২৪ জুলাই ২০২৩


বড় সংঘাতের দিকে এগোচ্ছে রাজনীতি

শেয়ার করুন

আজকের সিলেট ডেস্ক : আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ছড়িয়ে পড়েছে উত্তাপ। মাঠ দখলের লড়াইয়ে ছাড় দিচ্ছে না কেউ। ইতোমধ্যেই ত্রিমুখী সংঘর্ষে লক্ষ্মীপুরে একজনের মৃত্যুও হয়েছে। দুই দলের এই অনড় অবস্থানে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের সংঘাত-সহিংসতার আশঙ্কা। পাশাপাশি নেতাকর্মীদের অসহিঞ্চুতা ও মুখোমুখি অবস্থানে ছড়িয়ে পড়ছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা।

এদিকে, দেশের বড় দুই দল যার যার এক দফা নিয়ে এখন পুরোপুরি মাঠে রয়েছে। এরই মধ্যে সংঘাত-সংঘর্ষ শুরু হয়ে গেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি সংলাপের মাধ্যমে সমাধান না করে সবাই যদি রাজপথে ফয়সালা করতে চায়, তাহলে তার ফল হবে ভয়াবহ।

আর এমন উদ্বেগের মধ্যেই নতুন শঙ্কা তৈরি হয়েছে দুই দলের আগামী বৃহস্পতিবারের কর্মসূচি নিয়ে। ওই দিন ঢাকায় যুবলীগ এবং বিএনপি ও সমমনা দলগুলো সমাবেশ ডেকেছে। এক কিলোমিটারের কম দূরত্বে প্রায় একই সময় সমাবেশ ডাকায় তৈরি হয়েছে সংঘাতের আশঙ্কা। এমন পাল্টা কর্মসূচি থেকে সরে আসতে দুই দলের প্রতি দেশের সুশীল সমাজ ও বিদেশী কূটনীতিকরা ইতোপূর্বে একাধিকবার আহ্বান জানালেও তা কানে তুলছেন না দল দুটির নেতারা।

দেশব্যাপী ‘তারুণ্যের জয়যাত্রা’ সমাবেশের ধারাবাহিকতায় আজ সোমবার বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনে সমাবেশ ডেকেছিল আওয়ামী যুবলীগ।

আর গত শনিবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ‘তারুণ্যের সমাবেশ’ থেকে আগামী ২৭ জুলাই বৃহস্পতিবার রাজধানীর নয়পল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে মহাসমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি।

তবে গতকাল এক বিজ্ঞপ্তিতে যুবলীগের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ডিজিটাল বাংলাদেশকে স্মার্ট বাংলাদেশে উন্নীতকরণের লক্ষ্যে আওয়ামী যুবলীগের দেশব্যাপী ‘তারুণ্যের জয়যাত্রা’ সমাবেশের ধারাবাহিকতায় ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশ ২৪ জুলাইয়ের পরিবর্তে ২৭ জুলাই বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ-পশ্চিম গেইটে অনুষ্ঠিত হবে।

মোট কথা পাল্টা কর্মসূচি থেকে সরে আসার বদলে মুখোমুখি অবস্থানে চলে গিয়ে একই দিন দল দুটি সমাবেশ ডাকায় নতুন উৎকন্ঠা তৈরি হয়েছে রাজধানীবাসীর মধ্যে।

এদিকে, গত ১২ জুলাই ঢাকায় সমাবেশ থেকে সরকারের পদত্যাগে এক দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। সরকারের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন চায় দলটি।

একইদিন শাসক দল আওয়ামী লীগও সমাবেশের মধ্য দিয়ে এক দফা ঘোষণা করে। তাদের এক দফা হলো-শেখ হাসিনার অধীনে ছাড়া নির্বাচন নয়।

এরপর ১৮ জুলাই বিএনপির পদযাত্রা আর আওয়ামী লীগের শান্তি ও উন্নয়ন শোভাযাত্রার দিনে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সংঘাত ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। কোনোটা ছিল আওয়ামী লীগ বনাম বিএনপি। কোনোটা ছিল ত্রিমুখী। সেসব জায়গায় দুই দল এবং পুলিশ সংঘাত সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। লক্ষীপুরে বিএনপির সহযোগী সংগঠন কৃষক দলের একজন সদস্য এই সংঘাতে নিহত হন। পরের দিনও বিএনপির পদযাত্রা এবং আওয়ামী লীগের শান্তি ও উন্নয়ন শোভাযাত্রার কর্মসূচিতে সংঘর্ষ হয়। যদিও লক্ষ্মীপুরে নিহত ব্যক্তি বিএনপি বা অঙ্গসংগঠনের কর্মী নয় বলে গতকাল এক অনুষ্ঠানে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

গত শনিবার ঢাকায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে তারুণ্যের সবাবেশ করে বিএনপি। একই দিন আওয়ামীলীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগও সারাদেশে তারুণ্যের জয়যাত্রা নামে কর্মসূচি পালন করে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এরই মধ্যে বলেছেন, সরকার পদত্যাগ না করলে রাজপথেই ফয়সালা হবে।

আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা নেই, তবে কোনো ধ্বংসাত্মক কাজ করলে কোনো রকম ছাড় দেয়া হবে না।

অন্যদিকে বিএনপি এখন টানা কর্মসূচির মাধ্যমে মাঠের দখল শক্ত করতে চায়। আর সেজন্য তারা শুধু বিএনপি নয়, সহযোগী সংগঠনগুলোর মাধ্যমে কর্মসূচিতে নতুনত্ব আনার চেষ্টা করছে। সমমনা ৩৭টি দলকে মাঠে আরো সক্রিয় করতে চাইছে। সমমনা দল আরো বাড়াতে চাইছে।

আর আওয়ামী লীগও আগামী নির্বাচন পর্যন্ত টানা কর্মসূচির মাধ্যমে মাঠে থাকবে। তাদের টার্গেট- এই কর্মসূচির মাধ্যমে নির্বাচন পর্যন্ত মাঠে থেকে এই সরকারের অধীনে নির্বাচন সম্পন্ন করা। অপরদিকে, বিএনপির টার্গেট- এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন হতে না দেয়া।

যদিও বিদেশিদের তৎপরতায় এখন পর্যন্তু দুই দলকে সংলাপে রাজি করানো যায়নি। দুই দলের অনড় অবস্থানের কারণে সংলাপের আশাও ক্ষীণ হয়ে এসেছে।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এস কামাল হোসেন বলেন, ‘আমরা মাঠে নেমেছি। নির্বাচন পর্যন্ত মাঠে থাকবো। শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন করে তারপর আমরা ঘরে উঠবো। বিএনপি চাইলেও কোনো ধ্বংসাত্মক কাজ করতে পারবে না। দেশের মানুষ তাদের প্রতিরোধ করবে।’

আর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, ‘আমরা ধ্বংসাত্মক কাজ না করতেই তো আমাদের নেতৃবৃন্দকে গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে। গ্রেপ্তার করছে, মামলা দিচ্ছে। কেউ বাড়িতে থাকতে পারছে না। এগুলো স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী সরকারের কাজ।

এদিকে বেশ কয়েক মাস ধরে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের কর্মসূচি, পাল্টা কর্মসূচি অনেকটা শান্তিপূর্ণভাবেই চললেও। ১৮ জুলাই দুই দলের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষসহ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

এর আগে গত বছর অক্টোবর-নভেম্বরের দিকে বিএনপির সরকার বিরোধী আন্দোলনের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কিছু বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের ঘটনা দেখা যায়। কিন্তু এ বছর মধ্য জুলাই পর্যন্ত দুই দলের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি থাকলেও বড় ধরনের সংঘর্ষের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে বিএনপি গত ১২ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার সরকার পতনের এক দফা ঘোষণা করায় রাজনৈতিক পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন আসে এবং প্রেক্ষাপট পাল্টে যায়। শুধু সরকার পতন নয়, এ সরকারের অধীনে নির্বাচন প্রতিহত করার ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে। ওই দিনই আওয়ামী লীগও ঘোষণা দেয় নির্বাচনের সময় শেখ হাসিনার সরকারই ক্ষমতায় থাকবে এবং নির্বাচন ঠেকাতে এলে তা প্রতিহত করা হবে। এ ঘোষণার মধ্য দিয়ে দুই দলই লক্ষ্যে পৌঁছানো এবং অবস্থান ধরে রাখার চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে।

শেয়ার করুন