ্যমে শুরু হতে যাচ্ছে সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এ পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুক্রবার (২০ অক্টোবর) ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে। পূজার সময় ঘনিয়ে আসায় শেষ মুহূর্তে দেবীকে সাজিয়ে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন সিলেটের প্রতিমা তৈরির মৃৎশিল্পীরা।

শিল্পীদের নিপুন হাতের ছোঁয়ায় ইতোমধ্যে মাটির কাজ শেষ করে চলছে রঙ তুলির কাজ। শিল্পীর রঙ তুলির আঁচড়ে গড়ে তোলা হচ্ছে দশভূজা দেবীদুর্গার প্রতিমূর্তী। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে দেবীদুর্গা শক্তি ও সুন্দরের প্রতীক।

এবার সিলেট জেলার ৬১৭টি মন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বলছেন- এবার শ্রাবণ ‘মল মাস’ হওয়ায় কিছুটা দেরিতে দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দুটি অমাবস্যা হওয়া বাংলা মাসকে ‘মল মাস’ বলেন তারা। আর এমন মাসে কোন পূজাপার্বণ হয় না।

এই সময়ে সনাতন ধর্মাবলম্বী কারিগররা ব্যস্ত মূর্তি সাজাতে। আর পূজা কমিটিগুলো ব্যস্ত পূজার স্থান নির্ধারণসহ আনুষাঙ্গিক কাজে। ইতি মধ্যে খড়, কাঠ, সুতা আর মাটি দিয়ে দুর্গাসহ নানা প্রতিমার কাঠামো তৈরী শেষে এখন চলছে প্রতিমায় রং দেয়ার কাজ। শিল্পী নিপুণ হাতে রং তুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তুলছেন দেবী দুর্গা, সরস্বতী, লক্ষ্মী, গণেশসহ নানা প্রতিমা।

আগামী ২০-২৪ অক্টোবর ৫ দিন ব্যাপী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দূর্গা পুজা অনুষ্ঠিত হবে। স্থানীয় শিল্পী ছাড়াও বিভিন্ন স্থান থেকে আগত শিল্পীরা এসে প্রতিমা তৈরি ও রং তুলির কাজ করছেন।

পূজা আয়োজনকারী প্রতিটি কমিটি সূত্রে জানা যায়, পূজোর যাবতীয় উপকরণ, পূজো, পুষ্পাঞ্জলি প্রদান, চন্ডীপাঠ, মহাপ্রসাদ বিতরণ, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আরতী, ভজন কীর্ত্তন, আলোকসজ্জা ও ডেকোরেশনসহ নানান প্রস্তুতি চলছে।

জানা গেছে, এবার সিলেট মহানগর ও জেলায় ৬১৭টি মন্ডপে পূজার আয়োজন করা হয়েছে। তার মধ্যে সার্বজনীন ৫৬৯টি, পারিবারিক ৪৮টি পূজোর আয়োজন হবে।

মহানগরীতে ১৫১টি পূজার মধ্যে সার্বজনীন ১৩৪টি ও পারিবারিক ১৭টি। জেলায় ৪৬৬টি পূজার মধ্যে সার্বজনীন ৪৩৫টি ও পারিবারিক ৩১টি।

জানা যায়, মহানগরীর ৬টি থানা এলাকায় এবার মোট ১৫১টি পূজামন্ডপে পূজার আয়োজন করা হয়েছে। কোতোয়ালী থানা এলাকায় ৩৯টি, জালালাবাদ থানা এলাকায় ১৮টি, এয়ারপোর্ট থানা এলাকায় ৩৮টি, শাহপরান থানা এলাকায় ২৩টি, দক্ষিণ সুরমা থানা এলাকায় ১৫টি ও মোগলাবাজার থানা এলাকায় ১৮টি।
অন্যদিকে, জেলায় মোট ৪৬৬টি মন্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে সার্বজনীন ৪৩৫টি ও পারিবারিক ৩১টি। জেলার গোলাপগঞ্জ উপজেলায় ৬৬টি, বালাগঞ্জে ৩২টি, কানাইঘাটে ৩১টি, জৈন্তাপুরে ২৩টি, বিশ্বনাথে ২৫টি, গোয়াইনঘাটে ৩৯টি, জকিগঞ্জে পূজা ৯৮টি, বিয়ানীবাজারে ৫০টি, কোম্পানীগঞ্জে ২৮টি, ফেঞ্চুগঞ্জে ৪০টি এবং ওসমানীনগর উপজেলায় ৩৪টি পূজা অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে, শারদীয় উৎসবে নিরাপত্তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতিনিময় করেছে সিলেট জেলা ও মহানগর পুলিশ।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্র জানিয়েছে, দুর্গাপূজার সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

আজকের সিলেট / জেকেএস

শেয়ার করুন