৮ মার্চ ২০১৮


২৪ টি বেইলি সেতু’র ১৭ টি-ই ঝুঁকিপূর্ণ

শেয়ার করুন

ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জ জেলার ২৪ টি বেইলি সেতু’র ১৭ টি-ই ঝুঁকিপূর্ণ। যে কোন সময় যে কোন সেতু ভেঙে বড় ধরনের বিপদ হতে পারে। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকতে পারে। রোববার (২৫ফেব্রুয়ারি) ছাতকের লক্ষীবাউর বেইলি সেতু ভেঙে ২ জন নিহতের ঘটনা ঘটেছে। ঐ সড়কে যান চলাচলও বন্ধ রয়েছে। এর আগে দিরাই-শাল্লা সড়কের দরগাহ্পুর বেইলি সেতু ভেঙে প্রায় এক সপ্তাহ্ দিরাই-শাল্লার সঙ্গে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ ছিলো। ২০১৬ সালে বোগলাখাড়া বেইলি সেতু ভেঙে কয়েকদিন সড়ক যোগাযোগ বন্ধ ছিল। একের পর এক বেইলি সেতু ভেঙে প্রাণহাণি এবং যান চলাচল বন্ধ থাকলেও এগুলো সংস্কার বা স্থায়ীভাবে সেতু নির্মাণে বিলম্ব হচ্ছে। সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলীর দাবী ২৪ টি বেইলি সেতুর ১২ টি ঝুঁকিপূর্ণ, এগুলো স্থায়ীভাবে নির্মাণের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সুনামগঞ্জ-জগন্নাথপুর সড়কে সেতু আছে ১৬টি। এর মধ্যে বেইলি সেতু নয়টি। বেইলি সেতুর সবগুলোই ঝুঁকিপূর্ণ। ঝুঁকিপূর্ণ এসব সেতু দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন। এতে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের পাগলা এলাকা থেকে জগন্নাথপুর পৌর শহর পর্যন্ত সড়কের দূরত্ব ২১ কিলোমিটার। এই ২১ কিলোমিটারে সেতু আছে ১৬ টি। এর মধ্যে পাকা সেতু সাতটি এবং বেইলি সেতু নয়টি। নয়টি বেইলি সেতুর সবকটিই ঝুঁকিপূর্ণ। সাতটি আবার মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।

পাগলা থেকে জগন্নাথপুর যেতে আক্তাপাড়া, দরগাপাশা, বমবমি বাজার, ভাতগাঁও, কুন্দানালা, গয়াসপুর, কলকলিয়া, খাসিলা, মজিদপুর এলাকায় নয়টি ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি সেতু রয়েছে। এসব সেতুর পাশে ‘ঝুঁকিপূর্ণ সেতু’ সাইনবোর্ড টানিয়ে রেখেছে সওজ কর্তৃপক্ষ।

কুন্দানালা এলাকার সেতুটি একদিকে হেলে আছে। সেতুর মাঝখানে কয়েকটি স্টিলের পাটাতন ভেঙে যাওয়ায় সেগুলো জোড়াতালি দেওয়া হয়েছে। যানবাহনের ভারে এসব পাটাতন যাতে ভেঙে না পড়ে সে জন্য নিচে বাঁশ দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। একই অবস্থা গয়াসপুর গ্রামের পাশের বেইলি সেতুর। এই সেতুরও কয়েকটি স্থানে স্টিলের পাটাতন উচুঁ-নিচু হয়ে যাওয়ায় সেগুলোর ওপরে আবার স্টিলের পাটাতন দিয়ে জোড়াতালি দেওয়া হয়েছে। এই সেতুর এক পাশের সংযোগ সড়কের মাটি সরে গেছে। এতে সেতুতে যানবাহন উঠতেই ঝুঁকিতে পড়তে হচ্ছে। মজিদপুর এলাকার সেতুর মাঝখানে দুই জায়গায় জোড়াতালি দেওয়া আছে।

সুনাগঞ্জের ছাতক-দোয়ারাবাজার সড়কের লক্ষীরবাউর গ্রামের পাশে বেইলি সেতু ভেঙে মাল বোঝাই ট্রাক খালে পড়ে ২ জন নিহত এবং আহত হয়েছে ১ জন। এই সড়কে আরও দুটি বেইলি সেতু ঝুঁকিপূর্ণ। সেগুলো হচ্ছে সাহেব খালী’র বেইলি সেতু ও নৈনগাঁও নোয়াজ’এর খালের উপরের বেইলি সেতু।

গত বছরের ১২ অক্টোবর দিরাই-শাল্লা সড়কের দরগাহপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের কার্পেটিংয়ের কাজের মালামাল নিয়ে যাওয়ার সময় বেইলি সেতু ভেঙে যায়। এরপর থেকে এই দুই উপজেলাসহ দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার একাংশের সঙ্গে প্রায় এক সপ্তাহ্ জেলা শহরসহ সারাদেশের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ ছিল।

২০১৬ সালের ১৬ এপ্রিল দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার জয়কলস ইউনিয়নের সুনামগঞ্জ-দিরাই সড়কের দেবগ্রাম-বোগলাখাড়ার বেইলি সেতু ভেঙে সুনামগঞ্জ-দিরাই সড়কে ১০ দিন সরাসরি যোগাযোগ বন্ধ ছিল।

এই সড়কের দিরাই-মদনপুর সড়কের মরা সুরমার উপরে থাকা মদনপুর বেইলি সেতু আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। দীর্ঘ এই সেতু যে কোন সময় ভেঙে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে। সুনামগঞ্জ- সাচনা বাজার সড়কের খোকরাপসি ও সালমারা বেইলি সেতুও ঝুঁকিপূর্ণ।

দোয়ারাবাজার সদর ইউনিয়নের প্রাক্তন চেয়ারম্যান আব্দুল খালিক বলেন, ‘ছাতক – দোয়ারাবাজারের ঝুঁকিপূর্ণ ৩ সেতু স্থায়ীভাবে নির্মিত না হলে বড় বিপদ হতে পারে। এই তিন সেতুর একটি ভেঙে পড়েছে, অন্যগুলোও বিপজ্জনক অবস্থায় আছে।’

জামালগঞ্জের বিপ্লব দেব বলেন, ‘সাচনা – জামালগঞ্জ সড়কের খোকরাপসি ও সালমারা বেইলি সেতু দিয়ে মোটর সাইকেল চললেই কম্পন শুরু হয়। এই সেতুগুলো যেকোন সময় ভেঙে পড়বে।’

এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সুনামগঞ্জের ২৪ টি বেইলি সেতুর মধ্যে ১২ টি ঝুঁকিপূর্ণ, এগুলো পুনস্থাপন বা স্থায়ীভাবে নির্মাণ জরুরি। পাগলা-জগন্নাথপুর সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ ৭ সেতু স্থায়ীভাবে নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্প একনেকে অনুমোদিত হয়েছে। বাকী ৫ টির মধ্যে ছাতক – দোয়ারা সড়কের ৩ সেতু প্রকল্প উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। মদনপুর- দিরাই সড়কের মরা সুরমার উপরে থাকা বেইলি সেতু ভেঙে স্থায়ী সেতু নির্মাণের জন্য সমীক্ষা কাজ চলছে।

(আজকের সিলেট/৮ মার্চ/ডি/এমকে/ঘ.)

শেয়ার করুন