১৮ জুন ২০২৩
জনি কান্ত শর্মা : আগামী ২১ জুন অনুষ্ঠিতব্য সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক) নির্বাচনের আর মাত্র কিছু সময়ের অপেক্ষা। যত সময় ঘনিয়ে আসছে ততই সরগরম হচ্ছে নির্বাচনী মাঠ। পাড়া, মহল্লা থেকে শুরু করে চায়ের দোকান সব জায়গায় এখন নির্বাচনী ঝড়। নির্বাচনকে ঘিরে চলছে নানা আলাপ-আলোচনা। এ আলোচনার তুঙ্গে রয়েছে তরুণ ভোটাররা। ওয়ার্ডের অলিগলি থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সব জায়গায় তাদের সরব অবস্থান। সিসিক নির্বাচনে তরুণ ভোটার’রা এবার গুরুত্বপূর্ন একটি ভূমিকা রাখবেন।
এবার সিসিক নির্বাচনে ৮জন মেয়র প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করেছেন। এছাড়াও ৪২টি ওয়ার্ডে ৩৬০ কাউন্সিলর প্রার্থী রয়েছেন। এরমধ্যে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২৭৩জন ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৮৭জন প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। এসব প্রার্থীদের মধ্য থেকে সৎ, যোগ্য ও উন্নয়নে বিশ্বাসী এমন প্রার্থীকে ভোটের মাধ্যমে নির্বাচনে বিজয়ী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করছেন তারা। নির্বাচনী মতামত জানতে আজকের সিলেট ডটকম এর প্রতিনিধি সিসিকে’র ৪২টি ওর্য়াডের তরুণদের সাথে কথা বলেন। এরমধ্যে কিছু তরুণের মতামত তুলে ধরা হলো:
তরুণ ভোটার পারভেজ বলেন, দুটি পাতা একটি কুরির শহর সিলেট। সিলেটে দিনদিন বনায়ন হারিয়ে যাচ্ছে। সিসিক এলাকায় প্রতিনিয়ত গাছ কেটে তৈরি বহুতল ভবন। আমরা একটা গাছ কাঠলে যে জায়গায় কম পক্ষে দুটি গাছ লাগাব। তা-না করে দুটি গাছ কাঠলেও একটাও লাগাই না। গাছ আমাদের পরিবেশের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ন তা আমরা ভুলে যাই। আমি চাই মহানগরীর’ ৪২টি ওর্য়াডে এমন প্রর্থী নির্বাচিত হবেন তিনি পরিবেশ ও ওর্য়াডের সব মানুষ’কে সমান চোখে দেখবেন।
তরুণ সংবাদকর্মী শিপন চন্দ জয় বলেন, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু ও হযরত শাহজালাল (র) পূর্ণভুমি সিলেট। আমি চাই এমন একজন নগর পিতা যিনি সৎ ও যোগ্য হবেন। আমরা যে ভাবে মন্দির বা মসজিদে যেতে কারো অনুমতির প্রয়োজন হয় না। তেমনি মেয়র বা ওয়ার্ড কাউন্সিলরের সাথে সাক্ষাতের সময় যেনো কারো অনুমতির প্রয়োজন না হয়। মেয়র বা কাউন্সিলর উনারা জন প্রতিনিধি। পরিকল্পিত নগরায়নের করে নগরবাসী এই জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি দিবেন এমন প্রার্থী চাই। তরুণ প্রজন্মের কথা মাথায় রেখে গড়ে তুলতে হবে আগামীদিনের সিলেট সিটি। তরুণদের মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়াও তরুণ প্রজন্মকে নেশার কালো থাবা থেকে বাঁচাতে চিত্তবিনোদনের ব্যবস্থা, খেলাধুলার জন্য মাঠের ব্যবস্থা সহ নানাবিধ পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশন এলাকার জনসাধারণের জন্য পার্ক থাকলেও আমাদের শহরে তেমন কোনো সুবিধা নেই। সিলেটের অপার সম্ভাবনাময় পর্যটন শিল্পের কথা মাথায় রেখে আর্থসামাজিক পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
মদনমোহন কলেজের শিক্ষার্থী সুমিত বলেন, দেশের সর্ব প্রথম ডিজিটাল নগরী সিলেট। সিলেটে প্রথম ফ্রি ওয়াইফাই সুবিধা দেওয়া হলেও তা কতটা কার্যকর হয়েছে তা কি কেউ কখনো খেয়াল রেখেছেন? ওয়াইফাই সংযোগ দিয়ে আর কোনো খবর নেই। আমরা চাই যেমন নাম তেমন কাজ। দোষ ছাড়ানো কাজ আমরা চাই না। অনেক সময় ডিজিটাল বাংলাদেশ ওয়াইফাই সিগনাল পাওয়া যায় না। আমরা চাই এই সুবিধা যেনো সবাই পায়। 4G গতিথে চালাতে চাই।
সিয়াম উদ্দীন বলেন, প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতির আলোকে বিজয়ী হওয়ার পর সে অনুসারে কাজ করতে হবে। নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, আকস্মিক বন্যার কবল থেকে রক্ষায় নগর রক্ষা বাঁধ, পরিচ্ছন্ন ফুটপাত, হকার উচ্ছেদ, পথশিশুদের পুনর্বাসনে কার্যকরি উদ্যোগ নিয়ে পরিকল্পিত নগর গঠন করে ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণী নির্বিশেষে নাগরিক ভোগান্তি পরিহার করে তাদের মৌলিক অধিকার পূরণ করতে পারবেন এমন ব্যক্তিকেই বেছে নেবে নতুন প্রজন্ম।