১৮ মার্চ ২০১৮


বাঁধে উঠার অপরাধে শিশুর আঙ্গুল কেটে দিলেন পিআইসি সভাপতি

শেয়ার করুন

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : হাওরের বাঁধের উপর উঠে গড়িয়ে পড়েছিলো শিশুটি। এই ‘অপরাধে’ ৭ বছরের শিশুর ডান হাতের চারটি আঙ্গুল কেটে দিয়েছেন বাঁধের প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি)-এর সভাপতি।

তাহিরপুরের মহালিয়া হাওর পাড়ে ময়নাখালি বাঁধের ২৮ নং পিআইসির সভাপতি অদুদ মিয়া শনিবার বিকালে শিশু ইয়াহিন মিয়ার হাতের আঙ্গুল কেটে দেন।

শনিবার বিকালে বাঁধের কাছে এই ঘটনা ঘটে। আহত শিশুর ইয়াহিন তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের সুলেমানপুর গ্রামের শাহানুর মিয়ার ছেলে ও সুলেমানপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণীর ছাত্র।

বাঁধের উপর ওঠার অভিযোগে ইয়াহিনের ডান হাতের ৪টি আঙ্গুল কাঁচি দিয়ে কেটে দেন পিআইসির সভাপতি অওদুদ। আহত শিশুটিকে প্রথমে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে প্রেরন করেছে কর্তব্যরত চিকিৎসক।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার বিকেলে ইয়াহিন গরুর ঘাস কাটার জন্য মহালিয়া হাওর পাড়ে ময়নাখালি বাঁধের উপর দিয়ে হেটে যাওয়ার সময় শিশুটির পা পিছলে পড়ে গড়িয়ে বাঁধের নিচে পড়ে যায়। এ সময় নির্মানাধীন বাঁধের ড্রেসিং করা কাজের কিছু ক্ষতি হয়। এতে পিআইসির সভাপতি অদুদ মিয়া ক্ষুব্দ হয়ে ইয়াহিনের হাতে থাকা কাচি কেড়ে নিয়ে তার হাতের ৪টি আঙ্গুল কেটে দেন।

পরিবারের লোকজন ইয়াহিনকে রক্তাক্ত অবস্থায় তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে সুনামগঞ্জে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে সে সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ডাক্তরের চিকিৎসাধীন রয়েছে।

আহত শিশুটির পিতা শাহানুর মিয়া পিআইসির সভাপতি অদুদ মিয়ার বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করবেন বলে জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে মহালিয়া হাওরের ময়নাখালি বাঁধের ২৮ নং পিআইসি অদুদ মিয়া বলেন,‘আমি ইয়াহিনকে আঘাত দেই নি। শিশুটি অন্য একটি শিশুর সাথে ঝগড়া করে তার হাতের আঙ্গুল কেটেছে।

(আজকের সিলেট/১৮ মার্চ/ডি/এমকে/ঘ.)

শেয়ার করুন