৬ আগস্ট ২০২৩


ধর্মীয় সম্প্রীতি সুরক্ষায় সিলেটে আন্তঃধর্মীয় সংলাপ অনুষ্ঠিত

শেয়ার করুন

ডেস্ক রিপোর্ট: আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনিস্টিটিউটের (আইআরআই) সহায়তায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা রুরাল অ্যান্ড আরবান পুরর্স পার্টনার ফর সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট (রূপসা) আয়োজনে নির্বাচন পূর্ব ও পরবর্তী ধর্মীয় সম্প্রীতি সুরক্ষায় আন্তঃধর্মীয় সংলাপ সিলেটে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার সিলেট নগরের অভিজাত একটি হোটেলের হল রুমে দিনব্যাপী নির্বাচনী সহিংসতা বা ইলেকট্ররাল ভায়োলেন্স শুণ্যের কোঠায় আনতে সিলেট বিভাগের সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।

রূপসা’র নির্বাহী পরিচালক হিরণ্ময় মণ্ডলের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন আইআরআই’র রেসিডেন্ট প্রোগ্রাম ডিরেক্টর ক্রেগ হ্যালস্টেড।

সংলাপে প্যানেল আলোচক ছিলেন, বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি সিলেট মহানগরের সভাপতি মাওলানা হাবিব আহম্মেদ শিহাব, জেলার সভাপতি মাওলানা মো. এহসান উদ্দিন, বাংলাদেশ ব্রাহ্মণ পরিষদ সিলেট জেলার সভাপতি অমৃত রাম ভট্টাচার্য, সিলেট প্রেস বিতারিয়ান চার্জের জ্যেষ্ঠ পাস্টর রেভারেন্ড ফিলিপ বিশ্বাস, সিলেট বৌদ্ধ বিহারের উপাধ্যক্ষ মহানাম ভিক্ষু।

মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, ধর্মীয় নেতারা দেশের সুনাগরিক। তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূলে ধর্মের বাণী যথাযথভাবে প্রচার করে সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। দেশে শান্তি-সম্প্রীতি অব্যাহত রাখা গেলে উন্নয়নের কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে দেশ অনায়াসে পৌঁছে যাবে। এ সম্প্রীতি ও ঐতিহ্য রক্ষা করতে সব ধর্মাবলম্বীর মধ্যে ঐক্য সৃষ্টি করতে হবে, দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে ও পরবর্তীতে কিভাবে নির্বাচনী সহিংসতা এড়ানো যায় সেই সববিষয়ে বিস্তর আলোচনা করেন বক্তারা।

বক্তারা বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময় সংঘাতের সৃষ্টি হয়।এতে অনেকের প্রাণ হারায়।বিশেষ করে নির্বাচন এলে একটি গোষ্ঠী বিভিন্ন বিষয়ে গুজব রটিয়ে শান্ত পরিবেশকে ঘোলাটে করার চেষ্টা করে।এবিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেশ-বিদেশে গুজব রটানো হয়ে থাকে তাই আমাদেরকে এবিষয়টি গুরুত্ব দিতে হবে।

তারা আরও বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি সুরক্ষায় সবাইকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে দায়িত্বশীল হতে হবে।মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডা, ধর্মীয় আলোচনা ও ধর্মীয় সম্প্রীতি সুসংহত করার বিষয়ে আলোচনা করতে হবে। অনেক সময় দেখা যায় একজন ব্যক্তি ধর্মীয় স্ট্যাটাস দিয়ে তার ধর্ম নিয়ে কুটক্তি বা অপপ্রচার করা হচ্ছে বলে।আমরা তা দেখে তথ্য যাচাই-বাচাই না করে শেয়ার দিয়ে থাকি।এতে ধর্মীয় ইস্যু থেকেই সৃষ্টি হয় সহিংসতা।তাই মানুষের মধ্যে নেতিবাচক মনোভাব প্রত্যাহার করতে হবে। আমাদের সকলের মানসিকতা, চিন্তাধারার মাধ্যমে সুস্থ মনোভাব প্রকাশ করতে হবে। তবেই সহিংসতা অনেকাংশে কমে আসবে।

মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ সিলেট জেলার সভাপতি অ্যাডভোকেট প্রদীপ ভট্টাচার্য, পাত্র সম্প্রদায় কল্যাণ পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা গৌরঙ্গ পাত্র, পাস্টর ফিলিপ বিশ্বাস, বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি আনন্দ শ্রমন, কুর্মী সম্প্রদায়ের সভাপতি নারায়ণ কুর্মী, বাংলা নিউজের সিনিয়র রিপোর্টার নাসির উদ্দিন, চ্যানেল আই’র সিলেট ব্যুরো সাদিকুর রহমান সাকী, বণিক বার্তা সিলেট প্রতিনিধি নূর আহমদ, ঢাকা পোস্টের মাসুদ আহমদ রনি প্রমুখ।

বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি সিলেট মহানগরের সভাপতি মাওলানা হাবিব আহম্মেদ শিহাব বলেন, ধর্ম নিরপেক্ষতার অর্থ ধর্মহীনতা নয়। এর অর্থ সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করা। এ নীতি আমাদের সবার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে শেখায়, মানবিক আচরণ করতে শেখায়। উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তির কারণে পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ইরাকের মতো দেশ বিপন্ন হয়ে গেছে। তাই এদেশে সাম্প্রদায়িকতার কোনো স্থান নেই। সংলাপ শেষে সকলকে সহিংসতা থেকে বিরত থাকার জন্য শপথ বাক্য পাঠ করানো হয়।

এর আগে পাওয়ার পয়েন্টে কর্মসূচি উপস্থাপন করনে রূপসা’র প্রকল্প ব্যবস্থাপক সামিয়া জামান। সংলাপে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ অংশগ্রহণ করেন।

শেয়ার করুন