২ অক্টোবর ২০২৩
খলিলুর রহমান : সিলেটে কিছুতেই বন্ধ হচ্ছে না চিনি’র বুঙ্গা (চোরাচালান)। প্রশাসনের ধারাবাহিক অভিযান সত্ত্বেও ভারত থেকে দেদারছে কচুরিপনার মত আসছে চিনির অবৈধ চালান। শুধু ধরা পড়ছে কেরিয়াররা। ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে নেপথ্যের কারিগররা।
সম্প্রতি বাংলাদেশে চিনির মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং ভারতে তুলনামূলক অর্ধেক দামে চিনি বিক্র হওয়ায় চোরাই পথে দেশে আনা হচ্ছে ভারতীয় চিনি চালানের পর চালান। যদিও চলছে পুলিশের লাগাতার অভিযান। অভিযান চালালেও চোরাচালানী বন্ধে ব্যর্থ হচ্ছে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলঅ রক্ষাকারী সংস্থা। চোরাচালান নেটওয়ার্ক পরিচালানাকারী নেথ্যের কারিগরদের ধরতে না পারায়ই বন্ধ হচ্ছে না চিনির বুঙ্গা। এসব নেটওয়ার্ক নায়কদের মধ্যে রয়েছেন কতিপয় অসাধু পুলিশ, লাইনম্যন ও নামধারী কতিপয় সাংবাদিক।
মূলত এসব লাইানম্যান,নামধারীপুলিশ ও সাংবাদিকই সিলেটে পরিচালনা করছে বুঙ্গার (চোরাচালানের) শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। ওরাই সবসময় লক্ষ্য করে থাকে পুলিশের অভিযাকি গতিবিধি। বৃঙ্গাড়ীদের কাছে সরবরাহ করে থাকে অভিযানের তথ্য। ফলে পুলিশের চোখ ফাকি দিয়ে চোরাকারবারিরা নিয়ে আসতে সক্ষম হয় চিনিসহ ভারতীয় বুঙ্গার চালান।
বিভিন্ন পেশার পরিচয়ে পুলিশের অতি কাছাকাছি থেকে লাইনম্যান ও নেটওয়ার্ক পরিচালনা কারীরা মূলত ‘গোয়েন্দাগিরি’ করে থাকে চোরা চালানীদেরই। বিনিময়ে চোরাচালানীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয় কাড়ি কাড়ি টাকার বখরা।
সিলেটের সীমান্তবর্তী কানাইঘাট, জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জই মূলত বুঙ্গার ট্রানজিট পয়েন্ট। এই পয়েন্টগুলোতে রয়েছে চোরাচালানীদের শক্তিশালী ‘গোয়েন্দা’ নেটওয়ার্ক। মেবাইল ফোন ও ইনটারনেটের সুবাদে নেটওয়ার্ক পরিচালনা তাদের পক্ষে খুবই সহজ হয়ে ওঠায় প্রায়ই ব্যর্থ হয় পুলিশের অভিযান। নেটওয়ার্কে সমস্য হলে কোনো কোনো সময় অবশ্য ধরা পড়ে যায় বুঙ্গার চালান।
অভিযোগ পাওয়া গেছে, সিলেটের সীমান্তবর্তী কানাইঘাট ও পাশ্র্ববতী জৈন্তাপুরে চিনির বুঙ্গা লাইনের নেওয়ার্ক পরিচালনা করে কয়েকজন অসাধু পুলিশ ও সাংবাদিক নামধারী কতিপয় ব্যাক্তি । তারা থানা পুলিশের খুব ঘনিষ্ট ও কাছাকাছি থেকে উঠাবসা অভিযানের আগাম বার্তা পৌঁছিয়ে দেয় চোরাকারবারীদের কাছে।
সূত্রমতে সিলেটের সীমানবর্তী গোয়াইনঘাটে জহির নামের এক পুলিশ কর্মকর্তাসহ মিডিয়া নামধারী দু’একজন পরিচালনা করে বুঙ্গার শক্তিশালী তথ্য নেটওয়ার্ক। তারা আবার পাশ্র্ববর্তী কোম্পানীগঞ্জের নেটওয়ার্কও পরিচালনা করে থাকে বলেও সূত্রে প্রকাশ।
গত শনিবার একদিনে সিলেটে ৮ টনেরও বেশি ‘বুঙ্গার’ চিনি জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ সময় জড়িত দুজনকে গ্রেফতারের পাশাপাশি জব্দ করা হয়েছে একটি ট্রাক।
শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় গোলাপগঞ্জে সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কে গোলাপগঞ্জ গ্যাস ফিল্ড এর সামনে চৌকি বসিয়ে একটি ট্রাকসহ ১৮৬ বস্তা ভারতীয় বুঙ্গার চিনি জব্দ করে পুরিশ। এ সময় চোরাই চিনি পরিবহনে জড়িত দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় গোলাপগঞ্জ থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা হয়েছে। মামলায় এই দুজনকে চালান দেওয়া হয়।
একই দিন সিলেটের গোয়াইনঘাট থানার পান্তুমাই এলাকার বরকত উল্লাহর বাড়িথেকে ১৪২ বস্তা ভারতীয় চিনি জব্দ করা হয়। এ সময় পালিয়ে যায় জড়িত ৬ চোরাকারবারী পালিয়ে যাওয়া ৬জনের নামে থানায় একটি মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।
জেলার বিভিন্ন স্থানে পৃথক অভিযানে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছেিএবং পলাতকদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সিলেট জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল।
সচেতন মহল মনে করেন, চোরাচালনীদের শক্তিশারী লাইন নেটওয়ার্ক পরিচালনাকারীদের চিহ্নিত করে নেটওয়ার্ক পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারলেই তবে বন্ধ হতে পরে সিলেট সীমান্তের চোরাচালান।