১৭ মার্চ ২০১৮
জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের ৩ টি ফসলরক্ষা বাঁধে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ কাজ নিয়ে এলাকায় সমালোচনা ঝড় বইছে। ৩টি বেড়িবাঁধই ‘শালা-দুলাভাই’র বেড়ি বাঁধ নামে এলাকায় পরিচিতি পাচ্ছে। মাটি থাকার পর বালু দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে।
পাউবো সূত্রে জানা যায়, জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের নলুয়া হাওরের কাপনার বাঁধে প্রকল্প নং ১৪, ৯১, ৯২ বাঁধের উচ্চতা বৃদ্ধিকরণ ও বিভিন্ন ভাঙ্গা বন্ধের ১.৮৫৪ কিঃ মিঃ কাজের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয় প্রায় ৪৮ লাখ ১০ হাজার ৯৫ টাকা। পিআইসি নং ১৪ সভাপতি হলেন রানীগঞ্জ ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড সদস্য নারকেলতলা গ্রামের মৃত আফছর উল্লাহ ছেলে আবুল কালাম ও সদস্য সচিব উনার শ্যালক নারকেলতলা গ্রামের আবদুল তাহিদের ছেলে ছানু মিয়া। দশমিক ৪৮০ কিলোমিটার বিকল্প বাঁধ নির্মাণ ও বাঁধ পুনঃরাকৃতিকরণ কাজের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ১৪ লাখ ২৫ হাজার ৩৬২ টাকা।
বাঁধটি সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্টিলব্রিজের কাছ থেকে বাঁধটি শুরু হয়ে দক্ষিণ দিকে কাপনার হাওরের দিকে চলে গেছে। সরকারী নীতিমালা না মেনে বাঁধের কাছ থেকেই বালু মাটি উত্তোলন করে বাঁধটি নির্মাণ করা হয়েছে। পরবর্তিতে বালু না দেখার জন্য উপরে অল্প কাদা মাটির প্রলেপ দেওয়া হয়েছে।
আরেটি বেড়িবাঁধে গিয়ে দেখা যায়, একই ইউনিয়নের পিআইসি নং ৯১ এ একই রকম বালু মাটি দিয়ে কাজ করা হয়েছে। দশমিক ৯৬৭ কি.মি. এ ফসলরক্ষা বাঁধের কাজে বরাদ্দ দেয়া হয় ১৮ লাখ ৩ হাজার ৩শ’ ৩৪ টাকা।
পিআইসি’র সভাপতি ৬নং ওয়ার্ড সদস্য আবুল কালামের শমনদি নারকেলতলা গ্রামের মৃত আবদুল তায়িদের ছেলে মাহমুদুল করিম ও সদস্য সচিব নারকেলতলা গ্রামের জফর উদ্দিনের ছেলে মো. শাহাবুদ্দিন।
এছাড়া অপর একটি বাঁধে বরাদ্দ দেয়া হয় ১৮ লাখ ৩ হাজার ৩ শ’ চৌত্রিশ টাকা। পিআইসি’র সভাপতি হলেন ৬নং ওয়ার্ড সদস্য আবুল কালামের শমনদি নারকেলতলা গ্রামের মৃত আবদুল তায়িদের ছেলে মো. সাজিদুল করিম ও সদস্য সচিব একই গ্রামের মৃত জমসেদ মিয়ার ছেলে মো. আক্কাছ মিয়া। এ বাঁধেও নামমাত্র কিছু মাটি ফেলা হয়েছে। কোন সাইনবোর্ড পাওয়া যায়নি, খুব কাছ থেকে মাটি তোলা হয়েছে।
এ বিষয়ে মোঠোফোনে জানতে চাওয়া হলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জগন্নাথপুর আঞ্চলিক অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজের সদস্য সচিব মো.নাসির উদ্দিন বলেন, বেড়িবাঁধের গোড়াতে কিছু বালু দিয়ে বাঁধা হয়েছে।
(আজকের সিলেট/১৭ মার্চ/ডি/এসসি/ঘ.)