৪ এপ্রিল ২০১৮


নগরীতে পাবলিক টয়লেটের অভাবে সীমাহীন দুর্ভোগ

শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : নগরীর চৌহাট্টায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রনে কর্মরত কন্সটেবল মোকলেছ মিয়া। প্রতিদিন আট ঘন্টা ট্রাফিক নিয়ন্ত্রনের কাজে তাকে সেখানে থাকতে হয়। এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে শৌচ কাজ সারতে তাকে যেতে হয় পাশের কোন বিপনীবিতান অথবা কোন মার্কেটের টয়লেটে। অথচ নগরীর প্রতি পয়েন্টেই দিনে ও বিকালে দুই শিফটে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রনে কাজ করতে হয় তাদেরকে। পাশের কোন বিপনীবিতান বা মার্কেটে গিয়ে শৌচকাজ সারতে অনেক সমস্যা হয় তাদের। তবে এ ব্যাপারে কোন মন্তব্য দিতে রাজি হন নি তিনি।

মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টা। নগরীর ক্বীন ব্রীজ সংলগ্ন পাশের রাস্তায় প্রকাশ্যে বসে একজন শৌচকাজ করছেন। এই রাস্তা দিয়ে প্রস্রাবের দুর্গন্ধে হেঁটে যাওয়া কষ্টদায়ক। তবে এর কিছুটা দূরে গনশৌচাগার রয়েছে। তবে সেটির অবস্থা বেহাল। এভাবে প্রতিনিয়তই শত শত মানুষ এই রাস্তায় প্র¯্রাব করেন। অথচ রাস্তার পাশেই অবস্থান করছে সিলেট সার্কিট হাউজ।

সিলেট নগরীতে গনশৌচাগারের সংখ্যা নগন্য। অথচ নগরীতে বসবাস করেন প্রায় ১০ লাখের অধিক মানুষ। পাশাপাশি পর্যটন নগরী হওয়ায় প্রতিনিয়তই বাইরের জেলা থেকেও মানুষের আনাগোনা রয়েছে অনেক। কিন্তু যেকোনো অসুবিধায় নগরীতে শৌচকাজ সারার কোনো সুবিধা। যার কারনে বাধ্য হয়ে ফুটপাতকে অনেকে বানিয়ে ফেলেছেন পাবলিক টয়লেট। এতে করে যেমন নগরীর সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে পাশাপাশি বাড়ছে মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকি। বিশেষ করে নারীদের বিড়ম্বনা সবচেয়ে বেশী।

ছেলেরা যেকোনো জায়গায় শৌচকাজ সারতে পারলেও নারীদের পক্ষে তা কোনভাবেই সম্ভব নয়। এমনকি জেলার বাইরে থেকেও আসলেও পর্যটকরাও পরেন বিপাকে। সিলেট নগরীর প্রবেশদ্বার বলা হয় হুমায়ুন রশীদ চত্বর ও রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন বাস টার্মিনালকে। পরিবহন শ্রমিকদের নিয়ন্ত্রিত একটি শৌচাগার থাকলেও সেটির অপরিষ্কার ও দুর্গন্ধের কারনে ব্যবহার করা কষ্টকর। ফলে বিপাকে পড়ে পাশের কোন রেস্তোরা বা বাস কাউন্টার গুলোর শৌচাগার ব্যবহার করতে হয় আগন্তুকদের।

হবিগঞ্জ শায়েস্তাগঞ্জ থেকে সিলেট ঘুরতে এসেছেন মোহাম্মদ রনি। দিনে এসে রাতেই ফিরে যাবেন এমন পরিকল্পনা নিয়েই এসেছেন। আলাপকালে রনি বলেন, দুপুরে বাস থেকে নামার পর ক্বীন ব্রীজ এলাকায় গিয়ে শৌচাগার নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়েছি। পরে পাশের একটি বিপনীবিতানে গিয়ে টয়লেট ব্যবহার করতে হয়েছে।

পৌরসভা থাকাকালীন সময়ে সিলেটে কাগজে কলমে ছিল একটি পাবলিক টয়লেট। আর ২০০২ সালে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত হওয়ার পরও পাবলিক টয়লেট নির্মানে নেয়া হয় নি কোন উদ্যোগ। এর পর ২০১৩ সালে সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র আরিফুক হক চৌধুরী নির্বাচিত হওয়ার ২০১৩ সালে নগরীর সুরমা নদীর তীরে পরের বছর দ্বিতীয় গনশৌচাগার নির্মিত হয়। আর প্রথম গনশৌচাগারটি অবস্থান করছে কাজীর বাজার এলাকায়।

তবে নগরীতে আনাগোনা বেশী মানুষের আম্বরখানা. চৌহাট্টা, জিন্দাবাজার, বন্দরবাজার, রিকাবীবাজার, লামাবাজারসহ আরও বেশ কয়েকটি জায়গায়। বেশী বিপনীবিতান, সরকারি কার্যালয়, স্কুল, কলেজ ও কোচিং সেন্টারের সংখ্যা এসব এলাকায় বেশী থাকার কারনে সেখানে মানুষের পদচারনা বেশী। তবে এসব এলাকায় নেই গনশৌচাগার। ফলে মাত্র দুটি গনশৌচাগার দিয়ে কাজ চলে আসছে বিগত ১৫ বছর।

কালীঘাট ক্বীন ব্রীজ এলাকার গনশৌচাগারটির বেহাল অবস্থা। এটার ইজারাদার মতিন মিয়া। তার নিযুক্ত কর্মী ইসরাত আলী বলেন, প্রতিনিয়তই মানুষ এটি ব্যবহার করছে। তবে নারীদের জন্য এখানে কোন আলাদা ব্যবস্থা নেই। বিশেষ প্রয়োজনে তাদেরকে বিশেষ ব্যবস্থা করে দেয়া হয়।

সিলেট নগরীর আয়তন ২৬ দশমিক ৫০ বর্গকিলোমিটার। রয়েছে ২৭ টি ওয়ার্ড। ২০১১ সালের আদমশুমারী অনুযায়ী সিলেটের জনসংখ্যার পরিমান ৫ লাখ ৩১ হাজার ৬৬৩ জন। তবে সিটির কর্মকর্তাসহ অন্যান্যদের মতে বর্তমানে এ নগরে বাস করে ১০ থেকে ১৫ লাখের অধিক মানুষ। সুশীল সমাজ বলছেন নগরীতে শৌচাগারের পরিমান বাড়ানো দরকার। এমনকি কম হলেও ২৭টি ওয়ার্ডে ২৭টি গনশৌচাগার নির্মান করা উচিত।

তবে সম্প্রতি নগরীতে বেশ কয়েকটি গনশৌচাগার নির্মানের পদক্ষেপ গ্রহন করেছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন। তার মধ্যে একটি গনশৌচাগার নির্মানের কাজ চালু হলেও মাদরাসার জায়গায় সেটি স্থাপন করা হচ্ছে বলে তা নিয়ে মাদরাসা মহলে চলছে ক্ষোভ। এমনিক সম্প্রতি তারা এ নিয়ে নগরীর চৌহাট্টায় বিক্ষোভ করে ও নির্মানাধীন গনশৌচাগারের ওয়ালও ভেঙে ফেলে। এতে করে নতুন গনশৌচাগার তৈরীর কাজও থমকে গেছে।

সিলেট কল্যান সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এহসানুল হক তাহের বলেন, গনশৌচাগার নিয়ে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের কার্যক্রম চললেও তাদের এ ব্যাপারে কোন দূরদর্শিতা নেই। যাই করা হয় তাই অপরিকল্পিত ভাবে করা হচ্ছে। গনশৌচাগারের জন্য আমরা কল্যান সংস্থার পক্ষ থেকে ২০০৬ সালে আন্দোলন করেছিলাম। নগরবাসীর সুবিধার্তে গনশৌচাগারের সঠিক কোন সুব্যবস্থা নেই। সিসিকর তদারকিতে আমরা কমপক্ষে ২৭টি ওয়ার্ডে ২৭টি গনশৌচাগার নির্মানের দাবী জানাই।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীব বলেন, চৌহাট্টার নির্মানাধীন পাবলিক টয়লেটের বিষয়ে মেয়র ভাল বলতে পারবেন আমি ঢাকাতে ছুটিতে ছিলাম। এটা ছাড়াও সিলেটে আরও কিছু পাবলিক টয়লেট নির্মান করা হবে। আমরা প্লান ও ডিজাইন রেডি করছি।

(আজকের সিলেট/৪ এপ্রিল/ডি/এমকে/ঘ.)

শেয়ার করুন