২ জুলাই ২০২৩
ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : টানা কয়েকদিনের বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ছাতকে ফের বাড়ছে নদ নদীর পানি। পরিস্থিতি ক্রমশ অবনতির দিকে যাচ্ছে। গত ২৪ ঘন্টায় প্রায় ৮১মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে এবং পানির বিপদ সীমা ১০০ সে মি উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
রোববার সকাল থেকে এ পর্যন্ত বৃষ্টি ক্রমশ তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে এ অবস্থায় পাহাড়ী ঢল আসলে উভয়মুখী পানির চাপে ছাতক দোয়ারা উপজেলার সিংহ ভাগ অঞ্চল পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। ছাতক ও দোয়ারা উপজেলার উত্তরে ভারতের মেঘালয় প্রদেশ অবস্থিত যেখানে পৃথিবীর সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড আছে।
এই প্রদেশের সিংহ ভাগ পানি ছাতক ও দোয়ারা উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়, যা অত্র অঞ্চলের প্রবল বন্যা সৃষ্টি করে এবং সাধারণ মানুষের সহায় সম্পদ বাড়ি ঘর বন্যার পানিতে তলিয়ে যায়। বিগত বছরের বন্যায় মানুষ এমনিতেই আতংকিত এর মাঝে এই বৃষ্টিপাত সাধারণ মানুষকে ভাবিয়ে তুলছে, মানুষ নিরবে নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে রাখছে যাতে বন্যা পরিস্থিতি খারাপ হলে দ্রুত জান মাল নিয়ে আশ্রয় নিতে পারে।
বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চলের ন্যায় ছাতক দোয়ারার নদ নদী খাল বিল পলি মাটির স্রোতে ভরাট হয়ে গেছে যা প্রয়োজন খনন করা, কিন্তু এই বিষয়ে সরকারি পরিকল্পিত পরিকল্পনায় উদাসীনতার জন্য সমস্যা আরো প্রকট আকার ধারন করছে।
ছাতক দোয়ারার উপজেলা কেন্দ্রীক সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে নদ নদী খাল বিল খনন কাজ সম্পাদন করলে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা অনেক টা সহজ হত।
ব্যক্তিগত উদ্যোগে কিছু সেচ্ছাসেবি সংগঠন যেমন ছাতক উপজেলা উলামা কল্যাণ ফাউন্ডেশন এবং ইয়াং স্টার ব্লকের কর্মীরা মানুষ কে সচেতনতা এবং ক্ষয় ক্ষেতি কমানোর জন্য দিকনির্দেশনামুলক পরামর্শ দিচ্ছেন।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, আমাদের আবহাওয়া সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পূর্বাভাস রয়েছে, সুনামগঞ্জে ও ভারতের চেরাপুঞ্জিতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এতে সুনামগঞ্জের সব নদ নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। এভাবে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে আগামী ২৪ ঘণ্টা মধ্যে বন্যা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।