২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩
মৌলভীবাজার সংবাদদাতা: মৌলভীবাজার সদর উপজেলার গিয়াসনগরে আলহাজ্ব আব্দুল মদ্দুস রেজিয়া বেগম হাফিজিয়া মাদ্রাসার সংস্কার কাজে বাধা প্রদান এবং হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২০ সেপ্টেম্বর) এ ঘটনা ঘটে।
হামলার ঘটনায় সংস্কার কাজের তদারকিতে নিয়োজিত ব্যক্তি, রাজমিস্ত্রিসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার দুই আসামিকে শনিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) গ্রেপ্তার করেছে মৌলভীবাজার সদর থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মৌলভীবাজার সদর উপজেলার গিয়াসনগর গ্রামের আজিজুর রহমানের ছেলে আকিকুল ইসলাম আকু (৩২) ও একই গ্রামের আশিক মিয়ার ছেলে জাহাঙ্গীর মিয়া (৪০)।
জানা যায়- যুক্তরাজ্যপ্রবাসী ব্যবসায়ী ও সমাজসেবী আবুল আলা জুনেদ আহমদের পিতা মরহুম আব্দুল মদ্দুস প্রায় ৩০ বছর আগে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার গিয়াসনগর গ্রামে একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। নিজস্ব জমিতে পাকা ভবনে ওই মাদ্রাসায় সুনামের সঙ্গে পাঠদান চলছে। মাদ্রাসায় রয়েছে ছাত্রদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থাও। শিক্ষকদের বেতনসহ যাবতীয় খরচ ওই প্রবাসী পরিবার দিয়ে যাচ্ছে।
মাদ্রাসার পাশে একটি কবরস্থানও তারা নির্মাণ করে দিয়েছেন। সম্প্রতি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠাতার ছেলে আবুল আলা জুনেদ আহমদ ও তার ভাইবোনসহ পরিবারের সদস্যরা মাদ্রাসা সংস্কার এবং মাদ্রাসার পাশে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। এ লক্ষ্যে মাদ্রাসায় সংস্কার কাজ শুরু হয়। কিন্তু স্থানীয় স্বার্থান্বেষেী একটি কুচক্রী মহল এতে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য তারা মাদ্রাসার সংস্কার কাজে বাধা দেয়।
বুধবার মাদ্রাসায় সংস্কার কাজ চলাকালে স্থানীয় মেম্বার মনাই মিয়ার নেতৃত্বে একদল লোক সেখানে গিয়ে নির্মাণকাজে জড়িত লোকজনকে কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দেয়। একপর্যায়ে তারা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা ওই মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের পক্ষে সেখানে তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত সৈয়দ সিদ্দেক আলীকে বেদম মারপিট করে। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে যাওয়ায় নির্মাণকাজে নিয়োজিত মিস্ত্রি জাহাঙ্গীর আলম, আবুল হোসেন, জাহিদ উদ্দিন, তাহমিদ আহমদ প্রমুখের ওপর চড়াও হয়। হামলায় সিদ্দেক আলীসহ অন্যরা আহত হন। হামলাকারীরা সংস্কার কাজ বন্ধ না করলে সবাইকে প্রাণে হত্যার হুমকিও দেয়।
এছাড়া তারা মাদ্রাসার নবনির্মিত ফটক ও নামফলক, নির্মাণকাজে ব্যবহৃত টাইলস ভাংচুর করে ক্ষতিসাধন করে।
এ ঘটনায় প্রবাসী আবুল আলা জুনেদ আহমদের কেয়ারটেকার মামুনুর রশীদ বাদী হয়ে মৌলভীবাজার সদর থানায় মামলা (নং-২৪, তাং-২২/০৯/২৩) দায়ের করেন। মামলার আসামিরা হলেন- গিয়াসনগর গ্রামের মনাই মিয়া মেম্বার, মশাহিদ আলী, আকিকুল ইসলাম আকু, শহিদ মিয়া, জাহাঙ্গীর মিয়া, মো. নাসিম এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জন।
হামলা ও গ্রেপ্তারের বিষয় নিশ্চিত কর সদর থানার ওসি হারুনুর রশীদ চৌধুরী জানান, অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রতন হালদার জানান, গতকাল শনিবার অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মাদ্রাসার সংস্কার কাজে বাধা, হামলা-ভাংচুরের ঘটনা যথাযথ তদন্ত করে আইনানুগ কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’
এদিকে, মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠাতার ছেলে যুক্তরাজ্য প্রবাসী আবুল আলা জুনেদ আহমদ বলেন, ‘এলাকার মানুষের জন্যই আমার বাবা আলহাজ্ব আব্দুল মদ্দুস এই মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করে আজীবন খাদিম হিসেবে কাজ করে গেছেন।
আজ বাবা বেঁচে নেই। তার প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসাকে সঠিক ও সুন্দরভাবে পরিচালনায় আমরা পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছি। কিন্তু স্থানীয় একটি স্বার্থান্বেষী মহল যেভাবে সংস্কার কাজে বাধা দিয়েছে, হামলা-ভাংচুর চালিয়েছে তা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। এ ঘটনায় আমরা অত্যন্ত হতাশ ও মর্মাহত। তবে পুলিশ প্রশাসন দ্রুত আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়ায় সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি। পাশাপাশি ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের আহ্বান জানাচ্ছি।’