৫ আগস্ট ২০২৩


সিলেট-৪ আসনে প্রার্থী জমিয়ত নেতা মাওলানা আতাউর রহমান

শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : শায়খুল হাদীস মাওলানা আতাউর রহমান। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি এবার জাতীয় সংসদ সদস্য পদপ্রাথী। জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও সিলেট উত্তর জেলা জমিয়তের সভাপতি তিনি। সিলেট নগরের একটি মাদ্রাসায় তিনি হাদীসের দারস দেন।

সিলেটের সীমান্তবর্তী কযেকটি উপজেলায় জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের একটি বিশাল ভোটব্যাংক রয়েছে। দলের যে কোনো প্রার্থী নির্বাচন করলে বিপুল ভোট পেয়ে থাকেন। সেই কথা মাথায় রেখেই আসছে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৪ (জৈন্তাপুর-গোয়াইনঘাট-কোম্পানীগঞ্জ) আসনে সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নিচ্ছেন শায়খুল হাদিস মাওলানা আতাউর রহমান। এরই মধ্যে তিনি জোরেশোরে ভোটের প্রচার চালাতে শুরু করেছেন । প্রতিদিনই তিনি বিভিন্ন উপজেলায় ও মাদ্রাসা মসজিদে গণসংযোগ মতবিনিময় ও সভা-সমাবেশ করে চলেছেন।প্রার্থী হলে জয়ের ব্যাপারেও আশাবাদী বলে জানান তিনি।

মাওলানা আতাউর রহমানের প্রার্থিতা ঘোষণায় এই আসনের আওয়ামী লীগ-বিএনপি অনেকটা দুশ্চিন্তায় রয়েছে। এই দুই দলের নেতারা মনে করছেন, জমিয়ত থেকে আলাদা প্রার্থী হলে বেকায়দায় পড়তে হবে তাদের।

মাওলানা আতাউর রহমানের জন্ম গোয়াইনঘাট উপজেলার নন্দিরগাওঁ ইউনিয়নের বহর গ্রামে। তিনি একজন আলেমে দ্বীন, শায়খুল হাদিস ও লেখক। তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে সিলেট-৪ আসনে বিজয়ের স্বপ্ন দেখছেন জমিয়ত নেতাকর্মীরা।
রাজনৈতিক অঙ্গনে সুপরিচিত মুখ আতাউর রহমানের শিক্ষাজীবন শুরু হয় ১৯৭১ সালে। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভাটরাই গ্রামের মক্তব ও প্রাইমারি স্কুুলে ৫ম শ্রেণি উত্তীর্ণ হন। ১৯৮৫ সলে তিনি সিলেটের শীর্ষ ইসলামী বিদ্যাপীঠ কানাইঘাট দারুল উলুমে ভর্তি হন। সেখান থেকে দাওরায়ে হাদিস পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে ১ম স্থান অর্জন করেন। শিক্ষাজীবনে একসময়ে তিনি বাংলাদেশ মুসলিম ছাত্র পরিষদের তোখোড় তো ছিলেন। মুসলিম ছাত্র পরিষদের নেতৃত্ব থেকে তার রাজনৈতিক জীবনের শুরু। একসময় বাংলাদেশ মুসলিম ছাত্র পরিষদ নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়লে তিনি নিখিল জৈন্তা মুসলিম ছাত্র পরিষদ নামে আঞ্চলিক ছাত্র সংগঠন করে এর নেতৃত্ব দেন।
১৯৯২ সাল থেকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা শাখা ছাত্র জমিয়তের সভাপতির এবং ২০০৩ সাল থেকে সিলেট জেলা যুব জমিয়তের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ২০১১ সালে জেলা জমিয়তের সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় জমিয়তের সহকারী মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি জামেয়া মুশাহিদিয়া খাগাইল মাদ্রাসাসহ কয়েকটি মাদ্রাসয় শিক্ষকতাও করেন।

বিগত ২০০৮ সালের নির্বাচনে মাওলানা আতাউর জমিয়তের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিল করেছিলেন। সে সময় জমিয়ত বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের অন্তর্ভুক্ত থাকায় তৎকালীন অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের অনুরোধে তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন। তবে প্রত্যেকটি উপজেলা, ইউনিয়ন পরিষদ, সিটি ও সংসদ নির্বাচনে তার দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

বিষয়টি নিয়ে শায়খুল হাদিস মাওলানা আতাউর রহমান বলেন, বৃহত্তর জৈন্তার অধিকাংশ সাধারণ মানুষ ধর্মপ্রাণ ও আলেম-ওলামা ভক্ত। ওই এলাকা থেকে আল্লামা মুশাহিদ বায়মপুরী (রহ.) পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের একাধিকবার সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। আমি তারই পথে হাঁটছি। দলমত নির্বিশেষে এ অঞ্চলের মানুষ আমাকে ভোট দিয়ে সংসদে ইসলাম ও বৃহত্তর জৈন্তাবাসীর পক্ষে কথা বলার সুযোগ করে দেবে বলে আমি আশাবাদী।

শেয়ার করুন