৮ আগস্ট ২০২৩
নিজেস্ব প্রকতবেদক : আগামী ১৭ আগস্ট এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা পেছানোসহ চার দাবিতে সিলেটসহ দেশের ভিবিন্ন আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীদের একটি অংশ। পরে প্রশাসনের আশ্বাসের ভিত্তিতে সড়ক থেকে সরে যান শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় সিলেট নগরীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষা পেছানো অথবা ৫০ মার্কে পরীক্ষা নেওয়ার দাবিতে সিলেটে শিক্ষার্থীরা আড়াই ঘণ্টা সড়কে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে। ১২টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত মহানগরের চৌহাট্টায় তারা এ কর্মসূচি পালন করে। এসময় সিলেটের বিভিন্ন কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষার্থীরা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে। পরে প্রশাসনের আশ্বাসের ভিত্তিতে বেলা আড়াইটার দিকে সড়ক থেকে সরে যান শিক্ষার্থীরা।
এদিকে, পরীক্ষার সব প্রস্তুতি শেষ করেছে শিক্ষাবোর্ডগুলো। ইতোমধ্যে প্রবেশপত্র বিতরণ শুরু হয়েছে। এরমধ্যে পরীক্ষাটি পেছানোর দাবিতে সোমবার থেকে বিক্ষোভ, রাস্তা অবরোধ করেছেন রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে সিলেটে চৌহাট্টায় আড়াই ঘণ্টা সড়কে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে বিভিন্ন কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা।
এসময় আন্দোলকারী শিক্ষার্থীরা গণমাধ্যমকে বলেন- আমরা সিলেবাস সম্পূর্ণ করতে পারিনি। আমাদেরকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়নি। তাই পরীক্ষা পেছাতে হবে, নতুব যেসব বিষয় ১০০ মার্কের সেগুলোতে ৫০ মার্ক করতে হবে। দাবী পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
অবস্থান কর্মসূচি পালনকালে সড়কে যানজটের সৃষ্টি হলে পুলিশ এসে শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দিতে চায়। তবে আন্দোলনকারী ছাত্র-ছাত্রীরা এসময় তাদের দাবি না মানা হলে সড়ক থেকে উঠবেন না বলে জানান। এসময় পুলিশ লিখিতভাবে বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানাতে অনুরোধ করে এতে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করলে শিক্ষার্থীরা কর্মসূচিস্থল ত্যাগ করেন।
কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ আলী মাহমুদ বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা রাস্তায় অবস্থান কর্মসূচি পালনের ফলে রাস্তা ঘাটে যানজটের সৃষ্টি হয়ে। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। তবে আমরা তাদের আশ্বাস দিয়েছি লিখিত বা স্বারকলিপি দিলে আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পৌঁছাতে তাদের সহযোগিতা করব। এই আশ্বাসের প্রেক্ষিতে বেলা আড়াইটার দিকে ছাত্র-ছাত্রীরা কর্মসূচি স্থগিত করে সড়ক ছেড়ে দেন। পরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের এসব দাবির বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনি বলেন, ছোটবেলায় আমরাও পরীক্ষা পেছানোর দাবি জানাতাম, যাতে আরেকটু ভালো প্রস্তুতি নিতে পারি। কিন্তু আসলে এটা অযৌক্তিক। এবার শিক্ষার্থীরা যেসব দাবিতে আন্দোলন করছে তার মধ্যে একটি হলো আইসিটি বিষয়ে পরীক্ষা বাতিল করা। তাদের জন্য এ বিষয়ে পরীক্ষা ১০০ নম্বরের পরিবর্তে ৭৫ নম্বরে হবে। ব্যবহারিকে থাকবে ২৫ নম্বর আর লিখিত অংশে থাকবে ৫০ নম্বর। লিখিত অংশে ৩০ নম্বর রচনামূলক ও এমসিকিউ অংশে ২০ নম্বর থাকবে। একটি বিষয় তো সমাধান হয়েই গেল। বাকি ডেঙ্গুর সময়ে পরীক্ষা না নেওয়ার দাবি। ডেঙ্গু নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আলাদা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এগুলো প্রতিপালন করলে আশা করি কোনো শিক্ষার্থীর সমস্যা হবে না। অন্য দাবিগুলো মানার মতো নয়। আমরা আশা করব, তারা আন্দোলন ছেড়ে পড়ার টেবিলে বসবে এবং ভালোভাবে পরীক্ষা দেবে।