২৩ আগস্ট ২০২৩
ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : চিরদিনের মতো চোখের আলো নিভে যেতে বসেছে ছাতকে সন্ত্রাসী হামলায় আহত ইব্রাহিম চৌধুরীর। ঘটনার ৪ দিন পেরিয়ে গেলেও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দু’পক্ষই থানায় পাল্টা-পাল্টি মামলা করেছে। দুটি মামলায় শিক্ষকসহ ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
রোববার বিকালে পৌর শহরের গনক্ষাই গ্রামে বাড়ির পাশে রাস্তায় শিক্ষক জাকির হোসেন চৌধুরীর নেতৃত্বে একদল স্বশস্ত্র লোক ইব্রাহিম চৌধুরীর (২০) ওপর অতকিত হামলা চালায়।
এসময় ইব্রাহিম চৌধুরী ডান চোখ ও মাথার উপরিভাগে রাম দা ও রড দিয়ে আঘাত করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে গ্রামবাসী ইব্রাহিম চৌধুরীকে উদ্ধার করে প্রথমে ছাতক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে সিলেট ওসমানি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আই টি বিভাগে ভর্তি করা হয়। তার ডান চোখের আলো চিরদিনের জন্য নিভে যেতে পারে বলে আশংকা করেছেন স্বজনরা। তার চোখ নষ্টের সম্ভাবনাই বেশি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ঘটনায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে আবু তায়িব চৌধুরী বাদী হয়ে শিক্ষক জাকির হোসেন চৌধুরীসহ ৩জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন।
জানা যায়, গণক্ষাই গ্রামের আছাব মিয়া চৌধুরীর পুত্র স্থানীয় রাতগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন চৌধুরী ও একই গ্রামের নুরুল হক চৌধুরীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছে। গ্রামের আম্বিয়া নামের একজনের সাথে জমি নিয়ে শিক্ষক জাকির হোসেন চৌধুরীর বিরোধ ও মামলা রয়েছে। এ মামলার স্বাক্ষী ছিলেন ইব্রাহিম চৌধুরী।
এ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে মারামারি শুরু হলে সাজেদ আহমদসহ ৩জন আহত হয়। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
এ ঘটনায় গত রোববার (২০) আগষ্ট রাতেই থানায়ও পাল্টা-পাল্টি অভিযোগ দায়ের করেন । শিক্ষক জাকির হোসেন চৌধুরী বাদী হয়ে আবু বক্কর সিদ্দিক চৌধুরীকে প্রধান আসামি করে ৭ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন। এ ঘটনায় হামলাকারীদের ওপর একটি মামলা দায়ের করা হয়।
তবে আসামীরা মামলা প্রত্যাহারের জন্য ইব্রাহিম চৌধুরীর পরিবারকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নিয়মিত হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন মিজান।
এঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ বিরাজ করছেন। এব্যাপারে তদন্তকারি এস, আই, সৈয়দ গোলাম সারোয়ার এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় উভয় অভিযোগ মামলা আকারে নিয়ে আসামি ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।