৫ আগস্ট ২০২৩
মোঃ মিজানুর রহমান চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) থেকে : হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানা চত্বরে জব্দকৃত মোটর সাইকেলসহ বিপুল সংখ্যক যানবাহন বিভিন্ন মামলার জটে অযত্নে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। খোলা আকাশের নিচে বছরের পর বছর রোদে পুড়ে ও বৃষ্টিতে ভিজে অনেক দামি যানবাহনের যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ায় ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে বিভিন্ন সময় জব্দ হওয়া অর্ধশতাধিক যানবাহন মামলার দীর্ঘসূত্রতায় থানা প্রাঙ্গণে পড়ে রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্রাইভেটকার, ট্রাক, মাইক্রোবাস, পিকআপ ভেন, সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ নানা ধরনের যানবাহন চুনারুঘাট থানা প্রাঙ্গণে পড়ে আছে। জব্দকৃত যানবাহনের মধ্যে মোটরসাইকেলের সংখ্যা বেশি। দীর্ঘদিন অযত্ন-অবহেলায় রাখা এসব যান মরিচা ধরে জরাজীর্ণ ও বিবর্ণ হয়ে পড়েছে। অনেকটি যানবাহনে গজিয়েছে আগাছা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাদকসহ অবৈধ পণ্য পাচার, বৈধ কাগজপত্র না থাকা, ছিনতাইসহ অপরাধীদের ব্যবহারের সময় যানবাহনগুলো জব্দ করা হয়। আবার দুর্ঘটনাকবলিত ও চোরাই গাড়ি উদ্ধার করেও থানা প্রাঙ্গণে ফেলে রাখা হয়েছে। এসব যানবাহনের কোনোটির রেজিস্ট্রেশন নেই, আবার কোনোটি মামলার কারণে আটকে আছে। আদালতের অনুমতি না থাকায় এগুলো নিলামে বিক্রি করা যাচ্ছে না। এতে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। আইনগত প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় মাসের পর মাস, বছরের পর বছর এসব যানবাহন থানায় পুলিশ হেফাজতে পড়ে থাকছে।
থানা পুলিশ জানায়, জব্দ করা এসব যানবাহন আলামত হিসেবে থানায় সুষ্ঠুভাবে সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেই। ফলে এসব যানবাহন নিয়ে পুলিশও বেকায়দায় রয়েছে। এসব যানবাহন থানা প্রাঙ্গণের বড় একটি জায়গা দখলে রাখার পাশাপাশি পরিবেশও নষ্ট করছে। চুনারুঘাট থানার ওসি মো. রাশেদুল হক বলেন, থানায় ২৭টি মোটরসাইকেল, ৯টি পিকআপসহ জব্দ শতাধিক যানবাহন রয়েছে। সংরক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় এগুলো পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে।
এ বিষয়ে হবিগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য শফিউল আলম আজাদ বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে উদ্ধার এসব যানবাহন বিভিন্ন মামলার জব্দ তালিকায় থাকার কারণে থানা প্রাঙ্গণে রাখা হয়। দীর্ঘদিনেও মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ায় এসব যানবাহন নষ্ট হচ্ছে। এগুলো দেশের সম্পদ। তাই ব্যবহার উপযোগী থাকা অবস্থায় মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহন আদালত নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে রাজস্ব আয় বাড়ানো যায়। চুনারুঘাট মাধবপুর সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার নির্মলেন্দু চক্রবর্তী বলেন, মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ায় বৈধ মালিককে তাঁর যানবাহন ফেরত দেওয়া যাচ্ছে না। আবার মালিকবিহীন গুলোও নিলামের মাধ্যমে বিক্রির ব্যবস্থা করা যাচ্ছে না। তবে থানা প্রাঙ্গণে পড়ে থাকা মালিকবিহীন মোটরসাইকেলগুলো নিলামে তুলতে আদালতে আবেদন করা হয়েছে। শিগগিরই এগুলো বিক্রিতে আদালতের অনুমতি পাওয়া যাবে বলে তিনি আশাবাদী।
নির্মলেন্দু চক্রবর্তী জানান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থানা প্রাঙ্গণে গ্যারেজ বা শেড করে দিলে জব্দ দামি যানবাহন খোলা আকাশের নিচে পড়ে থেকে নষ্ট হবে না। একই সঙ্গে জব্দকৃত আলামত সংগ্রহ করে নিরাপদে রাখা যাবে।
এ বিষয়ে চুনারুঘাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল কাদির লস্কর বলেন, মামলাজট দ্রুত নিষ্পত্তি করা গেলে মালিকরা তাদের যানবাহন ফেরত পাবেন। অন্যদিকে মালিকবিহীন যানগুলো নিলামে বিক্রি করা হলে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে বিপুল অর্থ জমা হতে পারে।