২৩ জুলাই ২০২৩
শাবি প্রতিনিধি : শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শনিবার ১০ তলা ভবন থেকে পড়ে এক শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মিলত সাংস্কৃতিক জোট। বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ১৬টি সংগঠন নিয়ে এ জোট গঠিত।
রোববার বিকালে জোটের বর্তমান প্রচার সম্পাদক রিম মিউজিক্যাল ক্লাবের শাহাদাত আহমেদ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতি এ প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্মাণাধীন আইআইসিটি ভবনে কর্মরত অবস্থায় নবম তলা থেকে পড়ে মো. আরিফুল ইসলাম নামে এক শ্রমিক মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মানাধীন সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং (সিইই) বিভাগের ওয়ার্কশপে কর্মরত অবস্থায় তৃতীয় তলা থেকে পড়ে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তির ২ দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় নাঈম আহমেদ নামক এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়।
এই ঘটনার ছয় মাস অতিবাহিত হতে না হতেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়ে আরেক শ্রমিকের মৃত্যু হলো।
বিবৃতিতে জোটের নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সর্বোচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকদের পরিপূর্ণ নিরাপত্তাহীনতার কারণে প্রাণহানির ঘটনা পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনসহ সকল শিক্ষার্থীদের জন্য তীব্র লজ্জা ও নিন্দাসূচক।’
এর প্রেক্ষিতে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট আভ্যন্তরীণ নির্মানাধীন ভবনে কর্মরত শ্রমিকদের পূর্ণ নিরাপত্তা প্রদানে প্রশাসনের অবহেলায় এই আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়।
একই সঙ্গে নিহতদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদানের তীব্র দাবি জানিয়েছে সম্মিলিত এ জোট৷
বাংলাদেশের শ্রম বিধিমালা ২০১৫ অনুসারে, ভবন নির্মাণে ঠিকাদার কর্মরত সকল শ্রমিকদের নিরাপত্তার নিশ্চিত করতে বাধ্য থাকবে। এক্ষেত্রে নির্মাণাধীন ভবনের চারদিকে বেড়া দিয়ে ঘেরা ও সেইফটি নেট দেয়া আবশ্যক, তাছাড়া শ্রমিকদের সুরক্ষা যন্ত্রপাতি যেমন, হেলমেট, সেইফটি জুতা ইত্যাদি সরবরাহ ও ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
এ বিধি উল্লেখ করে বিবৃতিতে জোটের নেতারা অভিযোগ করেন, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভবন নির্মাণের এতদিনেও এই সকল সুরক্ষা ব্যবস্থা যথাযথ ভাবে পালন করতে দেখা যায়নি। যার ফল স্বরূপ এই ধরনের দুর্ঘটনা বারবার ঘটতে দেখা যাচ্ছে। নিরীহ শ্রমজীবী মানুষের প্রাণের বিনিময়ে পাওয়া শিক্ষা ভবন প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে নৈতিকতার মুখোমুখি দাঁড় করায় যা কোন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর কাম্য নয়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিকট নির্মানাধীন ভবনে কর্মরত শ্রমিকদের নির্মাণ সেইফটি গাইডলাইন অনুযায়ী, অতিদ্রুত পরিপূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের দাবি জানিয়েছে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট।
এদিকে, শনিবার শ্রমিকের মৃত্যুতে ক্ষতিপূরণের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ওই শ্রমিকের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।