৩০ জুলাই ২০২৩
ওসমানীনগর প্রতিনিধি : সিলেটের ওসমানীনগরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দ্বায়িত্ব অবহেলাসহ বিদ্যলয়ের শিক্ষার্থী- অভিভাবক ও স্থানীয়দের সাথে অশালীন আচরণ, সরকারী প্রতিষ্ঠানের হিসাব না দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলার সিমান্তবর্তী উমরপুর ইউনিয়নের ৮ নং হামতনপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছালেহ আহমদকে অভিযুক্ত করে বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এলাকার অভিভাবক ও স্থানীয়রা ।
লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক ছালেহ আহমদ দীর্ঘ ৮ বছর ধরে উপজেলার উমরপুর ইউনিয়নের সিমান্তবর্তী হামতনপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসাবে কর্মরত রয়েছেন। চাকরির সুবাদে তিনি একই বিদ্যালয়ে থাকায় সেখানে গড়ে তুলেছেন নিজস্ব সিন্ডিকেট। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির কয়েকজন সদস্যকে ম্যানেজ করে তিনি বিদ্যালয়ে প্রায় প্রতিদিন থাকেন অনুপস্থিত । সিমান্তবর্তী হওয়ায় ওই বিদ্যালয়ে উর্ধতন শিক্ষা অফিসের সংম্লিষ্টদের তদারকি নেই বললে চলে। এই সুযোগে দিনের পর দিন তিনি বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকেও নিয়মিত বেতন ভাতা উত্তলন করে আসছেন শিক্ষক ছালেহ আহমদ।
শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের সাথে অশালিন আচরণসহ সরকারী প্রতিষ্ঠানের হিসাব অভিবাবক বা বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির কেউ জানতে চাইলে তাদের সাথেও দূর ব্যবহার করেন তিনি। এছাড়া তার দ্বায়িত্ব অবহেলায় বিদ্যালয়ের অন্যান্য সহকারী শিক্ষক-শিক্ষিকারাও বিদ্যালয়ে না এসে ভোগ করছেন সরকারী সুবিধা। দির্ঘ দিন একই বিদ্যালয়ে থাকায় স্থানীয় বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলে একাধিকবার সমালোচিতি হয়েছেন তিনি। এতে করে বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষার পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে এবং সরকারের সাথে প্রতরণার সামিল বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এই নিয়ে স্থানীয় অভিভাবকরে মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগকারী স্থানীয় মতিউর রহমান ও তুরণ মিয়া বলেন, শিক্ষক ছালেহ আহমদ বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করছেন। অনিয়মকে নিয়মে পরিনত করে সরকারী অর্থ লোটপাট করে যাচ্ছেন। নিজে বিদ্যালয়ে উপস্থিত না হয়েও অগ্রিম হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর দিয়ে রাখেন। তার ছত্র ছায়ায় বিদ্যালয়ের সরকারী শিক্ষকরাও সময়মত বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন না।
এই বিষয়ে অভিভাবকদের পক্ষে প্রধান শিক্ষক ছালেহ আহমদের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেন নি।
প্রধান শিক্ষক সালেহ আহমদ অভিযোগ অস্বিকার করে বলেন, দীর্ঘ দিন থেকে বিদ্যালয়ের সরকারী ভূমি একটি পক্ষ দখল করে ভোগ করছে। স্থানীয়দের সহায়তায় সীমানা নির্ধারণের উদ্যোগ নিলে পরিকল্পিত ভাবে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করতে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে।
এ বিষয় নিয়ে ওসমানীনগর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা দিলীপময় দাশ বলেন, এই বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।