২২ মার্চ ২০১৮


মৌলভীবাজারে এখনো মেরামত হয়নি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক

শেয়ার করুন

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : গত বছরের দীর্ঘমেয়াদী বন্যা আর সঠিক রক্ষাবেক্ষনের অভাবে মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন রাস্তা ভেঙেচুরে খানাখন্দের সৃষ্ঠি হয়েছে। ফলে চলাচলে চরম দুর্ভোগে আছে জেলাবাসী ।

এলজিডি ও সওজ সূত্রে জানা গেছে, ভাঙাচোরা রাস্তার পরিমান ৪৩৬ কিলোমিটার। এর মধ্যে সওজ এর ৮৬ কিলোমিটার, এলজিডির ৩৫০ কিলোমিটার সড়ক। সড়ক বিভাগের লোকজন বিভিন্ন গর্তে ইট ও বালু ফেলে জোড়া তালি দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছেন। তবে এতে কমছে না দুর্ভোগ।

স্থানীয়রা জানান, সঠিক সময়ে রক্ষনাবেক্ষণের অভাব, গত বছরে দীর্ঘস্থায়ী বন্যা, অতিবৃষ্টি ও সঠিক পরিকল্পনার না থাকার কারনে মৌলভীবাজারের অধিকাংশ রাস্তা ভেঙে গেছে । বন্যায় পাকা রাস্তা দীর্ঘ দিন পানির নিচে থাকায় এবং অতি বৃষ্টির কারনে সবকটি উপজেলার সংযোগ সড়কে তৈরী হয়ছে ছোট বড় গর্ত। বিভিন্ন জায়গায় রাস্তার দুপাশের মাটি ভেঙে গিয়ে রাস্তা হয়েছে সরু। খানাখন্দরে পরিপূর্ন এই বেহাল সড়কে মানুষের দুর্ভোগ চরমে । ঘটছে দূর্ঘটনা, বিকল হচ্ছে যান-বাহন। রোগীবাহী গাড়ি ঠিক সময়ে পৌছাতে পারছে না বিশেষ করে গর্ভবতী ও বয়স্ক রোগীদের পড়তে হচ্ছে চরম বিপাকে। পর্যটকরা পড়ছেন বিড়ম্বনায়। ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন ব্যাবসায়ীরা বিশেষ করে কাচা মালের ব্যবসায়ীরা আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন বেশী।

সরজমিনে বিভিন্ন রাস্তায় ঘুরে দেখা যায়, প্রাথমিক ভাবে কিছু কিছু জায়গায় সড়ক বিভাগের লোকজন বিভিন্ন গর্তে ইট ও বালু ফেলে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছেন কিন্তু সপ্তাহ ঘুরতেই তা উঠে যাচ্ছে। জেলার রাজনগর, কুলাউড়া,জুড়ি, বড়লেখা, সদর উপজলোর অধিকাংশ সড়কের পিচ ও খোয়া উঠে অসংখ্য গর্তের সৃষ্ঠি হয়েছে। অনেক অংশে সড়কের নিচ থেকে মাটি বের হয়েছে। সৃষ্টি হয়েছে ছোট বড় ঝুকিপূর্ন গর্ত।

চালকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সড়ক ভাঙ্গা থাকায় নির্ধারিত সময়ে তারা গন্তব্যে পৌছাতে পারছেনা বলে আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ।

মৌলভীবাজার এলজিডি কার্যালয়ের তথ্য মতে, সদর উপজেলায় ৩৫,কমলগঞ্জ উপজেলায় ৪, শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ২৯, বড়লেখা উপজেলায় ৬৬ ,জুড়ি উপজেলায় ৩২,কুলাউড়া উপজেলায় ৪০,রাজনগর উপজেলায় ৫৬, কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগস্ত হয়েছে।

সড়ক ও জনপথ মৌলভীবাজার কার্যালয় সুত্রে জানা যায়, অতিবৃষ্টিতে তাদের ৮৬ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

ভারত সীমান্তবর্তী এলাকা চাতলা থেকে গর্ভবতী রোগী নিয়ে শহরে আসা আব্দুল মুহিত জানালেন, রাস্তার এত খারাপ অবস্থা যে আবার বাড়ী ফিরে যেতে ভয় পাচ্ছি।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি) মৌলভীবাজার জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কামরুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে সংস্কার ব্যায় প্রায় ১০০ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। ইতিমধ্যে ৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া। যে বরাদ্দ পাওয়া গেছে তা দিয়ে সব সকল সড়ক সংস্কার করা সম্ভব নয়।

(আজকের সিলেট/২২ মার্চ/ডি/এসটি/ঘ.)

শেয়ার করুন