১৬ জুন ২০২৩
অমৃত জ্যোতি, মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) থেকে : হস্তশিল্পের অপার দৃষ্টান্ত হিসেবে আজো টাঙ্গানো রয়েছে কাঠের তৈরী ঈগল পাঁখি।পাখিটির দুপায়ে জরানো রয়েছে একটি বিষধর সাপ। পেখম তুলে বসে আছে ঈগল আর ফণাধরা বিষধর সর্পের চিত্রটি বাস্তবকেও হাড় মানায়। শিল্পীর নিপুন হাতের কারিগরি চিত্রটি যেন প্রকৃতিক প্রানী মতোই ঘরের পার্শ্বে স্থান দখল করে আছে।
বাংলাদেশ যখন ছিল পাকিস্তান তখনকার জেলা সিলেট, ঠিক ঐসময় মধ্যনগরে কাঠের তৈরী বেশ কয়েকটি ঈগল পাঁখি আভিজাত্য পরিবারের মুল ঘরে ফটকে স্থান দখল করে সৌন্দর্য্যময় কাঠের তৈরী ঈগল পাখি। জানা গেছে শিল্পীর ঠিকানা। শিল্পীর নাম কামিনী কুমার সূত্রধর। তিনি জলসূখা পর্গনার আজমিরীগঞ্জ পোষ্টের অন্তর্গত সাকিন বিরাট গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তার নিজ হাতে গড়া এই কারুকাজ। জানা গেছে ছিলেন একজন পেশাজীবি হস্ত শিল্পী। ঈগল ও সর্পের কাঠের অঙ্কিত ছবিতে শিল্পী বুজিয়েছেন শিকারী ঈগল পাখিটি একটি বিষধর সর্পকে শিকার করে এবং ঐ সর্পটি তার প্রাণে বাচার জন্য ফণা তুলে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। ঈগল পাখিটি মধ্যনগর উপজেলা সদরের প্রাচীন ব্যাবসায়ী প্রয়াত হেমচন্দ্র রায়ের গদী ঘর ও সদরের সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত শাহাবুদ্দিন ফারুকী’র ব্যাবসায়ী প্রতিষ্টানে আজো অক্ষত ভাবে সাজানো রয়েছে। তৎসঙ্গে অঙ্কিত রয়েছে শিল্পীর ঠিকানা।
মধ্যনগর সংলগ্ন বেখইজুড়া গ্রামের ফটো তালুকদারের বাড়ীতে তার শিল্পায়নে একাধিক পরী, সাপ সহ প্রাকৃতিক বিভিন্ন প্রাণীচিত্রে বিলাস বহুল পালঙ্ক তৈরী করেছিলেন ঐ ঈগল পাখির কারিগর। যে পালঙ্কটি বর্তমানে জাতীয় জাদুঘরে কীর্তি হিসেবে সংরক্ষিত রয়েছে। তাঁর তৈরী ঈগল পাঁখির দুটি ডানা দেখলে মনে হয় এযেন বাস্তব ঈগল পাখি মেলেছে ডানা। নীচে ফণা ধরেছে কার ভুজঙ্গী।এবিষয়ে প্রয়াত হেমচন্দ্র রায়ের জৈষ্ঠ্যপুত্র নৃপেন্দ্র রায় জানান আমার জানামতে এই পাখির বয়স প্রায় ৮০বছর হয়েছে। বাল্যকাল থেকেই আমি দেখে আসছি। পুরানো ঐতিহ্য হিসেবে রয়েগেছে। বাবার হাতের পাখিটি মাঝে মাঝে বার্নিস করিয়ে রাখি।শ্রদ্ধা রাখি ঐ নিপুন হাতের ঈগল শিল্পীর প্রতি।