২০ জুন ২০২৩


অঘটনের নায়ক হতে পারেন শাহজাহান মাস্টার

শেয়ার করুন

খলিলুর রহমান : রাত পোহালেই ভোট। এর আগে সোমবার মধ্যরাত থেকেই বন্ধ হয়ে গেছে আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা। তবে অনানুষ্ঠানিক প্রচারণা ও সমীকরণ থেমে থাকেনি। মেয়র পার্থীর ভোট দিতে কেন্দ্রে যেতে ভোটারদের তেমন উৎসাহ-উদ্দীপনা এবং আগ্রহ না থাকলেও কাউন্সিলর পদে ভোট দিতে ভোটারদের কেন্দ্রে টানছেন কাউন্সিলর প্রার্থীরা। প্রতিকুল আবহাওয়ার মধ্যেও কাউন্সিলর প্রার্থীরা ভোটারদের হাজির করবেন ভোটকেন্দ্রে। কাউন্সিলর পদে বিএনপির ৪৩ জন নেতাকর্মী প্রার্থী হয়েছেন। এছাড়া জামায়াতপন্থী অন্তত ২০ জন নেতাকর্মী কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের অনুসারী দলীয় কর্মীরা ভোট দিতে কেন্দ্রে যাবেন। আর কেন্দ্রে হাজির হয়ে গেলে মেয়র পদেও তারা ভোট দেবেন।

সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক) নির্বচনে মেয়র পদ রাজনৈতিক ও দলীয় হওয়ায় এবার এ পদে নির্বাচনে অধিকাংশ ও শক্তিশালী বিরোধী দলগুলোর কোনো প্রার্থী নেই। আছেন সরকার দল আওয়ামী লীগের প্রার্থী এবং ক্ষমতাসীন জোটভুক্ত জাতীয় পার্টি ও জাকের পার্টির প্রার্থী। তারা হলেন- আওয়ামী লীগ মনোনীত ‘নৌকার প্রার্থী’ লন্ডন প্রবাসী আনোয়ারুজ্জান চৌধুরী, জাতীয় পার্টির ‘লাঙ্গল’ মার্কার প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাবুল ও জাকের পার্টির ‘গোলাপফুল’ মার্কার প্রার্থী মো. জহিরুল আলম।

এছাড়াও রয়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) ‘ঘোড়া’ মার্কার প্রার্থী মোহাম্মদ আবদুল হানিফ কুঠু, ‘ক্রিকেট ব্যাট’ মার্কার স্বতন্ত্র প্রার্থী ছালাহ উদ্দিন রিমন, ‘বাসগাড়ি’ মার্কার স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহজাহান মাস্টার ও ‘হরিণ’ মার্কার স্বতন্ত্র প্রার্থী মোশতাক আহমেদ রউফ মোস্তফা।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর ‘হাতপাখা’ মার্কার মেয়র প্রার্থী মাওলানা মাহমুদুল হাসান (এলএলবি) দলের নির্দেশনায় ইতোমেধ্যে নির্বাচন বর্জন করেছেন। আইনত তিনি প্রার্থী থাকলেও ভোটের মাঠে তিনি ভোটপ্রার্থী নন। তাই ভোটের রনাঙ্গণে মেয়র পদে লড়াই হবে ৭জন প্রার্থীর মধ্যেই।

সরকার দল হিসেবে প্রচার প্রচারণায়, হাকডাকে ও গানবাজনায় সবচেয়ে এগিয়ে ছিলেন আওয়ামী লীগের নৌকার মাঝি আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। ডামাঢোল ও বাদ্যযান্ত্রিক প্রচারণায় দ্বিতীয় অবস্থানে ছিলেন লাঙ্গলের প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাবুল। পৃথকভাবে মিডিয়াকেও তারা করে নিয়েছিলেন একহাত।

স্বতন্ত্র অন্যসব মেয়র প্রার্থীদের মঞ্চে-ময়দানে দৃশ্যত তেমন প্রচারণা ও হাকডাক ছিল না, ছিল না নেতাকর্মীদের নিয়ে মিটিং মিছিল ও শোডাউন। তবে তারা নিরলস প্রচারণা চালিয়েছেন একেবারে নিরবে নিভৃতে, নগরের পাড়া মহল্লায় ও বাসা বাড়ি ঘুরে ঘুরে। নির্বচনী লিফলেট পোস্টার হাতে নিয়ে ভোটারদের দুয়ারে দুয়ারে। তুলনামূলক তাদের ব্যয় কম হলেও প্রচার ক্ষেত্রে ভোটের আবেদন নিবেদনে তাদের পাল্লা ছিল ভারী।

অত্যন্ত নিরব প্রচারকদের মধ্যে একজন ‘বাস গাড়ি’ মার্কার মেয়র পদপ্রার্থী শাহজাহান মিয়া মাস্টার। লিফলেট পোস্টার হাতে বাইসাইকেল চড়ে বাড়ি বাড়ি ও বাসায় বাসায় ঘুরতেও প্রচারণা চালাতে দেখা গেছে তাকে। কর্মী যোগাড় করে ভাড়া দিয়ে খাইয়ে মিছিল-মিটিং ও শোডাউন করে প্রচার চালানোর মত আর্থিক স্বচ্চলতা মোটেও ছিলনা তার।

এবার ভোটের সমীকরণ করতে গিয়ে দেখা যায়, নগরের ভোটারদের মধ্যে শতকরা ৫ ভাগ ভোটার আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ছাত্রলীগসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের দলীয় ভোট। এসব ভোটার সরকার দল আওয়ামী লীগের নেতা ও কর্মী। শতকরা ১ ভাগ দলীয় ভোট জাতীয় পার্টির। গোলাপফুল মার্কা জাকের পার্টির তেমন কোনো নেতাকর্মীই সিলেট নগরে নেই। শতকরা এই ৬ ভাগ দলীয় ভোটার বাদে বাকি ৯৪ ভাগ ভোটারের দলীয় কোনো মেয়রপ্রার্থী নেই। তাই অনেক ক্ষেত্রে দলহীন বা দলীয় প্রার্থীহীন ভোটারদের টানতে জোর প্রচেষ্টা চালিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ঘোড়া মার্কার প্রার্থীর পক্ষেও রয়েছেন আওয়ামীলীগের সেই দলীয় ৫ভাগ ভোটারদের একাংশ। সব মিলিয়ে নৌকা ও লাঙ্গল মার্কায় রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীর ভোট পড়বে শতকরা ৫ থেকে ৬ ভাগ। আর বাকি সব ভোটার হবেন এই তিন দলের পদ ও পোস্টহীন ভোটার।

সিলেট সিটিতে বিএনপি-জামায়ত, জমিয়ত খেলাফত সহ নির্বচনে অংশ না নেওয়া অনেক রাজনৈতিক দলেরও রয়েছে নিজস্ব ও দলীয় ভোটব্যাংক। এসব দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে ভোট না দিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বাক্সে ভোট দেবেন এবং এটা একেবারে নিশ্চিত করেই বলা যায়।

এবার দেখা যাক, স্বতন্ত্র পার্থীদের মধ্যেকে এগিয়ে এবং কে কে পিছিয়ে রয়েছেন। ক্রিকেট ব্যাট মার্কার মেয়র প্রার্থী ছালাহ উদ্দিন রিমন যুবদল করায় এবং মেয়র প্রার্থী হওয়ায় বিএনপি তাকে দল থেকে আজীবন বহিষ্কার করেছে। আর বাসগাড়ি মার্কার শাহজাহান মাস্টার তো শুধুমাত্র একজন মাস্টারই। শিক্ষাগত যোগ্যতায় সকল মেয়র প্রার্থী থেকে তিনি এগিয়ে থাকলেও আর্থিকভাবে তিনি এতই দুর্বল যে, তার মনোনয়নের টাকাগুলো সিটি এলাকার নাগরিকদের অনুদানের দেওয়া। তার প্রচার-প্রচারনার লিফলেটও ছাপিয়ে দিয়েছেন সিটির দানশীল কিছু সংখ্যক নাগরিক ও ভোটার। জনগন ও ভোটারদের অনুদানের টাকায়ই তিনি নির্বাচনী মনোনয়ন নিয়েছেন, পায়ে হেটে ও বাইসাইকেল চালিয়ে প্রচার কার্য চালিয়েছেন ।

এই দিক বিবেচনায় বাসগাড়ি মার্কার শাহজাহান মাস্টার স্বতন্ত্রদের মধ্যে নগরের ভোটারদের মনিকোটায় স্থান করে নিয়েছেন। তা ছাড়া বাড়ি বাড়ি ও ঘরে ঘরে গিয়ে প্রচার করতে গিয়ে অনেক নারী ভোটারের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছেন বাসগাড়ি মার্কার প্রার্থী শাহজাহান। সরে জমিন বিভিন্ন পাড়া-মহলায় গিয়ে ভোটারদের সাথে আলাপ করে শাহজাহান মাস্টারের বাসগাড়ি মার্কার প্রতি নারী এবং অসহায় গরীবদুখী ভোটারদের প্রচন্ড দুর্বলতা পরিলক্ষিত হয়েছে।

তাই সিকি মেয়র নির্বাচনে ইভিএমকে ফাকি দিয়ে যদি কোনো অঘটন ঘটে যায়, তবে সে অঘটনের নায়ক হতে পারে ওয়েটার থেকে সেলসম্যান ‘বাসগাড়ি’ মার্কার মেয়র প্রার্থী শাহজাহান মাস্টার।

শেয়ার করুন