১৫ মার্চ ২০১৮


নিশ্চুপ থেকেও গ্রেফতার এড়াতে পারছে না জামায়াত

শেয়ার করুন

আজকের সিলেট ডেস্ক : এক সময়ে রাজপথ কাঁপানো বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী রাজপথে কার্যত নিশ্চুপ। ঘরোয়া বৈঠক ছাড়া রাজপথে খুব একটা সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না, অন্যদিকে পুলিশের বুলেটের মুখে রাজপথ উত্তাল করার কোনো নির্দেশনাও আসছেন না কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকে। বলা যায় অনেকটা চুপিশারেই চালিয়ে যাচ্ছে কার্যক্রম। শুধু ঘরোয়া অনুষ্ঠান ছাড়া মাঠ গরম করার মতো কোনো কর্মসূচি আসছে না। নেই কোনো হরতাল ও অবরোধ। তবুও থেমে নেই গ্রেফতার। হামলা-মামলাও অব্যাহত। কিন্তু কেনো?

রাজপথে জামায়াতে ইসলামী যখন দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলে সরকারের ঘুম হারাম করে দিয়েছিল ঠিক তখনও দলটির শীর্ষ পর্যায়ের এতো নেতাকে গ্রেফতার করা হয়নি। মহানগর আমির বা সেক্রেটারি পর্যায়ের নেতাদেরও অনেক ক্ষেত্রে গ্রেফতার করা হয়নি। কিন্তু ২০১৫ সালের পর থেকে প্রায় তিন বছর পার হয়েছে, দীর্ঘ এ তিন বছর রাজপথে জামায়াতে ইসলামী সরকার পতনের আন্দোলন বা মাঠ গরম করার কোনো আন্দোলন করেনি। নিয়মতান্ত্রিক মিছিল-মিটিং ও বক্তৃতা-বিবৃতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল জামায়াতের রাজনৈতিক কার্যক্রম। তবুও হঠাৎ করে গত বছরের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে দলটির শীর্ষ প্রায় সব নেতাদেরই গ্রেফতার করা হয়। ওই সময়ের শূন্যতা কাটাতে অধ্যাপক মুজিবুর রহমানকে ভারপ্রাপ্ত আমির ও এটিএম মাসুমকে ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্ব দেয়া হয়। এরই মধ্যে ১২ মার্চ সোমবার দলটির ভারপ্রাপ্ত আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করা হলো।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন- শুধু জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের নয়, সরকার বিএনপির শীর্ষ নেতাদেরও বাইওে রাখতে চাচ্ছে না। এটা নির্বাচনী বছর। সরকারের ধারণা ছিল জামায়াতে ইসলামী আগের চাইতে অনেকটা দুর্বল হয়ে গেছে। সেকারণে দলটি এ নির্বাচন এড়িয়ে যেতে পারে। কিন্তু পরে জামায়াতে নির্বাচনী প্রস্তুতির খবর পাওয়ায় শীর্ষ নেতাদের গ্রেফতার করছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন- বিরোধী দলের জনপ্রিয় নেতাদের মাঠে রেখে নির্বাচনে যাওয়াটা উচিৎ হবে না বলে সরকার ধারণা করছে। যার কারণে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচী ও ঘরোয়া সভা থেকে নেতাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে।

এর আগে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল, দক্ষিণের নায়েবে আমির মঞ্জুরুল ইসলাম ভূঁইয়া, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য আবদুস সবুর ফকিরসহ জামায়াতে ইসলামীর ৮ নেতাকে গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ওইদিন রাতে রাজধানীর দোলাইরপাড় এলাকায় দলের একটি ঘরোয়া সভা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

ঢাকা মহানগর জামায়াত নেতাদের গ্রেফতারের কয়েক দিন পরই জামায়াতের আমির মকবুল আহমাদ ও নায়েবে আমির সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার ও সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমানসহ শীর্ষ নয় নেতাকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। উত্তরার ৬নং সেক্টরের ১১ নম্বর রোডের ল্যাব এইড হাসপাতালের পাশে একটি বাসার তৃতীয় তলা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

এদিকে ১২ মার্চ সোমবার সকাল ৯টায় রাজশাহীর হেতেম খাঁ এলাকা থেকে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমানসহ ১০ নেতাকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। আটক অন্য নেতাদের তিনজনের মান জানা গেছে। এরা হচ্ছেন- রাজশাহী মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যাপক ড. আবুল হাশেম, রাজশাহী জেলার আমির অধ্যাপক আবদুল খালেক ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমির মাওলানা আবু জার গিফারী।

(আজকের সিলেট/১৫ মার্চ/ডি/কেআর/ঘ.)

শেয়ার করুন