১ নভেম্বর ২০২২


ওসমানীনগরে কে হাসবেন শেষ হাসি?

শেয়ার করুন

মিজান মোহাম্মদ, ওসমানীনগর থেকে ফিরে : রাত পোহালেই ওসমানীনগর উপজেলা পরিষদে ভোট। শেষ মুহুর্তে ভোটের মাঠে চলছে নানা সমীকরণ। এই উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে দুজন প্রার্থী নিজেদের দলীয় মনোনয়ন নিয়ে ভোটের মাঠে লড়ছেন। তাঁরা হচ্ছেন- আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. শামীম আহমদ (নৌকা প্রতীক) ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মো. ছইদুর রহমান চৌধুরী (দেয়ালঘড়ি)। আর স্বতন্ত্র প্রার্থীর মোড়কে ঘোড়ায় চড়ে ভোটের মাঠে রয়েছেন বিএনপি নেতা মো. কামরুল ইসলাম।

তবে দুজনের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখছেন ভোটাররা। ওসমানীনগর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শামীম আহমদ ভিপির নিজ দলের কর্মী সমর্থকদের নিয়ে রয়েছেন জোর প্রচারণায়। জয়ের বিষয়ে শতভাগ আশাবাদীও তিনি।

এদিকে, ওসমানীনগরে নৌকার প্রার্থী শামীমের হিসাব সহজ মনে করছেন একাধিক নির্বাচনী মাঠ বিশ্লেষক। আর ভোটের কাছাকাছি সময়ে এসে এগিয়ে যাচ্ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। অভিযোগ আছে শেষ মূহূর্তে চলছে টাকার খেলাও। ভোটের মাঠে না থেকেও আছে বিএনপি। তারা লড়াই জমিয়েও তোলেছেন। তারা দলের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে ভোটের মাঠে নামায় নতুন করে বহিষ্কারের বিষয়টি ভাবা হচ্ছে না।

ওসমানীনগর উপজেলায় এবার দ্বিতীয়বারের মতো উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ উপজেলায় এবার নৌকার প্রার্থী সিলেট জেলা যুবলীগের সভাপতি শামীম আহমদ। সবাইকে চমকে দিয়ে তিনি নৌকার প্রার্থী হন। আর বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকায় শুরু থেকেই শামীম আহমদের অবস্থান ভালো। তার ভোট প্রচারণায় এসে যুক্ত হয়েছে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। ফলে এ উপজেলায় অনেকটা ঐক্যবদ্ধভাবেই মাঠে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সবাই। স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছে গোয়ালাবাজার ইউনিয়ন বিএনপির পদত্যাগী সভাপতি কামরুল ইসলাম। বিএনপির ভোট ব্যাংকই কামরুলের মুল ভরসা।

বিএনপির দলীয় নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন- কামরুলের পক্ষে নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে মাঠে নেই। এলাকাভিত্তিক অনেকেই রয়েছেন। স্থানীয় নির্বাচনের কারণে তারা কামরুলের পক্ষ নিয়েছেন। এবার উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার আগেই কামরুল ইসলাম দলের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। ফলে তাকে বহিষ্কারের বিষয়টি ভাবা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সিলেট বিএনপি’র নেতারা।

জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী জানিয়েছেন, যারা নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন তারা দল থেকে পদত্যাগ করে ভোটের মাঠে নেমেছেন। আমরা সার্বিক বিষয় অবগত করে ইতিমধ্যে কেন্দ্রের কাছে বিষয়টি পাঠিয়েছি। কেন্দ্র পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবে।

এদিকে, পারিবারিক ঐতিহ্যগত দিক দিয়ে এগিয়ে রয়েছেন আওয়ামীলীগের প্রার্থী শামীম আহমদ। সামাজিকভাবে তার পক্ষে এলাকার মানুষ ভোট প্রচারণায় নেমেছেন। আর শামীম আহমদও উন্নয়নের কথা তুলে ভোট চাইছেন। রাজনীতিতে তার পারিবারিক ঐতিহ্য অত্যন্ত সমৃদ্ধ। নিজে ছাত্রলীগের রাজনীতি করতে করতে এখন হাল ধরেছেন সিলেট জেলা যুবলীগের। তার নেতৃত্বের প্রশংসা করে থাকেন সাধারণ নেতাকর্মী থেকে শুরু করে, এমনকি নিজ বলয়ের বাইরের নেতারাও।

শেয়ার করুন